বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় রাউজান পৌরসভা সারাদেশের মধ্যে রোলমডেল
বর্জ্য সংরক্ষণ-ব্যবস্থাপনায় রাউজান পৌরসভা এখনসারাদেশের মধ্যেরোলমডেল
চট্টগ্রাম জেলার রাউজান পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন ও মডেল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর রাউজানের সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর নির্দেশনায় অপচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ কর্মসূচি গ্রহণ করেন রাউজানপৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ।
সুন্দর স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ রক্ষায় রাউজান পৌরসভার এ কর্মসূচি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। কর্মসূচি চালুর পর থেকে রাউজান পৌর এলাকায় ফিরে আসে নান্দনিক রূপ।
অফিস, দোকানপাট থেকে শুরু করে পৌর এলাকার নাগরিকদের মাঝে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার চিরাচরিত দৃশ্যপট বদলে এখন নির্দিষ্টস্থানে আবর্জনা ফেলার পাশাপাশি রাউজান পৌর এলাকার আবর্জনা সংগ্রহে ভ্রাম্যমাণ কয়েকটি টিমের সমন্বয়ে প্রতিদিন এলাকায় এলাকায় আবর্জনা সংগ্রহ করার সুফল হিসেবে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে বিরাজ করছে পরিচ্ছন্ন রূপ।
রাউজান পৌরসভার এমন উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসিত হওয়ায় এক্সিকিউটিভ কমিটি অব ন্যাশনাল ইকোনমি কাউন্সিল এর এক সভায় রাউজান পৌরসভার এ কৌশল অনুসরণ করার জন্য দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাভুক্ত পৌরসভা সমূহকে অফিসিয়াল স্মারকমূলে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
রাউজান পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এক স্মারকমূলে জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (পৌর) প্রকল্পের আওতায় যেসব পৌরসভায় অন্তভুর্ক্ত আছে
সব পৌরসভায় রাউজান পৌরসভায় নেয়া চলমান বর্জ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার কৌশল গ্রহণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। চিঠিতে রাউজান পৌরসভার বর্জ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কৌশল অনুসরণ করার জন্য অন্যান্য প্রকল্পভুক্ত পৌরসভাকে নিদেশনা দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় এক বছর আগে রাউজান পৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ এলাকার সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরামর্শে পৌরসভাকে পরিবেশবান্ধব,পরিচ্ছন্ন রাখার কর্মসূচি নিয়েছিলেন।
এমপি ফজলে করিম চৌধুরী প্রায় প্রতিমাসে বর্জ্য কেনার হাটে উপস্থিত থেকে বর্জ্য সংগ্রহকারী ও ক্রেতা পৌর মেয়রকে একাজে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন। মেয়র একাজকে চলমান রেখে সারাদেশে প্রশংসিত হচ্ছেন।
জমির উদ্দিন পারভেজ বলেছেন, তার পৌরসভাকে পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন রেখে নাগরিকদের জন্য সুন্দর, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি চলমান রেখেছেন। রাউজানের এ কর্মসূচির আওতায় ভাসমান মানুষ ও টোকাইদের কাছ থেকে প্রতিবস্তা অপঁচনশীল বর্জ্য দুইশ টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছেন।
এতে অপচনশীল বর্জ্য বিক্রী করে শত শত ভাসমান ও টোকাই শ্রেণির গরীব মানুষ একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে অপরদিকে পৌর এলাকায় যত্রতত্র আর আবর্জনার স্তুপ চোখে পড়েনা।
পৌরমেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন উপশহর গড়ার এ কর্মসূচি সর্ব সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রায় প্রতিদিন পৌর এলাকায় জনসচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করা হচ্ছে। উদ্বুদ্ধ হয়ে এ কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন স্কাউট, গাল্স গাইড, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন সমূহে জড়িতরা।
জানা যায়, এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক বস্তা বর্জ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংগ্রহকরা প্লাস্টিক, পলিথিনের মত অঁচপনশীল বর্জ্য রিসাইকেলিং করে
প্লাষ্টিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও পঁচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার, হাঁস মুরগি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌরসভা।
মেয়রের আশা এসব প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভা ও এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে তারা অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হবে।
২৪ ঘণ্টা / জে-আর


আপনার মতামত লিখুন