খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজাকারের তালিকা ষড়যন্ত্রের অংশ ও সকারের মনগড়া:নোমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
রাজাকারের তালিকা ষড়যন্ত্রের অংশ ও সকারের মনগড়া:নোমান

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়াম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা অংশ গ্রহণ করেছিলাম। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার দল। সরকার যদি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে রাজাকারের তালিকা করতো তা হলে কোনো ধরনের অভিযোগ থাকতো না। এই রাজাকারের তালিকা সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ। রাজাকারের তালিকা সকারের মনগড়া।

সমাবেশে তিনি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলেও মানবিক হবে, এটা আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু এটা হয়নি। নির্বাচন যেমন ৩০ তারিখের টা ২৯ তারিখ হয়ে গেছে। আজকে বিজয় দিবসও ১৬ তারিখের পরিবর্তে ১৭ তারিখে পালন করতে হচ্ছে আমাদের। এটা আমাদের নয়, জাতীয় লজ্জার বিষয়। বিএনপিকে যথা সময়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পালন করতে দিচ্ছে না এ সরকার।

আজকে যদি বিজয় বিদবসের র‌্যালি বিজয় দিবসের দিন করার অনুমতি দিতেন, তাহলে সকলের সাথে বিজয় দিবসের আনন্দ ভাগাভাগি করা যেতো। বিজয় দিবস কোন একক দলের নয়।

তিনি আজ ১৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কাজীর দেউরী মোড়ে বিজয় দিবসের র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন।

এতে তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে মিছিল করার অনুমতি প্রদান করে না প্রশাসন। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে এমন কি এরশাদ সরকারের আমলেও প্রশাসন বাস্তব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। এখন এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না তারা। আমাদের মিছিলে পুলিশের হুমকি ধমকি দেখি। আমাদের সময় দেয়া হয় মাত্র ৫ মিনিট। ৫ মিনিটে কি একটা বিজয় মিছিল করা যায়?

তিনি বলেন, প্রথম বাংলাদেশ গান গাইতে শহীদ জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। শেষ বাংলাদেশ বলতে বলতে আমাদের সামনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শাহাদত বরণ করেছেন। তার আদর্শেআমরা উজ্জ্বীবিত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। তিনি যতদিন মুক্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলতে থাকবে। দেশনেত্রীকে জেলে রেখে দেশের সংকট দূর হবে না। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করছি। আমাদের নেতাকর্মীরা সুশৃংখলভাবে এখন সে লড়াইয়ে অবতীর্ণ। ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় সমাবেশে ডা. শাহাদাত বলেন, মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় দিশেহারা জাতি মুক্তিযুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছিলো। আজকের এই বিজয় মিছিল প্রমাণ করেছে চট্টগ্রামের মাটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার ঘাঁটি। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। বিজয়’র এই দিনে আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।

কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বিনা ভোটের নির্বাচনে নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করে পেশীশক্তির জোরে দেশ চালাতে গিয়ে সরকার সম্পূর্ণ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। তারা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, শাসনক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে জনগণের সমর্থন বা ভোটের প্রয়োজন নেই। আর এ কারণেই দেশ পরিচালনায় অবৈধ সরকারের নির্মম আচরণ দেশকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষকের হাতে গড়া দল। এই দলকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। মিছিল মিটিং বন্ধ করে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না। আওয়ামীলীগ যদি লালদীঘির মাঠে সমাবেশ করতে পারে তাহলে বিএনপি কেন পারবে না? আগামীতে আমরা লালদীঘির মাঠে সমাবেশ করতে চায়। আশাকরি সরকার জনগণের মনের ভাষা বুঝে বিএনপিকে লালদীঘির মাঠে সমাবেশ করতে সহযোগিতা করবে।

র‌্যালী ও সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ, মহিলা দলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফাতেমা বাদশা, সি: যুগ্ম সম্পাদক ছকিনা বেগম, স্বেচ্ছাসেবকদলের সি: সহসভাপতি তফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, মৎস্যজীবি দলের আহবায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্যসচিব এড. আবদুল আজিজ, শমিক দলের সভাপতি তাহের আহমেদ, নগরীর ১৫ টি থানা ও ৪৩ টি ওয়ার্ড ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে অংশ গ্রহণ করেন।

র‌্যালী ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সামশুল আলম, এড. আবদুস সাত্তার, হাজী মোহাম্মদ আলী, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, এস এম আবু ফয়েজ, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু, শাহেদ বক্স, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, কামরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মুবিন প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।