খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাথা ন্যাড়া করে শিক্ষিকার প্রতিবাদ, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ডিসির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
মাথা ন্যাড়া করে শিক্ষিকার প্রতিবাদ, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ডিসির

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কাবাডি খেলার জন্য মেয়েরা ফ্রেন্স বেণি করে চুল বাঁধায় প্রধান শিক্ষিকা তাদের মারধর ও বকাঝকা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ওই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকা জাহিদা পারভীন নিজের চুল ন্যাড়া করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং স্কুল থেকে পদত্যাগও করেছেন। এ নিয়ে তিনি ফেসবুকে ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। শুক্রবার এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছেন জেলা প্রশাসক।

কয়েক দিন ধরে মেয়েদের সাফজয়ের পর আনন্দ বন্যায় ভাসছে পুরো দেশ। এমন সময় মেয়েদের চুল বাঁধা নিয়ে ঘটনাটি দাগ কেটেছে অনেকের মনে। তাই ফেসবুকে এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিও করছেন অনেকেই।

বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষিকা জাহিদা অপমান ও ক্ষোভ থেকেই এমন প্রতিবাদ করেছেন বলে জানান। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘স্কুলের মেয়েদের মাসখানেক কষ্ট করে খেলা শিখিয়ে মাঠে নিতে যাওয়ার আগের দিন তাদের চুল ফ্রেন্স বেণি করে ছবি তোলা হয়। তবে এভাবে খেলতে যাওয়ার কারণে আমার স্কুলের হেডমাস্টার মেয়েদের চুল ধরে মারে ও বকা দেন। এর প্রতিবাদে নিজের মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। খুব কি খারাপ দেখা যাচ্ছে?’

এতে তিনি লিখেছেন, প্রধান শিক্ষিকার অসহযোগিতার কারণে মেয়েরা এক মাস প্রশিক্ষণ নিলেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে জাহিদা জানান, ‘৪৯তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিদ্যালয়ের ১২ জন মেয়ের একটি কাবাডি দল করেন তিনি। গত ৭ সেপ্টেম্বর ওই মেয়েদের চুলের ফ্রেন্স বেণি করে একটি ছবি তোলেন। তবে এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নীপা চৌধুরী খেপে গিয়ে ছাত্রীদের বকাঝকা এবং কয়েকজনের চুল ধরে টানাটানি করেন। এভাবে কেন বেণি করেছ- বলতে বলতে শিক্ষার্থীদের মারছিলেন তিনি। এতে অপমানিত হয়ে অনেক মেয়ে কান্নাকাটি করে। আমি দেখে সেখানে গিয়ে তাঁকে থামাই। বলি, আমিই তাদের এভাবে বেণি করত বলেছি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বলেন, এভাবে বেণি করতে পারবে না।’

এ ঘটনায় ছাত্রীদের মতো তিনিও অপমানিত বোধ করেন। ঘটনার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ঘটনার সাত দিন পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিজের চুল ন্যাড়া করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে নিজের ও ছাত্রীদের ছবি সংবলিত একটি পোস্ট ফেসবুকে দেন জাহিদা।

জাহিদা জানান, খেলোয়াড়দের নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে স্কুলে মডেল টেস্ট থাকায় তাদের পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় খেলায় অংশ নিতে পারেনি তার কাবাডি দল। তাঁর অভিযোগ, খেলার দিন মাঠে যাওয়ার আগে নানা ছুতোয় প্রধান শিক্ষিকা আমাদের দেরি করিয়েছিলেন। এ কারণে কো-অর্ডিনেটর শিক্ষার্থীদের মাঠে নামতে দেননি।

ঘটনার এতদিন পর ফেসবুকে প্রতিবাদের কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহিদা বলেন, ‘ঘটনার পরদিন অসুস্থ হয়ে আমি চমেক হাসপাতালে ভর্তি হই। ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে বড় ভাইয়ের বাসায় ফিরি। সেখানে এক দিন বিশ্রামে ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে আমার ভাই প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললে তিনি ভাইকেও অপমান করেন।’

জাহিদা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষিকা স্কুলে স্বাধীনভাবে মেয়েদের নিয়ে কাজ করতে দেন না। খেলার জন্য মেয়েদের নিয়ে কোনো টিম করতে চাইলে বাধা দেন। ঠিকমতো স্কাউট করতেও দেওয়া হয় না এখানে।’ জাহিদা ২০১১ সাল থেকে এই স্কুলে কর্মরত আছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষিকা নীপা চৌধুরী বলেন, ‘এটা সম্পূূর্ণ মিথ্যা কথা। বেণি করে চুল বাঁধা নিয়ে আমি শিক্ষার্থীদের মারধর বা বকাবকি করিনি।’ এর থেকে আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি শুক্রবার থেকেই কাজ শুরু করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান। তিনি জানান, তাদের দ্রুত সময়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় যেই দোষী হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই স্কুলের সভাপতি বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন বলেন, ওই ঘটনার পর শিক্ষিকা জাহিদা পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরিচালনা কমিটির সভায় সেটি গ্রহণ করা হয়েছে।

১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এয়াকুব আলী দোভাষ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী পড়ে। শিক্ষক আছেন ১২জন।

২৪ঘণ্টা/এজে

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…