খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনে আরো প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০২২, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনে আরো প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সাফল্য অর্জনের লক্ষে আরো প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের জয়লাভের মনোভাব নিয়ে খেলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের জন্য আমাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আরও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে তাঁর কার্যালয়ে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২২’ শিরোপা জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। সব সময় এটা মাথায় রাখতে হবে। খেলার মাঠেও মাথায় রাখতে হবে যে যুদ্ধে জয় করেছি, খেলায়ও জয়ী হবো।’

‘এই চিন্তা নিয়ে সবাইকে চলতে হবে। তাহলেই সাফল্য আসবে। কারণ, মনোবল এবং আতœবিশ্বাস একান্তভাবে দরকার। আর সব সময় প্রশিক্ষণও দরকার,’ বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ কোনমতেই শিথিল করা যাবে না। যত বেশি প্রশিক্ষণ হবে তত বেশি খেলাধুলায় উৎকর্ষতা বাড়বে।

নিজের পরিবারের সদস্যদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব সময় এটা মনে করি যে, খেলাধুলা আমাদের অপরিহার্য্য। আমার আব্বা ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবে খেলতেন, আবার আমার ভাই শেখ কামাল সে ও খেলতো, সবাই বিভিন্ন টিমের সঙ্গে জড়িত ছিল।

তিনি বলেন, কাজেই আমি এটা মনে করি যে, আমাদের ছেলে মেয়েরা যতবেশি খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে, সংস্কৃতি চর্চার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে,সাহিত্য চর্চা করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি এগুলো একান্তভাবে দরকার। শারীরিক, মানসিক সব দিক থেকেই আমাদের তরুণদের একটা আলাদা মানসিকতা ও দেশপ্রেম গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক এবং ১১ জন প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রত্যেকের হাতে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে খেলোয়াড়রা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২২’ এর ট্রফি তুলে দেন এবং ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারের আজ জন্মদিনে তার ওপর রচিত ‘ আহসানউল্লাহ মাস্টার জীবনালেখ্য’ নামক একটি গ্রন্থেরও মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহ উদ্দিন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২২’-এর উপর একটি ভিডিও-ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

সরকার প্রধান অভিভাবকদের প্রতি তাদের সন্তানদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বাইরে খেলার জন্য সময় দেয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি সকল বিশেষ করে যুবকদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যকর্মে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে বলেন যা তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হতে সাহায্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া সেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন ২০১১’ প্রণয়ন করে একটা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ফাউন্ডেশনকে করোনাকালীন ৩০ কোটি টাকা দিয়েছিলাম। মোট ৪০ কোটি টাকার সীড মানি দেওয়া হয়েছে। আমি আরো ২০ কোটি টাকা দেব।

এ ফাউন্ডেশন থেকে সমস্যাগ্রস্ত খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাউন্ডেশন থেকে যারা আমাদের খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত অনেক সময় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে অথবা তাদের কোনরকম অসুবিধা দেখা দেয়, বয়স হয়ে গেলে বাড়িতে তাদের কোন কিছু করার থাকে না, সেখানে ফাউন্ডেশন থেকে সহযোগিতা করা যায়। আবার এই ফাউন্ডেশন তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য অনেক কাজও করতে পারে।

খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের যারা বিত্তশালী আছেন তাদেরকে বলবো এসব জায়গায় তারা যেন আরো সহযোগিতা করেন। তাছাড়া প্রত্যেকটা ব্যবসায়ী ইন্ডাস্ট্রির মালিক বা অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরকে আমি আহ্বান জানাই প্রত্যেককে যেন আমাদের খেলোয়াড়দের চাকরি দেন, কাজ দেন। আমি মনে করি খেলোয়ারদের কোন একটা কাজ দিয়ে উৎসাহিত রাখা উচিত।

তিনি বলেন, যারা খেলাধুলা শেষ করে এখন ব্যবসা করে বেশ টাকা-পয়সার মালিক হচ্ছেন তাদেরতো উচিত এদিকের প্রতি আরও বেশি করে খেয়াল রাখা।

সরকার প্রধান বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতা অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালেই জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করেন এবং ১৬টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন অনুমোদন করেন। ১৯৭৪ সালে আরও ১৮টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে অনুমোদন দেন। ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অ্যাক্ট’ পাস করে আজকের ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ’ গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ আগস্ট ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী ও সংস্কৃতিসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ অনুমোদন দেন।

গত ১৪ বছর ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সফলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে মোট ৪৮৫টি স্বর্ণ, ৪৯৯টি রৌপ্য, ৫৯৫টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে; এবং ১১৪ বার চ্যাম্পিয়ন, ২৬ বার রানার্স আপ ও ২২ বার তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথমবার স্বর্ণপদক পেয়েছে। ২০২২ সালের মার্চে ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপ-এ বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল ওমান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, সিঙ্গাপুরকে পরাজিত করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কাবাডি দল কেনিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২১ সালের মে মাসে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ান-ডে সিরিজ জয় করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার তৃণমুল পর্যায়ে খেলাধুলার বিকাশে প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি এবং প্রতিটি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মান করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে দেশের অবশিষ্ট ১৭৩টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলমান। ইতোমধ্যে কাবাডি ও ভলিবল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন, ১৩টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ, সারাদেশে ৫৬টি স্টেডিয়াম, ৮টি সুইমিংপুল, ৬টি সুটিং রেঞ্জ,৭টি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

