সেজেগুজে শীর্ষ সন্ত্রাসীর দাওয়াতে ইউএনও
সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করে সমালোচিত হওয়া ইউএনও মো. ইয়াছিন এবার ক্যাজুয়াল পোশাকে সেজেগুজে দাওয়াতে গেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর মেয়ের বিয়েতে। গত ৪ নভেম্বর দুপুরে জেলার চকরিয়াস্থ হক স্কয়ার কমিউনিটি নামক একটি ক্লাবে ভূরিভোজে অংশ নেন তিনি। ঐ সময় সন্ত্রাসী ফজল কাদেরের সাথে সৌহার্দপূর্ণ এক ফ্রেমে ছবিও তুলেন দুজন। সমালোচনার পুরনো রেশ না কাটাতেই ফের নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেন ঐ বিতর্কিত ইউএনও।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, মারামারি, হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ অসংখ্যা মামলায় দীর্ঘ দিন কারাভোগ করেছেন মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটার মহুরী ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ হোছাইনের পুত্র ডাকু খ্যাত ফজল কাদের।

গত ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চকরিয়া উপজেলা থেকে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২১ রাউন্ড কাতুর্জসহ ১১ মামলার আসামী মহেশখালীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল কাদেরকে গ্রেফতার করে র্যাব—৭। ফজল কাদের মহেশখালী ও চকরিয়া থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজী—সহ ১১টি মামলার আসামি।
এদিকে ক্যাজুয়াল পোশাকে শীর্ষ সন্ত্রাসীর দাওয়াতে অংশ নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে একটি বার্তা লিখেন ইউএনও।
সে পোস্টে জেলা প্রশাসকের বাংলোতে দাফতরিক কাজে যাওয়ার পথিমধ্যে বরের ভাই এমএ হামিদের আমন্ত্রণে বিয়েতে অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়।
যদিও ৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১০টায় করা পোস্টটি পরে সরিয়ে নেয়া হয় পেজ থেকে। সে পোস্টে মহেশখালী থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ ফেরদৌস মহেশখালীর ডাকু খ্যাত ফজল কাদেরকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে খোঁজেও পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেন।
অপরদিকে প্রশ্ন থাকে-একজন সরকারি কর্মকর্তা ক্যাজুয়াল পোশাক পরিধান করে দাফতরিক কাজে যেতে পারেন কি-না? তথ্য বলছে-সরকারি অফিসে ক্যাজুয়াল পোশাক নিষিদ্ধ করে ফরম্যাল পোশাক পরতে নোটিশ জারি করে সরকার।
জেলা ম্যাজিস্টে্রটের জারিকৃত নোটিশে বলা হয়, সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের সতর্ক জানিয়ে কেউ যদি ড্রেস কোড লঙ্ঘন করে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর “ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো। কিন্তু বিতর্কিত ইউএনও মো. ইয়াছিন ফরম্যাল পোশাক পরিধান না করে বিতর্ক এড়াতে ক্যাজুয়াল পোশাকে দাফতরিক কাজে অংশ নেয়ার দোহাই দেন ফেসবুক পোস্টে।
এছাড়াও ফজল কাদেরের মেয়ের বিয়েতে অংশগ্রহণ নিতে ধলঘাটা থেকে ছুটে যান ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন