আনোয়ারায় কেইপিজেডে ২০ শ্রমিক অজ্ঞান কর্তৃপক্ষের দাবি প্যানিক ডিসঅর্ডার
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড পোশাক কারখানার ২০ ও ২১ নাম্বার ফ্লোরে আনুমানিক ২০ জন শ্রমিক অজ্ঞানের ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞান হওয়া শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক কারখানার নিজস্ব হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ বুধবার (২৬ আক্টোবর) দুপুরে এঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি প্যানিক ডিসঅর্ডার জনিত কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
এতে কারখানার শ্রমিকেরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি করতে দেখা যায়। আবার অনেকেই কোন রকমে কারখানা থেকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে চলে আসেন। যারা বের হয়ে এসেছেন তাঁদের কেউ সহজে মুখ মুখছেন না।
কারখানার জুনিয়র অপারেটর পদের এক নারী শ্রমিক তসলিমা আক্তার (৩২) জানান, হঠাৎ কাজ করতে করতে অনেকেই ভেতরে মাথা ঘোরে পড়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কোরিয়ান ইপিজেড ইয়ংওয়ান কারখানার ২০ নম্বর ও ২১ নম্বর বিল্ডিংয়ে এ সমস্যা হচ্ছে। ইনচার্জরা ভেতরে কাউকে এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে যেতে দিচ্ছেন না। প্রথমে ২০ নম্বর বিল্ডিংয়ে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে আবার মেডিক্যালে পাঠাচ্ছে তাঁরা।
গত ৫ বছর ধরে কোরিয়ান ইপিজেড ইয়ংওয়ানে চাকরি করা আরেক নারী শ্রমিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ভেতরে অনেক রোগী। মাথা ঘুরে পড়ে আছে। কাউন্সিলরা কাউকে ভেতরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে দিচ্ছে না। দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। ওরা তথ্য গোপন করছে। পিছনের দরজা দিয়ে অনেক রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

কোরিয়ান ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান এর নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ (কেইপিজেড) অঞ্চলের এজিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে একজন নারী শ্রমিক মারা গেছেন ব্রেন স্ট্রোকে। আজকে আবার কয়েকজন শ্রমিক প্যানিক ডিসঅর্ডারে অজ্ঞান হয়েছেন। আতঙ্কিত হয়েছেন অনেকেই। তাঁদেরকে কেইপিজেড এর ডাক্তারেরা চিকিৎসা দিয়েছেন। পরে ডাক্তার সবকিছু দেখে চিকিৎসা দেওয়ায় স্বাভাবিক হয়েছে। শারীরিক কোন সমস্যা নেই বলে ডাক্তাররা জানালেন। এটা মূলত প্যানিক ডিসঅর্ডার।
এজিএম আরও বলেন, এসব শ্রমিকদের আবার বয়স কম। চাকরিতে যোগদান করেছে ৩ থেকে ৫ মাস আগে। আবার এমনও হতে পারে কয়েকদিন আগে একজন নারী শ্রমিক ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেছেন। এটা থেকেও আতঙ্কিত হয়ে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন