খুঁজুন
, ,

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর কি ব্যর্থ?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 18 September, 2022, 1:50 pm
চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর কি ব্যর্থ?

২০১৫ সালের এপ্রিলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নামে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পে স্বাক্ষর করেন।

প্রেসিডেন্ট জিনপিং একে ‘দ্য প্রজেক্ট অব দ্য সেঞ্চুরি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি নওয়াজ শরীফকে বলেন এ প্রকল্প শিল্প, অবকাঠামো, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জ্বালানি উৎপাদন খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে পাকিস্তানকে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব যুগে নিয়ে যাবে।
পাশাপাশি, পাকিস্তান তার গোয়াদর এবং করাচীর গভীর সমুদ্র বন্দরের বিকাশ সাধন করে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের সাথে এবং প্রদেশের বাইরে তার ওভারল্যান্ড রুটের সাথে সংযুক্ত করে লাভবানও হয়।

চীনের জন্য সিপিইসি শি জিনপিংয়ের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা চীনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতির মেরুদণ্ড গঠন করে। কারণ চীন সিপিইসির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরেশিয়ার বিশাল বাজারের দিকে নজর রাখতে পারে।
মূলত ৪৬ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প এখন ৭০ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে এবং এই একটি প্রকল্প দুই দেশের মধ্যে বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ইতিমধ্যেই ধূলিস্যাৎ হয়েছে, সিপিইসি কোনো কাজেই আসছে না বরং এটি ঋণের পাহাড়ে পরিণত হয়েছে এবং উভয় দেশের জন্যই একটি অস্থিতিশীল প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে বেলুচিস্তান এবং গিলগিট-বালতিস্তানে এই প্রকল্পটি আর্থিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নাগরিক অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে বলে চীন পাকিস্তানের কঠোর সমালোচনা করেছে। তদুপরি, এই প্রকল্পে কাজ করা চীনা নাগরিকদের রক্ষা করতে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনায় চীন ক্রমাগতই হতাশার দিকে যাচ্ছে, কারণ তাদের উপর হামলা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে চীনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৪ শতাংশে নেমে আসায় বিআরআইর অধীনে নতুন বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা এই বছরের ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এটি চীনকে বিআরআই প্রকল্প এবং তার অর্থায়ন পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে তারা চীনা ঋণদাতাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান তার ঋণ পরিশোধের পুনর্গঠনের দিকে ভরসা করে বসে আছে এবং চীনা ঋণদাতাদের সাথে উচ্চ-সুদের হার নিয়ে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, এবং এই কারণে ঋণ খেলাপিরাও শেষ পর্যন্ত চীনের আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এটি উভয় দেশের জন্যই শুভ নয়, কারণ সিপিইসির অর্থনৈতিক টেকসই মডেল অস্থিতিশীল হওয়ার জন্য চীন ৫৬ শতাংশ টাকা কমাতে বাধ্য হয়েছে। সিপিইসি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়োজিত চীনা শ্রমিকদের অর্থ প্রদানের জন্য পাকিস্তানের তহবিলের অভাব রয়েছে। এমনকি সিপিইসির নেতৃত্বাধীন বিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়লা কেনার জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তহবিলও নেই।

চীনা বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে এর বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন পিকেআর, যার ফলে চীনা কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, সিপিইসি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ৩৭ শতাংশ ধারণ ক্ষমতা, যা প্রায় ১৯৮০ মেগাওয়াট, ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে পাকিস্তান শক্তি সঙ্কটের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানে চীনের সহায়তা, বিশ্বব্যাংক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহযোগিতার মাত্রা আইএমএফ এর সহায়তার চেয়েও তিনগুণ বেশি। আইএমএফ এর রিপোর্ট অনুযায়ী পাকিস্তানের চীনের কাছে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ রয়েছে যা তার মোট বহির্গামী ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ।
তাছাড়া, পাকিস্তান সিপিইসি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীন থেকে সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য হয়েছিল। যার ফলে তার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যায়। ৪ শতাংশ থেকে ৬.৫ শতাংশের মধ্যে উচ্চ সুদের হারসহ বিলিয়ন ডলারের স্বল্পমেয়াদী ঋণ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক দুর্দশাকে আরো জটিল করে তোলে।
যদিও পাকিস্তান সম্প্রতি ১.২ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি আইএমএফ বেলআউট নিয়েছে, যার লক্ষ্য তার ডুবন্ত অর্থনীতিকে কিছুটা সচল রাখা। কিন্তু এটি মূলত চীনের ঋণ ফাঁদ কূটনীতি, এবং পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত অতলে ডুবে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বন্যা এ অর্থনীতিকে আরো ধ্বংস করেছে এবং বন্যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলার। বন্যার কারণে চলমান সিপিইসি প্রকল্পের বেশিরভাগ অবকাঠামোর ক্ষতি এর পুনর্নির্মাণের ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হল, বেলুচিস্তান প্রদেশের অধীনস্থ গোয়াদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। কিন্তু এটি প্রকল্পের একটিও সুফল আজ পর্যন্ত দেখেনি। এমনকি এটি পানীয় জল এবং বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধাগুলো ছাড়াই রয়েছে।

