খুঁজুন
, ,

দেশে করোনায় দুজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৭৯

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 29 September, 2022, 5:23 pm
দেশে করোনায় দুজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৭৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে শনাক্ত হয়েছে ৬৭৯ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৯ জনে। আর মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩৬২ জনে।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৩৫৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ৩২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় পাঁচ হাজার ১৭টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এন-কে

Feb2
Feb2

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 9 August, 2026, 2:59 pm
কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠক শেষে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে অংশ নেব। আমরা প্রার্থী দেবো। যেহেতু ১১ দল আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি পার্লামেন্টে এবং বাইরে গণভোটের জন্য, সেই জায়গায় আমাদের কমন প্রার্থী থাকবে, ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী থাকবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন ১১ দলেরই শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দলে আমরা মনে করি দেশের এই যে সংকট একটা চলছে, এই সময় দেশে যে ধরনের অভিভাবকত্ব প্রয়োজন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমরা মনে করি কর্নেল অলি আহমেদ উপযুক্ত এবং উনার অভিভাবকত্বে বা উনার নেতৃত্বে এই সংকটগুলো নিরসন হওয়া সম্ভব।’

আজ ১১ দলের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আলোচনায় অনেকগুলো বিষয় এসেছে। বিশেষত বিএনপি সরকারের নির্বাচন পরবর্তী যে অবস্থান, আমাদের গণভোট, জুলাই সনদ, সেই বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে সরকারের দ্বিচারিতা…।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার কমিশনে দীর্ঘদিন ধরে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে কিন্তু রাষ্ট্রপতি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে, সেটার একটা নতুন ফর্মুলা প্রস্তাবিত হয়েছিল, যাতে আমরা সবাই মিলে একটা সর্বজনগ্রাজ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারি। সেই নির্বাচন প্রক্রিয়াও সংশোধনের প্রস্তাব এসেছিল এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জায়গায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায় এসব আলোচনা হয়েছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে নির্বাচনের পরে আসলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন জুলাই সনদ অনুযায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গণভোটের যে ম্যান্ডেট জনগণ দিয়েছে, ৭০ শতাংশ জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছিল। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা নতুনভাবে সংস্কারকৃত সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারব। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে এবং তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো কিছুতে, কোনো ধারাতেই নেই। সংস্কার পরিষদের শপথ তারা নেয়নি, অধিবেশন ডাকেনি এবং সব প্রতিষ্ঠানকে তারা দলীয়করণ করছে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করছে। আমাদের যে লড়াই ছিল, নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচন কমিশন, তা আমরা দেখলাম যে এই সরকারও আসলে পূর্ব স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু প্রথম অধিবেশনের একদম প্রথম দিনই বলেছিলাম যে ফ্যাসিবাদের দোসর সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি থেকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়, জুলাই সনদ অনুসারে। সেই রাষ্ট্রপতিকে তারা ছয় মাস রেখে দিলো এবং তাকে এখনও কোনো ধরনের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। এটাও আমাদের কাছে সন্দেহজনক।’

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি নির্বাচন-পরবর্তী পাঁচ বছর যখন অতিক্রম হবে, এই রাষ্ট্রপতি সে সময় থাকবেন এবং তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে হবে, এই রাষ্ট্রপতি যিনি রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, হবেন, তার ভূমিকা কী হবে, এই পুরো বিষয়টা কিন্তু জাতির সামনে একটা সন্দেহ তৈরি করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির অধীনে ইতিহাসে আমরা দেখেছি, তারা সবসময় চেষ্টা করেছে এই ট্রানজিশনের সময়গুলো যাতে নিজেদের হাতে ক্ষমতা থাকে, সেটা তারা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক সাংবিধানিক সংকট তারা তৈরি করেছে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী বাস্তবে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়ম দেখে এসেছি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ যারা থাকে, তাদের প্রাধান্য থাকে এবং তাদের ওই ভোটে কাস্টিং ভোটটাই মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।’

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, এই অংশগ্রহণটাই একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ। রাজনীতিতে গণতন্ত্রের জন্য আমরা মনে করি যে এই প্রক্রিয়াটা অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।’

এসময় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন

তরুণ সমাজ ধ্বংসের ‘টাইম বোমা’ ইয়াবা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 9 August, 2026, 10:03 am
তরুণ সমাজ ধ্বংসের ‘টাইম বোমা’ ইয়াবা

