সাতকানিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমন্ডারকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এলএমজি আবু তাহেরকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ। ২৫ সেপ্টেম্বর (রোববার) উপজেলার কালিয়াইশ ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদের নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে এলএমজি আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধাদের সম্মানী থেকে মাসিক চাঁদাবাজি, ভুমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ তোলা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, উপজেলায় গঠিত বর্তমান মুক্তিযোদ্ধাদের কমিটিতে হাফেজ আহমদ তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যার প্রেক্ষিতে আবু তাহের ষড়যন্ত্র করে হাফেজ আহমদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করান।
এছাড়াও আবু তাহের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল’র (জামুকা) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অন্যজনের জায়গায় নিজের নাম বসিয়ে রাতারাতি এলএমজি বনে যান এবং ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতের রিটের বিপরীতে আদালতের চাওয়া তথ্য উপাত্ত এখনো উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট শাখা থেকে বিগত ১০ মার্চের এক প্রজ্ঞাপন ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল’র (জামুকা) ৭৮তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বাবুল কান্তি দাশ ও
কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদ সহ দুইজন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়েছে।
জামুকা সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই দফা শুনানি হয়। শুনানিতে তারা মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সহযোদ্ধাদের সাক্ষী হিসেবে হাজির করতে পারেননি।
ফলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সনদ নেওয়াই তাদের সনদ বাতিল করা হয়। আইন অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়া হলে ৩ বছর কারাদণ্ড এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ—সুবিধা নেওয়া হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
এমতাবস্থায় এলএমজি আবু তাহেরকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলার কারন জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদ বলেন, তাহের প্রকৃত পক্ষে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।
বিভিন্ন সময় তার ভুয়া কাগজপত্র সহ আমরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। যেসব তথ্য উপাত্তের কথা বলা হয়েছে সব আমাদের কাছে আছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে নির্বাচনের আগে এক প্রার্থী থেকে টাকা খেয়ে আমার নমিনেশন ঠেকাতে আমার বিরুদ্ধে জামুকা’তে অভিযোগ করেছিল। সেখানে প্রথমবার নোটিশ আসছে মেয়াদের পরে।
দ্বীতিয়বার আমার হাত ভাঙ্গা থাকার কারণে উপস্থিত হতে পারিনি। তৃতীয়বার নির্বাচনে আমার প্রার্থীতা যাচাই বাছাইয়ের তারিখ ছিল। তবে আমি তার আগে নোটিশ দিয়েছি।
কিন্তু সে টাকা দিয়ে নোটিশটা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেঁৗছাতে দেয়নি। যার কারণে আমার সনদ বাতিল হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে আপিল করেছি।
তাদেরকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শো’কজ করা হয়েছে। মূলত তাহের নিজে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উল্টো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করছে।
তবে এসব বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এলএমজি আবু তাহের।
২৪ ঘণ্টা / জে-আর


আপনার মতামত লিখুন