রূপা হকের হ্যাট্রিক জয়
বৃটেনের জাতীয় নির্বাচনে বাজিমাত করলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রূপা হক। তিনি রাজধানী লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে আবারও জয় পেয়েছেন। এ নিয়ে টানা তিনবার তিনি বৃটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হলেন। অর্থাৎ হ্যাট্রিক করলেন তিনি। তিনি লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল আসন থেকে বিরোধী দল লেবার পার্টির পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
শুক্রবার প্রকাশিত নির্বাচনী ফলে দেখা যায়, রূপা হক ২৮ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভের জুলিয়ান গ্যালেন্ট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৩২ ভোট।
১৯৭০ সালে তার পিতা মোহাম্মদ হক ও মা রওশন আরা হক বৃটেনে পাড়ি জমান। তাদের তিন মেয়ের মধ্যে সবার বড় রূপা হক। মোহাম্মদ হকের বাড়ি পাবনা শহরের কুঠিপাড়ায়।
রূপার ছোটবোন কোনি হক (কনক আশা হক) বৃটেনের খ্যাতিমান টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও লেখক। রূপা হকের বয়স ৪৭ বছর। তিনি রাজনীতিতে আসার আগে লন্ডনে অবস্থিত কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। পড়াতেন সমাজবিজ্ঞান। সেখান সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কমরত ছিলেন এই কলামিস্ট ও লেখক। নিজ নির্বাচনী এলাকার ভেতরে ও বাইরে রূপা হক খুব জনপ্রিয় হলেও একদমই সাধারণ জীবনযাপন করেন। তার চলাফেরা ও বিনয়ী আচরণের জন্যও তিনি বেশ জনপ্রিয়।
জাতীয় ইস্যু ও লেবার পার্টির অভ্যন্তরের রাজনীতিতে বরাবরই তাকে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে । সংসদে নানা ইস্যুতে ঝড় তুলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন রূপা। ২০১৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বোরকা নিয়ে করা তীর্যক মন্তব্যের জন্য নিজের কলামে বরিস জনসনকে ক্ষমা চাওয়া আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে রূপা হকের ফলাফল সবার আগে চলে এসেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অপর দুই এমপি রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক আবার জয় পেতে যাচ্ছেন বলা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে এবার বিজয়ী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী আফসানা বেগম। বুথফেরত জরিপে লেবার পার্টির এই তিন বাঙালি কন্যা জয় পাবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভোট গণনার সর্বশেষ খবরও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইংল্যান্ডে লেবার দলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি আসনে লেবারের হারের খবর এসেছে। দলটির এসব দুর্গে হানা দিয়েছে কনজারভেটিভরা। দেশব্যাপী লেবার খারাপ ফল করলেও লন্ডনের আসনগুলোতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই চার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত বলা হচ্ছে। কেননা, আসনগুলোর ভোটাররা ব্রেক্সিটবিরোধী।


আপনার মতামত লিখুন