২৪ঘণ্টা/এনআর

Feb2

রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনে তাগিদ দিয়ে আসছে। যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উত্সাহিত করাই বিশ্ব রক্তদান দিবসের উদ্দেশ্য।

১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তি, যার শরীরের ওজন ৪৫ কেজির ওপরে, তারা চার মাস পরপর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্ত দিতে হলে কিছু রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তদাতার শরীরে কমপক্ষে পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের অনুপস্থিতি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। এ রোগগুলো হলো হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, এইচআইভি বা এইডসের ভাইরাস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস। রোগের স্ক্রিনিং করার পর এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকলেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে দেওয়া যাবে। অবশ্য একই সঙ্গে রোগীর এবং রক্তদাতার রক্তের গ্রুপিং ও ক্রসম্যাচিং করাটাও জরুরি। এছাড়া রক্তদাতা শারীরিকভাবে রক্তদানে উপযুক্ত কি না, তা জানার জন্য তার শরীরের ওজন, তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতার উপস্থিতি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়।

রক্ত মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে পূর্ণমাত্রায় রক্ত থাকলে মানবদেহ থাকবে সজীব ও সক্রিয়। আর রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিলেই শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়ে। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরি হয়, ফলে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। এতে যে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে। রক্তদানের সময় রক্তে নানা জীবাণুর উপস্থিতি আছে কি না তার জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। ফলে রক্তদাতা জানতে পারেন, তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভুগছেন কি না। অনেক সময় রক্তদাতার শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। যাদের রক্তে আয়রন জমার প্রবণতা আছে, রক্তদান তাদের জন্য ভালো।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিলকে টপকাল স্কটল্যান্ড

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল স্কটল্যান্ড। বিপরীতে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে। যেখানে ২৮ বছর পর খেলতে নামা স্কটিশরা ৩৬ বছর পর মেগা ইভেন্টে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। এমনকি ‘সি’ গ্রুপের শক্তিশালী দুই দল ব্রাজিল-মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন স্কটল্যান্ড।

আজ (রোববার) ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে জন ম্যাকগিনের গোলে হাইতিকে ১-০ গোলে হারাল ইউরোপীয় দেশটি। যদিও ২৮তম মিনিটে ম্যাকগিনের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডকে পরাস্ত করে আসে স্কটল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি।

১৯৯০ সালের পর স্কটিশরা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছে। অবশ্য মাঝে তারা বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি ২৮ বছর। শেষবার তারা সুইডেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে হাইতি। তবে এখনও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

স্কটল্যান্ডের হয়ে ম্যাকগিনের গোলটি আসে বক্সের ভেতরে চে অ্যাডামসের মিস করা শট থেকে। বলটি হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিডের গায়ে লেগে ফাঁকা জায়গায় চলে যায়। ১৩ গজ দূর থেকে ম্যাকগিনের নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। এর আগে অবশ্য ম্যাচের ১৭তম মিনিটেও গোলের খুব কাছে ছিল স্কটল্যান্ড। অধিনায়ক স্কট ম্যাকটমিনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে শট নেন, তবে সেটি পোস্টের উপরের অংশ ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়।

হাইতি কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে দ্বিতীয়ার্ধে। ৭৪তম মিনিটে রুবেন প্রভিডেন্সের ক্রস থেকে উইলসন ইসিডর বল জালে পাঠানোর চেষ্টায় সফল হতে পারেননি। এরপর ৮৪তম মিনিটে ফ্রান্টজডি পিয়েরোর হেড অল্পের জন্য বাম পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

আগামী ২০ জুন পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ড জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে। একইদিন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল।

প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
প্রথম ম্যাচেই হোঁচট, ড্রয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের।

নেইমারকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামা ব্রাজিল শুরুতে ছিল ছন্নছাড়া। অন্যদিকে শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। আর ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে তারা।

ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়েও যান মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।

মরক্কোর শুরুর দাপট সামলে ক্রমেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের দেওয়া লফটেড পাসে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়েও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

এদিকে ব্রাজিল কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক এমন সময় ম্যাচের ২১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে এগিয়ে যায় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের দেওয়া চমৎকার এক পাসে বল পেয়ে ব্রাজিলের জাল কাঁপান মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি।

অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলের। ঠিক ১১ মিনিট পর দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন তিনি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিয়ুসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল।

১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল রক্ষণ আগলে বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় কিছুটা ম্লান ছিল মরক্কো। এ সময় ব্রাজিলই বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করে। যদিও ৯৯ মিনিটে তাদের রক্ষণে কিছুটা ভয় ছড়ায় হাকিমির দল। যোগ করা সময়ে (৯৯ মিনিট) মরক্কো মিডফিল্ডার এল আয়নাউয়ির দুরপাল্লার শট ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার না ঠেকালে ফল ভিন্ন হতে পারত।

কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকেও হয়তো বিশ্বকাপের যাত্রায় পয়েন্ট হারাতে হতো। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় ‘সি’ গ্রুপের দুই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও ‘আফ্রিকান ব্রাজিল’ মরক্কোকে।