খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহিউদ্দিন চৌধুরী নওফেলকে বলতেন-শেখ হাসিনার জন্য জীবনবাজি রাখতে হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
মহিউদ্দিন চৌধুরী নওফেলকে বলতেন-শেখ হাসিনার জন্য জীবনবাজি রাখতে হবে

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। রাজীব,চট্টগ্রাম : সন্তান হিসেবে একটি কথা বলতেন সবসময়, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার জন্য জীবনবাজি রাখতে হবে, তাকে ছাড়া এই বাংলাদেশ মুখথুবড়ে পড়বে, মনে প্রানে এটি বিশ্বাস করতেন চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

নেত্রীও তাকে সেভাবেই দেখেছেন, মৃত্যুর পরে ছুটে এসেছিলেন। প্রতিনিয়ত তার চিকিৎসার খবর নিয়েছিলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। জন্মিলে মরিতে হবে, এই চিরন্তন সত্যের কাছে তিনি আত্মসমর্পন করেন আত্মবিশ্বাসের সাথে।

ঠিক এভাবেই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে সন্তান হিসেবে পিতার বলে যাওয়া কথাগুলো প্রকাশ করে প্রয়াত পিতাকে স্মরণ করলেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি আজ ১৫ ডিসেম্বর পিতার ২য় মৃত্যুবার্ষিকীর দিন রাত ৮ টা ১১ মিনিটে স্ট্যাটাসটি আপলোড করেন।

২৪ ঘন্টা ডট নিউজের পাঠকদের জন্য নওফেলের স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরে হলো।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল লিখেছেন :

ধ্যানে জ্ঞানে, পিতা মুজিবকে তিনি লালন করতেন, চর্চা করতেন। আওয়ামী লীগ কে সংগঠিত করতে সারা দেশ চষে বেরিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে অস্ত্রধারী হয়েছিলেন। খুনী জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। প্রতিকূল পরিবেশে দূর্গম টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবর বাধিয়ে নিয়েছিলেন।

শেষ বয়সে জীবন সায়াহ্নে নেতার স্মরণে টুঙ্গিপাড়ায় তীর্থতূল্য ভ্রমণ করেছিলেন প্রতি বছর। আজীবন সাধারন মানুষের স্বার্থে দল এবং প্রশাসনকে পরিচালিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। কঠিন সময়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য বারবার জীবন ঝুঁকি নিয়েছেন, নেত্রীর প্রতি আনুগত্যের প্রশ্নে কখনও পিছপা হন নাই।নওফেলের স্ট্যাটাস

শ্রমজীবি মানুষের জন্য, বঙ্গবন্ধু মুজিব যেই রাজনীতি করার নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিছেন সেটাই আমৃত্যু করে গেছেন। পরিবার হারিয়েছেন কিন্তু আপোষ করেন নাই, পরিবার পরিজন, কোনো কিছুর কথা ভেবে পিছপা কখনও হন নাই।

একজন “মহিউদ্দিন চৌধুরী” সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার একজন সহকর্মী হিসেবে, সাধারন শ্রমজীবি মানুষের নেতা হিসেবে সমদৃত হয়েছেন সারা বাংলাদেশে।

প্রিয় নেত্রীর নির্দেশে আন্দোলন সংগ্রামের সাথে সাথে পার্বত্য শান্তি চুক্তি, নগরপিতার দায়িত্ব, আবার লাশ ধোয়ানো, রোগীর দেখভাল, রাস্তা পরিস্কাত, করেননি এমন কোনো কাজ বাকি ছিলোনা। আর্থিক সমৃদ্ধি কখনো তার হয়ে উঠেনি, এটি তিনি গৌরবময় মনে করতেন।

রাজনৈতিক জীবনের যবনিকাপাত ঘটিয়েছেন লালদীঘিতে বক্তব্য রেখে। জন্ম হয়েছিলো তার বিজয়ের মাসে, বিদায়ও সেই মাসেই সেই লালদীঘির ময়দানে জানাযার নামাজের মাধ্যমে। একটি জীবন্ত ইতিহাস ছিলেন, এখন প্রয়াত হয়ে মুজিব সেনাদের অনুপ্রেরণা জাগাবেন।

“এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী”, নানান বিশেষণে ঢাকা এই নামটির মাঝে একজন অতি সাধারণ মানুষের সাদামাটা জীবন লুকিয়েছিলো, লক্ষ্য ছিলো তার আদর্শিক পিতার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালনের চেষ্টা করার। কোনো চাওয়া পাওয়ার জীবন তার ছিলোনা।

পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে শিয়ালদহ স্টেশনে সাধারণ শ্রমিকের জীবন থেকে, পতাকা উড়িয়ে জনপ্রতিনিধির জীবন সবই তিনি দেখেছিলেন। কিছু নিয়েই তার আক্ষেপ ছিলোনা। সন্তান হিসেবে একটি কথা বলতেন সবসময়, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার জন্য জীবনবাজি রাখতে হবে, তাকে ছাড়া এই বাংলাদেশ মুখথুবড়ে পড়বে, মনে প্রানে এটি বিশ্বাস করতেন। তার নেত্রীও তাকে সেভাবেই দেখেছেন, মৃত্যুর পরে ছুটে এসেছিলেন।

প্রতিনিয়ত তার চিকিৎসার খবর নিয়েছিলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। জন্মিলে মরিতে হবে, এই চিরন্তন সত্যের কাছে তিনি আত্মসমর্পন করেন আত্মবিশ্বাসের সাথে।

আমি আজ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সকলের প্রতি, যারা চট্টলবীর “এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী’র” মৃত্যুবার্ষিকীতে তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করেছেন, প্রার্থনা করেছেন, তাকে স্মরণ করেছেন। সারা দেশে তার অসংখ্য সহকর্মী এখনো বেচে আছেন, তাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

এদের সকলের আত্মত্যাগ, বিসর্জন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দল থেকে পরিনত করেছেন একটি অনুভুতিতে। বিজয়ের মাসে সেই অনুভুতি, যার নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আমাদের সকলকে অনুপ্রানিত করে। এই দল, এই দেশ, এই মুজিব পাগল মানুষগুলোর প্রতি চিরঋণী হয়ে থাকবে।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।