খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয়ের মাসেই প্লটের দখল হস্তান্তর করতে চায় মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
বিজয়ের মাসেই প্লটের দখল হস্তান্তর করতে চায় মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরী

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই : বিজয়ের মাস ডিসেম্বর মাস আর এ মাসেই প্লটের দখল হস্তান্তর করতে যাচ্ছে মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরী কতৃর্তপক্ষ। এমনটাই জানালেন বিসিক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আহমেদ জামাল নাছের চৌধুরী।

তিনি জানান আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরী, ইতি মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে প্লট বরাদ্ধের কাজ। খুবশিগ্রই আরম্ভ হবে প্লটের দখল হস্তান্তর। প্লটের দখল হস্তান্তরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্লট গ্রহীতা শিল্প উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ প্লটে স্থাপনা নির্মান কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় তাদের প্লট বরাদ্ধ ও দখল সত্ত বাতিল করা হবে।

তিনি জানান, গত ১ বছর আগেও এই শিল্প নগরী উদ্বোধনের যাবতিয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিলো কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারনে এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সকল জটিলতার অবসান হয়েছে বলে আমি মনে করি। তাই এটি বাস্তবায়নে আর তেমন কোন বাধা নেই।

এই কর্মকর্তা জানান,দ্বিতীয় বারের মতো গত ২২ মে প্লট বরাদ্ধের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে ১১৪ টি আবেদন পত্র জমা পড়ে। আবেদন পত্রের গ্রহণ যোগ্যতা যাচাই বাচাই করে সেখান থেকে ৮২টি উদ্যোক্তাকে প্লট বরাদ্ধের জন্য সনাক্ত করা হয়, বাদ পড়ে ৩২টি উদ্যোক্তার আবেদন পত্র। তবে বাচাইকৃত এই ৮২টি আবেদন পত্র থেকেও অনেকেই বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন।

এই ৮২জনকেই এলটমেন্ট লেটার প্রেরণ করেছে বিসিক কর্তৃপক্ষ। এলটমেন্ট লেটার প্রাপ্ত ৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৮ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে হালকা প্রকৌশল-১৯টি, খাদ্য ও খাদ্যজাত -১৯টি, রেডিমেড গার্মেন্টস-১৬টি, সিরামিকস ও নন মেটালিক-০৩টি, কেমিক্যাল এন্ড এলাইড-১০টি, রাবার, লেদার এন্ড এলাইড-৪টি, প্যাকেজিং-০৮টি, বন ও বনজাত-৩টি।

তবে ৮২টি বরাদ্দকৃত আবেদনের বিপরীতে ডাউনপেমেন্ট পরিশোধ করেছেন মাত্র ৯জন উদ্যোক্তা। চলতি মাসে আরো দুই একজন উদ্যোক্তা থেকে ডাউনপেমেন্ট পাওয়া যেতে পারে বলে আশা ব্যাক্ত করেন তিনি। ডাউনপেমেন্ট পাওয়া গেলে চলতি মাসে নুন্যতম ১০জন উদ্যোক্তাকে তাদের প্লটের দখল সত্ত হস্তান্তর করা যেতে পারে। তবে যে সব উদ্যোক্তা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে ডাউন্টপেমেন্ট পরিশোধ করেছেন তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এলটমেন্ট লেটার পাওয়ার পরও যে সকল আবেদনকারী একমাসের মধ্যে তাদের ডাউনপেমেন্ট পরিশোধ করে প্লট বুঝে নিবে না হয়তো আমরা তাদের আরো কিছু সময় দিবো এটা হয়তো দুই মাস বা তিন মাস ও হতে পারে। এর মধ্যেও যদি তারা ডাউনপেমেন্ট পরিশোধে ব্যার্থ হয় তাহলে তাদের প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এসব বাতিলকৃত প্লটের জন্য নতুন বরাদ্দ চেয়ে আগামি দুই এক মাসের মধ্যে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

জানা যায়, ২০০৯ সালের দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে মিরসরাইয়ে বিসিক শিল্পনগরী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মিরসরাই পৌরসভার পূর্ব মঘাদিয়ায় তালবাড়িয়া রেলস্টেশন এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করে ২০১০-২০১১ অর্থবছর প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ দশমিক ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করে মাটি ভরাটের কাজও শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করা হয়। ২০১৩ সালের শেষ দিকে প্রকল্প কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের শেষ দিকে মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরীর সামগ্রিক প্রস্তুতি শেষ হলেও নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নীতিনির্ধারকদের অবহেলার কারনে মুখ থুবড়ে পড়ে আশা জাগানো এই প্রকল্পটি। স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের আশার জোয়ারেও ভাটা পড়ে যায় নিস্তেজ হয়ে পড়া প্রকল্পটির কারনে।

স্থানীয় শিল্পউদ্যোক্তারা সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা ক্ষোভ ঝেড়েছেন বিভিন্ন আলোচনার টেবিলে। দোষারোপ করেছেন বিশেষ প্রভাবশালী ব্যাক্তিকে। কৃষিজমিতে শিল্প স্থাপনা করা যাবে না এমন অযুহাত তুলে স্থগিত করা হয় এর বাস্তবায়ন।

