সাবেক কাউন্সিলর লুটেছে সাত লাখ
মিথ্যার ঝুলিতে চসিকের উন্নয়ন
উন্নয়ন বন্ধ রেখেছে বর্তমান কাউন্সিলর
চট্টগ্রাম সিটি কপোর্রেশনে আকবরশাহ মাজারের পূর্বদিকে শহীদ স্মরণী আবাসিক এলাকা। ৯নং ওয়ার্ড এ ২নং রোডের ইট সলিং রাস্তাটির মেয়াদ ১২ বছর পার হয়েছে। কিন্তু পিচ ঢালাই হচ্ছে না অদৃশ্য কারণে। সড়ক নিমার্ণ বিধিমালা অনুযায়ী ইট সলিংয়ের মাত্র তিন বছর পার হলেই পিচ ঢালাই করার কথা সিটি কপোর্রেশন। কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমকে বারবার বলার পরও কোন পদক্ষেপই নেয়নি কাউন্সিলর।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালের নিবার্চনী ইশতেহোরে এই রাস্তাকে ইট সলিং দেখিয়েছে বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম। আবাসিক এলাকার এই রাস্তাকে সিসি ঢালাই করার জন্য সাবেক কাউন্সিলর সাত লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েছেন সিটি কপোর্রেশনের প্রকৌশল বিভাগ থেকে। তাহলে কি এই রাস্তার উন্নয়নে টেন্ডার হয়নি বা নাকি আত্মসাৎ করেছেন এমন প্রশ্ন এলাকাবাসির।
আরো অভিযোগ রয়েছে, এ সড়কে একটিও সড়ক বাতি নেই। প্রায় সাড়ে তিনশ’ ফুট দৈর্ঘ্য এ সড়কে রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করে। অনেকটা গ্রামের মানুষের মতোই এলাকাবাসি টর্চ লাইট নিয়ে ঘোরে সন্ধ্যার পর থেকেই। রাতের এই আধাঁরকে কাজে লাগিয়ে ভূমিদস্যু নুরুজ্জামান পাহাড় ও টিলা কেটে ভাড়া বাণিজ্য গড়ে তুলতে কাঁচাপাকা ঘর নিমার্ণ করেছে। নিম্ন আয়ের লোকজন এসব ঘরে থাকছে। সরকারী পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে ভাড়া বাণিজ্য গড়ে তুললেও জেলা প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এদিকে, এসব ভূমিদস্যু সিটি কপোর্রেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স হোল্ডিং ট্যাক্সও কখনো পরিশোধ করেনা।
এ ব্যাপারে সিটি কপোর্রেশনের এক সাবেক কাউন্সিলর বলেছেন, বরাদ্দ নেওয়া হয় উন্নয়নের জন্য। উন্নয়ন না করা হলে তা কেন ইশতেহারে দিয়েছেন তা প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া উন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ করলে দুদকের জালে আটকা পড়বে।
অপরদিকে, পাহাড় কাটায় নগরীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদফতরের নাকের ডগায় এমন কর্মকান্ডে পাহাড় কেটে আবাসিক এলাকা নিমার্ণ করে তা প্রশ্নবিদ্ধ। তবে চসিক ও চউকের সমন্বয়হীনতার কারনে ভূমিদস্যুরা নগরীর খুলশী, বায়েজিদ ও আকবরশাহ থানা এলাকার পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা না গেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে চট্টগ্রামের নান্দনিক সৌন্দয্যর্।
১৯৯১ সালে প্রথম সিটি নিবার্চন হলেও সেই থেকেই মেয়র—কাউন্সিলরদের মিথ্যা বুলিকেই নগরবাসী স্বপ বানিয়ে ভোট দিয়ে এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্নগুলো বুলিতেই থেকে যায়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম ও আ জ ম নাসিরের মেয়াদকালে বষার্ মৌসুম ছাড়াও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে সয়লাব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। এখনও পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যার নিরসন হয়নি।
আরো অভিযোগ রয়েছে, নগরবাসির ভোগান্তির কারনকে সাইনবোর্ড বানিয়ে চসিকের ৬ষ্ঠ নিবার্চনেও মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বুলি আউড়িয়েছে। ২০২২ সালেও পানিবন্দি দশা থেকে মুক্তি পায়নি নগরবাসি। কসুমবাগ আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে ইস্পাহানি স্কুল পর্যন্ত নালায় পাহাড়ের মাটি ছাড়া আর কিছু নেই। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ না করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী মাটি পড়ে খাল ও নালা বন্ধ হয়ে আবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন