আবারও বিসিসিআইয়ের সভাপতি হওয়ার পথে সৌরভ গাঙ্গুলী
আরও এক মেয়াদে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হওয়ার পথ সুগম হলো সৌরভ গাঙ্গুলীর। বিসিসিআইয়ের করা আপিলে সাড়া দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বোর্ডের সংবিধানে সংশোধন আসায় আরও তিন বছর ভারতের ক্রিকেটে শীর্ষ দুই পদে বহাল থাকতে পারবেন গাঙ্গুলী ও জয় শাহ। যদিও ভারতের গণমাধ্যমে গুঞ্জন বিসিসিআই নয়, গাঙ্গুলীর নজর আইসিসিতে। নভেম্বরে শেষ হবে বর্তমান চেয়ারম্যান গ্রেগ বার্কলের মেয়াদ। এরপর গাঙ্গুলী হতে পারেন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বোচ্চ পদের অধিকারী।
২০১৯-এর অক্টোবরে ভারত ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের নেতৃত্বে আসেন সৌরভ গাঙ্গুলী ও জয় শাহ। বোর্ডের প্রথম এজিএম-এ এক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বিসিসিআই ও রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ ছিল না। এক মেয়াদে তিন বছর থাকার পর, পরের মেয়াদে বিরতি দিয়ে আবারও নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ড বা রাজ্য ক্রিকেটের প্রশাসনে ফেরার সুযোগ ছিল সংগঠকদের। এই বিধানে সংশোধন আনার ঐকমত্য আসে এজিএমে। এরপর সে বছরের ডিসেম্বরেই আদালতের দ্বারস্থ হয় বিসিসিআই।
আরও পড়ুন: শামির ইনজুরির কারণে আরেক পেসারকে দলে নিল ভারত
প্রায় তিন বছর পর রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। বিসিসিআইয়ের সংবিধান সংশোধনে আর কোনো বাধা রইল না। ফলে টানা দুই মেয়াদে যে কেউই থাকতে পারবেন বিসিসিআই কিংবা রাজ্য ক্রিকেটের দায়িত্বে।
এমন সময় এ সিদ্ধান্ত দিল সুপ্রিম কোর্ট, যখন গাঙ্গুলী-জয় শাহর মেয়াদ একেবারে শেষ দিকে। এ মাসের শেষে মেয়াদ পূর্ণ হবে বিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির। তবে ভারতের গণমাধ্যমে জোর গুঞ্জন, দ্বিতীয় মেয়াদে হয়তো সভাপতি পদে দেখা যাবে না প্রিন্স অব ক্যালকাটা সৌরভ গাঙ্গুলীকে।
এর পেছনে আছে বেশ কিছু কারণ। ভারতে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে আছে বিজেপি। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর, সভাপতি নির্বাচন হলে অন্তত ১৫টি রাজ্য অ্যাসোসিয়েশন জয় শাহর পক্ষে ভোট দেবে। এই ১৫ রাজ্যের ১৩টিতেই ক্ষমতায় আছে বিজেপি। তাই সভাপতি নির্বাচন হলে জয় শাহর সঙ্গে পেরে উঠবেন না গাঙ্গুলী।
এ ছাড়া এবার বিসিসিআই সভাপতি হতে না পারলে জয় শাহকে আরও ছয় বছর অপেক্ষা করতে হবে। সে সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী অবস্থায় থাকে, সেটাও নিশ্চিত নয়। তাই জয় শাহই হয়তো পরবর্তী সভাপতি হবেন বিসিসিআইয়ের। সে ক্ষেত্রে নতুন সচিব হতে পারেন বর্তমান কোষাধক্ষ্যের দায়িত্বে থাকা অরুণ ধুমাল।
এখন প্রশ্ন: গাঙ্গুলীর ভবিষ্যৎ কী? আগামী নভেম্বরে শেষ হবে আইসিসি চেয়ারম্যান গ্রেগ বার্কলের মেয়াদ। গুঞ্জন আছে, আইসিসির শীর্ষ পদে বসতে চান ভারতের সাবেক অধিনায়ক। অবশ্য এ সবই গণমাধ্যমের গুঞ্জন। ক’দিন বাদেই হবে বিসিসিআইয়ের এজিএম। সেখান থেকেই আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন