পরিবেশ অধিদপ্তর কর্ণফুলীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বরফকলের সনদ বাতিল করেছে
কর্ণফুলী নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ বরফ কল কোল্ড স্টোরের সনদ বাতিল করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন এর আবেদনের প্রেক্ষিতে বরফকল এবং কোল্ড স্টোরেজের পরিবেশ সনদ বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম নগর কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. শাওন শওকত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন (গত ২০ ডিসেম্বর ২০২০ইং) প্রদত্ত উচ্ছেদ নোটিশের ৪৭ নম্বর বিবাদী জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বিগত ১৪ জানুয়ারি ২০২১ইং তারিখে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে আপিল আবেদন করেন।

দায়েরকৃত আপিলটি বিগত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে নিষ্পত্তির আদেশে উক্ত মাছ বাজার ও চট্টগ্রাম বরফ ও কোল্ড স্টোরেজ অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।
বিএস ১নং খাস খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগটি কর্ণফুলী নদী শ্রেণির ভূমি। যার মালিক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জলাশয় ও জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০,
চট্টগ্রাম বন্দর এক্ট এর নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রবাহমান কর্ণফুলী নদীর ধারা বন্ধ করে জেগে উঠা উক্ত বিএস ১নং খাস খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগের ৩.৯৭৭৫ একর নদী শ্রেনীর জমি বিগত ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে লিজ প্রদান করেন।

আইনগত ভাবে অবৈধ উক্ত লিজ এগ্রিমেন্টে জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে গৃহিত নদী শ্রেনীর জমি অন্য কাউকে লিজ দিতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু অবৈধ লিজ গ্রহিতা জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত লিজ দলীলের শর্ত ভঙ্গ করে চট্টগ্রাম বরফ কল ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের জন্য সাব লিজ প্রদান করে।
কোন প্রকার আইনগত ভিত্তিছাড়া জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি পরিবেশ আইন ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ ভঙ্গ করে কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে বরফকল ও কোল্ডস্টোর স্থাপন করেছে।
উপরোক্ত বরফকল এবং কলস্টোরকে জলাধার সংলক্ষণ আইন ২০০০ ভঙ্গ করে বিগত ২০ জুলাই ২০২০ইং তারিখে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের লিখিত আপত্তি আবেদন সত্ত্বেও পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।
কোন প্রকার আইনগত ভিত্তি ছাড়া পরিবেশ অধিপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর অঞ্চল কর্তৃক প্রদত্ত সনদ প্রদান করে বিএস ১নং খতিয়ানের ৮৬৫১ দাগ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদী শ্রেণির জমি জাতীয় মৎসজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ৮ ডিসেম্বর ২০১৫ইং তারিখে ১৫ বছরের চুক্তিনামা দিয়ে কর্ণফুলী নদী দখল ও ভরাট করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করেছেন।
উপরোক্ত তথ্যাদি উপস্থাপন করে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন বিগত ২০ জুলাই ২০২২ তারিখে লিখিত আবেদন করে।
উক্ত আবেদনের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদী দখল করে মাছ বাজার গড়ে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিস্তারিত উল্লেখ করে আমরা নদী দখলের বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করবো। মাননীয় পরিচালক এ বিষয়ে যথাযত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
২৪ ঘণ্টা / জে-আর


আপনার মতামত লিখুন