কিন্তু অনেকেই মনে করেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলিপ বড়য়ার কৃতীত্বে ইর্ষান্বীত হয়ে মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরী বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল একটি স্বার্থন্বেষী মহল। তবে আশার কথা হলো সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরী। এটি বাস্তবায়ন হলে মিরসরাইয়ে কম পক্ষে ৫হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন কর্র্তৃপক্ষ।

মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরী ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষে অবস্থিত। বিসিক শিল্পনগরী থেকে রেলপথের দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম। চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াতও ভালো। যোগাযোগ সুবিধার কারনে এই প্রকল্পের প্রতি শিল্প উদ্যোক্তাদের আগ্রহ একটু বেশি।

মিরসরাই পৌর সভার মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন সকল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে বিসিকের প্লট বরাদ্দের কাজ সম্পন হয়েছে। যারা এখানে প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন তারা অতিশিগ্রই তাদের কার্যক্রম আরম্ভ করবেন বলে আশা করছি। আমাদের পৌরসভা থেকে যতটুকু সহযোগীতা করার প্রয়োজন আমরা প্রস্তুত আছি। এটি যতো শিগ্রই বাস্তবায়িত হবে আমাদের পৌরসভায় কর্মসংস্থার সূত্রপাত ঘটবে ততো তারাতারি।

তিনি জানান, সরকার এখানে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু কয়েকজন কর্মকর্তার অবহেলার কারণে মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীর অগ্রযাত্রায় ভাটা পড়ে গিয়েছিলো। নতুন করে প্লট ভরাদ্ধ দেয়ার মধ্যদিয়ে সেই ভাটা কেটে উঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুবিধা থাকায় এখানে প্লট নিতে আগ্রহীর সংখ্যা বেশি।

তিনি আরও বলেন, পূর্বেও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২০ জনকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা বাতিল করা হয়। তবে কেন বাতিল করা হয় সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পুনরায় প্লট বরাদ্দের কথা শুনে ভালো লাগছে। আমরা চাই অতিশিগ্রই এই শিল্প নগরী বাস্তবায়ন হোক। বিসিক শিল্প নগরী

মিরসরাই বিসিক শিল্প নগরীর প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে, এই প্রকল্পে এ ক্যাটাগরিতে ২৭, বি ক্যাটাগরিতে ৩৩, এস টাইপ ক্যাটাগরিতে ২৮টিসহ মোট ৮৮ প্লট রয়েছে। এছাড়া এটি আরো সম্প্রসারণের লক্ষে পুনরায় আরো দশ একর জমি নতুন করে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিরসরাইকে মৌখিক ও লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।

তবে যতক্ষণ না এই প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ততোক্ষণ কাগজে কলমের বাস্থবায়নে বিশ্বাস করতে নারাজ প্রকল্প এলাকার লোকজন।

স্থানীয় মাহবুবুল আলম নামে এক ব্যাক্তি জানান, সেই চার বছর ধরে শুনে আসতেছি এখানে মেইল ফেক্টরি হবে, অবকাঠামোর সকল কাজ সম্পন্ন। একবার শুনলাম কৃষি জমিতে কারখানা করেতে দিবে নাই তাই কাজ বন্ধ ছিলো অনেক দিন। এবকার শুনলাম প্লট বরাদ্ধ দিবে আবার শুনলাম বাতিল করছে এভাবেই চলতেছে গত চারবছর। তাই যেদিন এখান কারখানার কাজ শুরু হবে সেই দিন ছাড়া নিশ্চিম হওয়া মুশকিল আসলে এখানে কারখানা হবে কি না।

তবে সরজমিনে দেখা যায় মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীর কাজ শতভাগ শেষ। তবে এখনো উৎপাদনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দখল স্বত্ত বুঝে পায়নি। তাই কোন কারখার দেখাযায়নি কোন নমুনা ফলক। দাড়ায় নি কোন কারখানার দালান। তাই চার দিকে খোলা সবুজের মাঠ। কচি ঘাসে উর্বর যেন এক গো চারণ ভূমি। গোটা দশেক গো মহিষের দখলে পুরো এই শিল্প নগরী এলাকা।বিসিক শিল্প নগরী

ফলে উৎপাদনের পরিবর্তে দেশের ৭৫তম এ প্রকল্পটি এখন গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাঠের দক্ষিন পাশে যেতেই দেখা মিললো পরিতেক্ত নেশার বোতল। বুঝতে বাকি রইলোনা সারাদিন গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার হলেও সন্ধ্যায় মাদক সেবিদের আস্তানায় পরিণত হয় শুন শান নিস্তব্ধ এই স্থানটি। সঠিক সময়ে উৎপাদনে না যাওয়ায় আগাছায় ভরে গেছে বিভিন্ন প্লট।

নিন্মমানের কাজের জন্য দেবে গেছে রাস্তার বেশ কিছু অংশ। তবে এই শিল্পনগরীর বর্তমান অবস্থা যাই হোক না কেন পুনরায় প্লট বরাদ্ধ দেওয়ার খবরে আবারো আশার আলো দেখছে মিরসরাইয়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তরা।

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।