স্থানীয়দের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভেস্তে গেছে। কারণ চীনা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি চীনা পরিবারের থাকার জন্য বিশাল টাউনশিপ তৈরি করেছে। স্থানীয় বেলুচ জনগণ এজন্য যথেষ্ট বিরক্ত। তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের জমি অবৈধভাবে চীনাদের কাছে হস্তান্তর করার এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন শুরু করার অভিযোগ তুলেছে।

এটি উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে বেলুচরা নিজেদের আদিবাসী বলে দাবি করে এবং বেলুচিস্তানের অবৈধ দখলের জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের উপর আক্রমণ করায় এটি চীনাদের জন্য আরও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রিপোর্ট মোতাবেক চীন গোয়াদরকে পিএলএ-র নৌবাহিনীর জন্য একটি অগ্রবর্তী নৌ ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলছে যাতে ভারত মহাসাগরে তার কার্যক্রম আরও জোরদার করা যায়। কারণ গোয়াদরে এখনো কোনো বাণিজ্যিক বন্দরের কার্যক্রম হয়নি।

কিন্তু গিলগিট-বালতিস্তানের মানুষ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সিপিইসি প্রকল্পের আড়ালে বড় আকারের জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে। তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগামী পাঁচ দশকের মধ্যে এই অঞ্চলটি চীনাদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করেছে এবং এইভাবেই তাদের সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে।

সিপিইসি পাকিস্তানি দরিদ্রদের জন্য লক্ষ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল, কিন্তু আট বছর পরে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের দরিদ্ররা এখনও বেকার, অপরদিকে হাজার হাজার চীনারা সিপিইসি প্রকল্পগুলিতে চাকরি খুঁজে পেয়েছে। এটি পাকিস্তানি জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তারা চীনাদের বিরুদ্ধে তাদের চাকরি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে।

যেহেতু অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলি চীনের অশুভ বিআরআই প্রকল্প পরিকল্পনার ঋণের ফাঁদে কূটনীতিতে পড়েছে, এর মাঝেপাকিস্তানই চরম অস্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই অঞ্চলে তার ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে, চীনাদের সাথে যেকোনো অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বকেই মূল্য দিতে হবে।

যদিও সিপিইসির জন্য বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা চীন এবং পাকিস্তান উভয় পক্ষ থেকেই করা হয়েছে। তবে এতে সাড়া পাওয়া যায়নি। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, কিরগিজস্তান এবং রাশিয়া সকলেই আপাতত সিপিইসি-তে যেকোন বিনিয়োগ করার বিষয়ে স্পষ্ট না জানিয়ে দিয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

পাকিস্তান ও চীন উভয়ের জন্য আসন্ন এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের প্রাধান্য হবে সিপিইসি বিনিয়োগের জন্য কিছু অংশীদারকে আকৃষ্ট করা, কিন্তু ঋণ-ফাঁদে আটকে থাকা চীনা নীতির কারণে এটি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

চীন ও পাকিস্তান উভয়কেই সিপিইসি থেকে তাদের প্রত্যাশা কমাতে হবে। চীনের অতি উচ্চাভিলাষী বিআরআই প্রকল্পের অসারতা উপলব্ধি করাটা অপরিহার্য, যা সার্বভৌমত্বের সাথে আপস করার অভিপ্রায়ে দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আকর্ষণীয় অর্থনৈতিক ঋণ প্রদানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

এই ধরনের উচ্চাভিলাষী মডেলগুলো ব্যর্থ হতে বাধ্য কারণ এগুলো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। সিপিইসি প্রতিশ্রুত সুবিধা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তান উভয়েরই দ্বারপ্রান্তে।

এন-কে

Feb2
Feb2

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 2:59 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।

ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা, জিম্মি সহকর্মীরাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 1:37 pm
ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা, জিম্মি সহকর্মীরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও সহকর্মীদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

উত্তর বন বিভাগের লাইন নিয়ন্ত্রক ও ফৌজদারহাট বন বিটের ক্যাশিয়ার হিসেবে সর্বত্র তার পরিচিতি রয়েছে। চট্টগ্রামে তার বাড়ি হওয়ায় ভিন্ন জেলার সহকর্মী ও উর্ধ্বতনদের পাত্তাই দেয় না গিয়াস উদ্দিন।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ফৌজদারহাট বিট অফিসে। তার পদবী (এফ,জি) ফরেস্ট গার্ড হলেও চলনে,বলনে তিনি যেন মস্ত বড় অফিসার। উত্তর বন বিভাগের লাইন নিয়ন্ত্রক হিসেবে আয়ও করেন ভালো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বন বিভাগে কর্মরত অনেকেই বলেন, তার দৈনিক আয় ৪০/৫০ হাজার টাকার অধিক।

বিভিন্ন গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে নিশ্চিত করেন তার সহকর্মীরাই।

সুত্র জানায়, কিছু অসাধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গিয়াস উদ্দিনের চাঁদার ভাগ পায়। দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করলেও সেই টাকার ৫০/৬০ ভাগ চলে যায় উর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করতে।

অপর এক সুত্র জানায়, গত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটানা ৯ বছর চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত থাকেন। ৫ আগস্টের পরেও রহস্য জনক কারণে গিয়াস উদ্দিন রয়েছেন একই রেঞ্জে বহাল তবিয়তে। একটানা ১০/১১ বছর একই রেঞ্জে কর্মরত থাকার নজির বন বিভাগে না থাকলেও গিয়াস উদ্দিন এই নজির স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন অনেকে।

‎দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হওয়ার বিধান থাকলেও গিয়াস উদ্দিনের টাকার কাছে তা অকার্যকর।

‎চট্টগ্রামের বলিরহাট, বহদ্দারহাট, ফিরিঙ্গী বাজার, বাদুরতলা,শোলক বহর সহ বিভিন্ন এলাকার ১০/১২ জন গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গাছের বা ফার্নিচারের প্রতি গাড়ি হতে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন ফরেস্টর গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া মাসোহারাও দিতে হয় প্রতি মাসে।

গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠের শুরে বলেন, ‎বন বিভাগের যন্ত্রনায় ব্যবসা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এছাড়া বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি সহ অন্যান্য এলাকা থেকেও যে সব গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি আসে তাদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করেন গিয়াস উদ্দিন।

দৈনিক ২০টির অধিক গাড়ি থেকে ফৌজদারহাট বিটে চাঁদাবাজি হয় বলে নিশ্চিত করেন অনেকে।

এদিকে নগরীর বৃহত্তর ফার্নিচার হাট খ্যাত বলিররহাট ও ফিরিঙ্গীবাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বন বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য গিয়াস উদ্দিনের। তার চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে ব্যবসা করা কঠিন। চট্টগ্রামের যে কোন গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা একই কথা বলবে এমন দাবি করে বলেন, বান্দরবান, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটি খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ীরাও গিয়াস উদ্দিনের হাতে জিম্মি।

‎এই বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন তিনি সব দায় এস ও আশরাফ এর বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন।এর পর তাকে বারবার ফোন করলে ও তিন আর ফোন রিসিভ করেন নি,পরে থাকে তার ওয়াটসআপ নাম্বারে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে ও তার পুরোপুরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এইবিষয়ে ফৌজদারহাট বিটের স্টেশন অফিসার আশরাফ এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন মাত্র দেড় মাস আগে আমি এই স্টেশনে যোগদান করেছি, গিয়াস উদ্দিন এর ব্যাপারে অভিযোগ পাইলে উর্ধতন কর্মকর্তাগন অফিসিয়ালি ব্যাবস্হা নিবেন।

‎দ্বিতীয় পর্ব আসছে…

কর্ণফুলীতে ডুবল লাইটার জাহাজ, ১২ নাবিক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 12:03 pm
কর্ণফুলীতে ডুবল লাইটার জাহাজ, ১২ নাবিক উদ্ধার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নেভাল একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় পাথরবোঝাই একটি লাইটার জাহাজ আংশিক ডুবে গেছে। তবে এ ঘটনায় জাহাজে থাকা ১২ নাবিকের সবাইকে জীবত অবস্থায় উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেভাল একাডেমির বিপরীতে ট্রেনিং ওয়ালের পাশে ‘এমভি বে হারবার-২’ নামের লাইটার জাহাজটি এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

কোস্টগার্ডের জনসংযোগ শাখা থেকে জানা গেছে, জাহাজডুবির খবর পাওয়া মাত্রই কোস্টগার্ডের একটি দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আটজন এবং পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে আরও চারজনসহ মোট ১২ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।