স্বামীকে হত্যা করে মেডিকেলে লাশ রেখে পালালো স্ত্রী খুনিদের ফাঁসি চেয়ে অমরণ অনশনে পরিবার
ছবি ক্যাপশন: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনরত নিহত নুর উদ্দিনের পরিবার।
চট্টগ্রাম চন্দনাইশের দুবাই প্রবাসী নুর উদ্দিনকে কৌশলে প্রেমর ফাঁদে ফেলেন জোবাইদা নাহার চম্পা। পরে সংসারও হয় ৫—৬ বছর। অথার্ৎ নুর উদ্দিন দুবাই থাকাকালীন যতদিন টাকা খোঁয়াতে পেরেছেন ততদিন ছিল সংসার জীবন, বলা চলে অনেকটা নাটকীয় সংসার। ২০২১ সালের দিকে নুর উদ্দিন দেশে আসলে জোবাইদার শুরু হয় মাথা ব্যথা। সংসারিক জীবনের সাড়ে ৫ বছরে জোবাইদা হাতিয়েছেন নুর উদ্দিনের প্রায় ৪০ লাখ টাকা। সবশেষ গত ২ আগস্ট কথিত স্ত্রী জোবাইদার পরিবার মিলে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে নুর উদ্দিনকে। ঘটনার পর চমেক হাসপাতালে নুর উদ্দিনের লাশ ফেলে পালিয়ে যায় কথিত স্ত্রী জোবাইদা ও তার পরিবার।
বর্বরোচিতভাবে নির্যাতনের শিকার নুরউদ্দীন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন নিহত নুরউদ্দীনের মা সায়েরা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা। আজ শনিবার (১২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকে অনশনে বসেছেন তাঁরা। হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি সম্বলিত স্লোগান লেখা বিভিন্ন ফেস্টুন প্রদর্শিত করেছেন তাঁরা।
নিহতের মা সায়েরা বেগম বলেন, আমার বুকের ধন ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে খুনিরা। এ আমরণ অনশন আমার সন্তান নুরউদ্দীন হত্যাকারী খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখামুখি না করা পর্যন্ত আমাদের পরিবারের অনশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মইনউদ্দিন বাদি হয়ে জোবাইদা নাহার চম্পা (২০), বউয়ের বোন বেবী আক্তার (৪০) এবং তার স্বামী নজরুল ইসলাম (৪৫), ইয়াছমিন আক্তার (৪০) মো. মোরশেদ (৩২), মো. মনজুর (২৮), তাদের বাড়ি মধ্যম জামিরজুরি, ডাক্তার নুরুন্নবী—সহ আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
নুরউদ্দীনের মা সায়েরা বেগম আরো জানান, চট্টগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউপির চিড়িংঘাটার নুরউদ্দীনকে হত্যা করে স্ত্রী ও তার শশুড় বাড়ির লোকজন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে এসে গ্রামের বাড়ীতে লাশ দাফন করি।
নিহতের মা সায়েরা বেগম আরো বলেন, আমার সন্তান বিদেশ থাকা অবস্থায় খুনি চম্পার খালাতো বোনের জামাই নজরুলের সাথে পরকিয়াতে জড়িয়ে স্বামী স্ত্রীর মত জীবন যাপন করতে থাকে। আমার সন্তান চম্পার পরকিয়ার বিষয়টি জানতে পারার পর দেশে ফিরে আসে।
মহামারী করোনার সময় দেশে তেমন কোন চাকরি না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়ে। ফলে স্বল্প পরিসরে ব্যবসা করার জন্য স্ত্রী জোবাইদার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চায় স্বামী নুর উদ্দিন। টাকা না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে স্ত্রী জোবাইদা। এর মধ্যে আমার সন্তানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পনা করে খুনি চম্পা ও তার দুলাভাই আসামী নজরুলসহ পরিবারের লোকজন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় মামলা করি আমরা, কিন্তু মামলায় আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। আমি উক্ত বিষয়টি মাননীয় পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ মহোদয়কে অবহিত করেছি।
এর মধ্যে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মামলার বাদী আমার সন্তান মইনউদ্দিনকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে খুনিরা। আমারা পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ মুহূর্তে আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন