হাটহাজারীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে
মানুষ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে একটি যান্ত্রিক রিক্সা উল্কার মতো ধেয়ে আসছে সামনের দিকে। বাস সি এন জি-ট্রাক কিছুই মানছে না সামনের দিকে দুই পা তুলে রাজার হালে বসে হ্যান্ডেল ধরে আসছে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য কোন এক অজগাপাড়া গ্রাম থেকে ধরে এনে কোন রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই হাটহাজারীতে কয়েক শত যুবকের হাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দিয়েছে একশ্রেণীর মালিকরা। মালিকের দৈনিক ভাড়া জোগাড় করতে গলদগর্ম এইসব চালকরা নিয়ন্ত্রণের কথা না ভেবে যত দ্রুত সম্ভব একের পর এক ভাড়া মারতে প্রায় পাগলের মত ছুটে চলার ফলে প্রতিদিন ঘটাচ্ছে মারাত্মক দুর্ঘটনা কখনো পথচারীর উপর কখনো বাস-ট্রাক সিএনজি পিছনে ধাক্কা খেয়ে চালক যাত্রী দুজনে মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে অনেকেই।
এই ব্যবসা করতে গিয়ে মালিকরা প্রতিদিন চোরা বৈদ্যুতিক স্ংযোগ নিচ্ছে। এসব দেখতে অনুসন্ধানে জানা যায় হাটহাজারীতে যেন দিন দিন বাড়ছে এই সব ব্যাটারিচালিত রিকশা। উপজেলার সদর বর্তমানে তিন হাজারের বেশি ছেয়ে গেছে।
একটি কুচক্রী মহল পেডেল রিক্সায় মোটর লাগিয়ে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর এমনকি অনেকে কোটিপতি হয়েছে এসব রিক্সা পৌরসভার এলাকায় বেশি চোখে পড়ে তবে এসব রিক্সার কোন লাইসেন্স বা পৌর রাজস্ব নেই।
রাজস্ব বিহীন হাটহাজারী পৌর এলাকায় আনুমানিক তিন হাজারের অধিক এইসব ব্যাটারিচালিত রিকশা নির্দ্বিধায় চলাচল করলেও পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকি নেই।
এইসব রিক্সার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা টাকার লোভে এইসব রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন অনেকেই।
একেবারে পৌরসভার রাজস্ব ছাড়াই তিন হাজারের অধিক রিক্সার কিভাবে সম্পূর্ণ আদালতের আইন অমান্য করে অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে আবার এইসব অবৈধ রিকশা তৈরি কারখানা রয়েছে হাটহাজারীতে বেশ কয়েকটি প্রতিটি রিক্সার তৈরির কারখানা থেকে দৈনিক একটি রিকশা তৈরি হয়।
পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে একশ্রেণীর বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা তাদের নিজেদের পকেট ভারি করছে হাটহাজারী পৌরসভা কোন ট্যাক্স নিচ্ছে না এসব ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিকদের কাছ থেকে।
তবে শুরুতে ট্যাক্সির বিকল্প হিসাবে অনেক রোমাঞ্চকর অনুভূতি মনে করলেও দুই পা তুলে দ্রুত গতিতে চালাতে গিয়ে প্রায় সময় এইসব রিক্সা চিৎপটাং হয়ে প্রতিনিয়ত পরিবারের বোঝায় পরিণত করেছে অনেককে।
এমনকি বিভিন্ন হাসপাতালে অনেক নর নারী শিশু ও বৃদ্ধরা চিকিৎসা নিচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে কিছুটা বন্ধ করার কাজ শুরু হলেও শতশত রিক্সা বর্তমানে হাটহাজারীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
এতে করে হাটহাজারী বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন করে তীব্র যানজট। এসব ব্যাটারি রিক্সার কারণে সকাল বিকাল প্রতিদিনই তীব্র যান জট লেগেই থাকে আনাড়ি চালকদের কারণে।
এসব রিক্সা সড়কে সকালে আসে আবার রাতে চলে যায় ফলে দিনের আধাবেলা চার্জ দিয়ে তাকে হাটহাজারীর বিভিন্ন দোকান থেকে চোরা বিদ্যুৎ নিয়ে ।
এ ভাবে বিদ্যুৎ যাচ্ছে ব্যাটারি চালিত রিক্সার গুলোতে। কিন্তু সে হিসাবে হাটহাজারী পৌরসভা কোন রাজস্ব পাচ্ছে না । হঠাৎ করে কয়েক দিনের জন্য এই ব্যাটারি রিক্সা বন্ধ করলেও পরবর্তীতে সপ্তাহখানেক যেতে না যেতে আবারও চলাচল শুরু করে নির্দ্বিধায়।
হাটহাজারী পৌরসভার উদ্যোগে বেশ কয়েকবার এই অবৈধ ব্যাটারি রিকশা চলাচল বন্ধ করলেও পরবর্তীতে আবারও অজ্ঞাত কারণে এই রিকশা চলাচল শুরু করে দিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও কিভাবে, কার কুটির জোরে চলছে তাহা এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের বোধগম্য হচ্ছে না । বারবার এই অবৈধ ব্যাটারি রিকশা বন্ধ করলেও পুনরায় সপ্তাহখানেক পর আবারো
চলাচল করে হাটহাজারী পৌর এলাকায় যার ফলে প্যডেল রিকশাও কেউ বের করতে চাই না । প্রতিদিন হাটহাজারী কলেজ গেইট, বাস ষ্টেশন,
বাজার সহ গোটা হাটহাজারী সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয় । এই ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার মানুষ।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন