খুঁজুন
, ,

বিদেশি কার্যাদেশ হ্রাস : ভরা মৌসুমে চোখে ধোঁয়াশা দেখছেন পোশাক মালিকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 18 September, 2022, 6:57 pm
বিদেশি কার্যাদেশ হ্রাস : ভরা মৌসুমে চোখে ধোঁয়াশা দেখছেন পোশাক মালিকরা

পোশাক শিল্পে বিদেশী বায়ারদের দাম কমানোর চাপ, দেশে বিদ্যুৎ সংকট, একদিন করে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা ও সাব-কন্ট্রাক্ট কমে আসায় চরম বিপাকে সময় পার করছেন চট্টগ্রামসহ দেশের পোশাক শিল্প মালিকরা। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউরোপ-আমেরিকার বাজাওে পোশাকের চাহিদা কমায় আগের চেয়ে কমেছে বিদেশি কার্যাদেশ। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এ তিন মাস কার্যাদেশ নেয়ার মূল সময় পোশাক ব্যবসায়ীদের। আর্ন্তজাতিক বাজারে কার্যাদেশ কমে যাওয়াসহ দেশীয় নানা সংকটে ভরা মৌসুমে এসে চোখে ধোঁয়াশা দেখছেন কারখানা মালিকরা। চাপ সইতে না পেরে চলতি বছরেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে তিন কারখানার মালিক। বেতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে দুই কারখানার শ্রমিকরা।

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া প্রভাব পড়েছে পোশাক খাতে। কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় ওভেন ও নীট খাতে ২০ শতাংশের বেশি কার্যাদেশ কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যে পরিমাণে পণ্য রপ্তানি হয় তার অর্ধেকই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম থেকেই পোশাক খাতের যাত্রা শুরু।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে বেশ প্রসারিত হয় চট্টগ্রামের পোশাক খাত। তবে করোনার এই দেড় বছর বিগত ৪১ বছরের গতিতে ভাটা ফেলেছে। পোশাক খাতে নেমে এসেছে বিপর্যয়। সে সময় চট্টগ্রাম থেকেই বাতিল হয়েছে ৮ হাজার ৪শ কোটি টাকার রপ্তানি কার্যাদেশ।

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর এই তিন মাস আমাদের প্রচুর পরিমাণে অর্ডার আসার কথা। সেখানে আমাদের কার্যাদেশ অর্ধেকে অর্থাৎ ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে চাহিদা কমায় পোশাকের কার্যাদেশে ভাটা পড়েছে।

তার উপর ডিপোগুলো চার্জ বাড়িয়েছে, বায়াররা পণ্যের দাম কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সবমিলিয়ে পোশাক কারখানা এখন সংকটময় সময় পার করছে। এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনসহ নিয়মিত ব্যয় মিটিয়ে টিকে থাকা আমাদের জন্য বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে সারাদেশে বিজিএমইএর সদস্যভূক্ত ৪ হাজার ৭শ কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৭৩৪টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১ হাজার ৯৬৬টির মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত আছে মাত্র ১ হাজার ৬শ প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে বিজিএমইএ’র নিবন্ধিত ৬৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ রয়েছে ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান। বাকি ৩০৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ১৯০টি প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪৯০ কোটি ৭৮ লাখ ডলার পোশাক পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। অপরদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪৮৫ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার ডলার, ফেব্রæয়ারিতে ৪২৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, মার্চ মাসে ৪৭৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার,

এপ্রিল মাসে ৪৭৪ কোটি ডলার ও জুন মাসে ৪৯১ কোটি ডলার ও জুলাই মাসে ৩৯৫ কোটি ডলার পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ও বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট হওয়ার পর থেকেই কমতে শুরু করেছে রপ্তানি। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার রপ্তানি কমেছে।

বিগত দুই অর্থবছরে করোনাসহ নানা সমস্যার কারণে পোশাক রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। গত অর্থ বছরে ২ লাখ ৮৭ হাজার ১৩০ কোটি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জন হয়েছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি
তার আগের অর্থবছরে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭শ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ১১৫ কোটি টাকার পণ্য।

চট্টগ্রাম বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রামে নিবন্ধিত ১৩৩টি পোশাক কারখানার মধ্যে ব্যবসা বন্ধ করে দেয় ৭টি কারখানার মালিক। ১০ বছরের ব্যবধানে ১৯৯৫ সালে ৩৫৯টি কারখানার মধ্যে ১৪টি, ২০০৫ সালে ৬৯৯টি কারখানার মধ্যে ৮৯টি ও ২০১৫ সালে ৭৫৬টি কারখানার মধ্যে বন্ধ হয়েছে ৩০১টি কারখানা। এর আগে গতবছর বিজিএমইএর নিবন্ধিত ৬৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ হয়েছিল ৪শ কারখানা, মাত্র ২৯৩টি কারখানা উৎপাদনে ছিল।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ও শ্রমিকের মজুরি শোধ না করে বন্ধ হয় তিনটি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে বোয়ালখালীর পূর্ব কালুরঘাটের চর খিদিরপুর এলাকায় অবস্থিত রিজেন্ট টেক্সটাইল কারখানায় গত ফেব্রæয়ারি মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। গত ২২ আগস্ট চট্টগ্রামের সিডিএ আবাসিক এলাকার বেইস টেক্সটাইল ও ২৬ আগস্ট পূর্ব বাকলিয়ার রাজাখালি এলাকার নিড টেক্সটাইল সিটিজি লিমিটেড নামের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

পাশপাশি চলতি বছরের ২৩ মে নগরের পলিটেকনিকের চন্দ্রনগর এলাকার আনোয়ারা গার্মেন্টেসের ৬০ থেকে ৭০ জন শ্রমিক ও ৮ জুলাই একেখান প্যান ফেব্রিক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে।

জে-আর

Feb2
Feb2

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 2:59 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।

ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা, জিম্মি সহকর্মীরাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 1:37 pm
ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা, জিম্মি সহকর্মীরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত ফরেস্ট গার্ড গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও সহকর্মীদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

উত্তর বন বিভাগের লাইন নিয়ন্ত্রক ও ফৌজদারহাট বন বিটের ক্যাশিয়ার হিসেবে সর্বত্র তার পরিচিতি রয়েছে। চট্টগ্রামে তার বাড়ি হওয়ায় ভিন্ন জেলার সহকর্মী ও উর্ধ্বতনদের পাত্তাই দেয় না গিয়াস উদ্দিন।

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ফৌজদারহাট বিট অফিসে। তার পদবী (এফ,জি) ফরেস্ট গার্ড হলেও চলনে,বলনে তিনি যেন মস্ত বড় অফিসার। উত্তর বন বিভাগের লাইন নিয়ন্ত্রক হিসেবে আয়ও করেন ভালো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম বন বিভাগে কর্মরত অনেকেই বলেন, তার দৈনিক আয় ৪০/৫০ হাজার টাকার অধিক।

বিভিন্ন গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে নিশ্চিত করেন তার সহকর্মীরাই।

সুত্র জানায়, কিছু অসাধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গিয়াস উদ্দিনের চাঁদার ভাগ পায়। দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করলেও সেই টাকার ৫০/৬০ ভাগ চলে যায় উর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করতে।

অপর এক সুত্র জানায়, গত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন আওয়ামী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটানা ৯ বছর চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত থাকেন। ৫ আগস্টের পরেও রহস্য জনক কারণে গিয়াস উদ্দিন রয়েছেন একই রেঞ্জে বহাল তবিয়তে। একটানা ১০/১১ বছর একই রেঞ্জে কর্মরত থাকার নজির বন বিভাগে না থাকলেও গিয়াস উদ্দিন এই নজির স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন অনেকে।

‎দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বদলি হওয়ার বিধান থাকলেও গিয়াস উদ্দিনের টাকার কাছে তা অকার্যকর।

‎চট্টগ্রামের বলিরহাট, বহদ্দারহাট, ফিরিঙ্গী বাজার, বাদুরতলা,শোলক বহর সহ বিভিন্ন এলাকার ১০/১২ জন গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গাছের বা ফার্নিচারের প্রতি গাড়ি হতে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন ফরেস্টর গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া মাসোহারাও দিতে হয় প্রতি মাসে।

গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠের শুরে বলেন, ‎বন বিভাগের যন্ত্রনায় ব্যবসা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। এছাড়া বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি সহ অন্যান্য এলাকা থেকেও যে সব গাছ ও ফার্নিচারের গাড়ি আসে তাদের থেকেও নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করেন গিয়াস উদ্দিন।

দৈনিক ২০টির অধিক গাড়ি থেকে ফৌজদারহাট বিটে চাঁদাবাজি হয় বলে নিশ্চিত করেন অনেকে।

এদিকে নগরীর বৃহত্তর ফার্নিচার হাট খ্যাত বলিররহাট ও ফিরিঙ্গীবাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বন বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য গিয়াস উদ্দিনের। তার চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে ব্যবসা করা কঠিন। চট্টগ্রামের যে কোন গাছ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা একই কথা বলবে এমন দাবি করে বলেন, বান্দরবান, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটি খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ীরাও গিয়াস উদ্দিনের হাতে জিম্মি।

‎এই বিষয়ে গিয়াস উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন তিনি সব দায় এস ও আশরাফ এর বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন।এর পর তাকে বারবার ফোন করলে ও তিন আর ফোন রিসিভ করেন নি,পরে থাকে তার ওয়াটসআপ নাম্বারে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে ও তার পুরোপুরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এইবিষয়ে ফৌজদারহাট বিটের স্টেশন অফিসার আশরাফ এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন মাত্র দেড় মাস আগে আমি এই স্টেশনে যোগদান করেছি, গিয়াস উদ্দিন এর ব্যাপারে অভিযোগ পাইলে উর্ধতন কর্মকর্তাগন অফিসিয়ালি ব্যাবস্হা নিবেন।

‎দ্বিতীয় পর্ব আসছে…

কর্ণফুলীতে ডুবল লাইটার জাহাজ, ১২ নাবিক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 12:03 pm
কর্ণফুলীতে ডুবল লাইটার জাহাজ, ১২ নাবিক উদ্ধার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নেভাল একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় পাথরবোঝাই একটি লাইটার জাহাজ আংশিক ডুবে গেছে। তবে এ ঘটনায় জাহাজে থাকা ১২ নাবিকের সবাইকে জীবত অবস্থায় উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেভাল একাডেমির বিপরীতে ট্রেনিং ওয়ালের পাশে ‘এমভি বে হারবার-২’ নামের লাইটার জাহাজটি এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

কোস্টগার্ডের জনসংযোগ শাখা থেকে জানা গেছে, জাহাজডুবির খবর পাওয়া মাত্রই কোস্টগার্ডের একটি দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আটজন এবং পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে আরও চারজনসহ মোট ১২ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।