দেশে মাদকের ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে চলছে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের মাদক ব্যবহার এবং বেচাকেনা চলছে প্রকাশ্যে। সর্বনাশা মাদকের এই আগ্রাসন থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তরুণ সমাজের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বাধিক। পাশাপাশি চলছে অনলাইন জুয়া। ইয়াবাও যত্রতত্র হাতের কাছে পাওয়া যায়। ‘ইয়াবা’ তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার টাইম বোমা বলে উল্লেখ করেছেন মনোরোগ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবাসহ কোনো মাদক যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের অভ্যন্তরে যারা এই কারবারে জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে চীন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এই ভয়ংকর মাদকের ব্যবসা ও ব্যবহার নির্মূল করা সহজেই সম্ভব।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, দেশেই এখন ইয়াবা তৈরি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিপূর্বে কেরানীগঞ্জসহ একাধিক স্থানে এই মাদক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। বর্তমানে রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত যত্রতত্র পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। বেচাকেনা হচ্ছে প্রকাশ্যেই। তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি আসক্ত ইয়াবায়। রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে মাদক ছোবল দেয়নি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, হাত বাড়ালেই এই মাদক মেলে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকের মূল হোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কর্তৃক আয়োজিত মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সভায় তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাদক বিস্তার রোধ করা বর্তমানের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর প্রতি জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত মাদকের গডফাদার, ব্যবসায়ী ও ডিলারের তালিক আপডেট করার কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রাজধানী থেকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার ও সরবরাহকারীদের তালিকা তাদের হাতে রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা মাদকের গডফাদার ও ব্যবসায়ে জড়িত এবং সেখানে থেকে সারা দেশে সরবরাহকারীদেরও তালিকা রয়েছে। সেই তালিকায় অনেক ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী রাজধানী থেকে দেশব্যাপী মাদকব্যবসায়ী ও গডফাদারদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মনোরোগ বিজ্ঞান ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবহার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। পাশাপাশি সামাজিক অপরাধও আসক্তদের মধ্যে চরম নিষ্ঠুরতা বেড়ে চলছে। মাদকের টাকার জন্য কিংবা এর থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে ছেলের হাতে পিতা-মাতা ও আপনজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। প্রায়ই পত্রিকায় এই ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। মাদক সীমান্ত ছাড়াও নানা পথে প্রবেশ করছে। সীমান্ত থেকে সড়ক পথে কিংবা নৌ পথে রাজধানীসহ মাদকব্যবসায়ীরা পৌঁছে দেয়। এ ব্যবসা করে অল্প সময়ে কোটিপতি ও গাড়ি-বাড়ির মালিক হওয়া যায়। এ কারণে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির সদস্যও জড়িত। রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত প্রকাশ্যে বেচাকেনা এবং সহজলভ্য হওয়ার অন্যতম কারণ বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বনাশা মাদকের ব্যাপক বিস্তার যেভাবে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে সন্তানরা নিরাপদ নয়।

রাজধানী মোহাম্মদপুর ‘জেনেভা ক্যাম্প’ মাদকের অন্যতম স্পট। বছিলা, কামরাঙ্গীর চর, রায়ের বাজার মাদকের বেচাকেনা প্রকাশ্যে কিশোরদের বেচাকেনা করতে দেখা যায়। ঐসব এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা বড় ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে এ মাদক ব্যবসা চলে আসছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ-কমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশের তত্পরতা থাকে। এছাড়া, মোহাম্মদপুর এলাকায় যেসব স্থানে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ছিল প্রতিদিনই অভিযান অব্যাহতভাবে চলছে। গড়ে অর্ধশতাধিক মাদক বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও ক্রয়কারী, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে। বর্তমানে ঐসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এলাকাবাসী পুলিশের এই অভিযানে শান্ত বলে তিনি জানান।

এছাড়া, রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, সবুজবাগ, মুগদা, খিলগাঁও, বাসাবো, যাত্রাবাড়ী, ডেমরাসহ পুরাতন ঢাকার অলিগলি প্রকাশ্যে দিনরাত চলে মাদকের ব্যবসা। এসব কারণে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে কয়েক ব্যবসায়ী জানান। তারা বলেন, একশ্রেণির নেতাকর্মী নিয়মিত চাঁদা নিয়ে এই ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে।

মহানগর গোয়েন্দা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও পেশাদার অপরাধীদের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। জড়িতরা প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে বলে তিনি জানান।

র‌্যাবের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী মাদক বিক্রিসহ যে কোনো ধরনের অপরাধ করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই। কিশোর গ্যাংসহ অন্যান্য অপরাধীদের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। প্রতিটি এলাকায় র‌্যাব নিয়মিত মনিটরিং করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

দেশের অন্যতম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মাদকাসক্তদের মধ্যে ইয়াবা আসক্তদের সংখ্যা সর্বাধিক। এদের সংখ্যা শতকরা ৮০ ভাগের ওপরে। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থীরাও কম নয়। প্রতিদিন যত মাদকাসক্ত চিকিৎসার জন্য আসে এর মধ্যে সিংহভাগই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, একটি পরিবারে এক জন মাদকাসক্ত সন্তান থাকলে পুরো পরিবারই ধ্বংসের মুখে পড়ে। আসক্ত তরুণরা তাদের পিতামাতাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করে। তবে দীর্ঘসময় চিকিৎসাসেবা দিলে সুস্থ হয়ে যায়; যদিও তাদের বেশির ভাগই জীবনভর সুস্থ থাকতে পারে না। হাতের নাগালে মাদক থাকায় আবারও আসক্ত হয়ে পড়ে কিংবা মাদকাসক্ত বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে দ্বিতীয় বার একই ভুল করে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষ সচেতন হলে এই চক্রকে দমন করা সম্ভব। মাদকের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাকেই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যাতে এটি দেশে প্রবেশ কিংবা কোনো এলাকায় কেউই বিক্রি করতে না পারে। পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে পালাচ্ছিলেন সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 9 August, 2026, 9:00 am
মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে পালাচ্ছিলেন সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী

শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী গোলাম সারোয়ার খানকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিশ্বস্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি আভিযানিক দল বিমানবন্দরে অভিযান চালায়। এ সময় গোলাম সারোয়ার খানকে আটক করা হয়।

তিনি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা কাগজপত্র ব্যবহার করে নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। ওই পরিচয় ব্যবহার করে ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে দেশ ছেড়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন গোলাম সারোয়ার। বিমানবন্দরের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোলাম সারোয়ার খান বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী। বড় সাজ্জাদের অধীনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।

বড় সাজ্জাদ চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত নাম। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে দেশে থাকা সহযোগীদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের তৎপরতা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ফোন করে হুমকি, চাঁদাবাজি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলি ছোড়া এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।