খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘পাকিস্তানই ভাল ছিল’ শ্লোগানদাতাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
‘পাকিস্তানই ভাল ছিল’ শ্লোগানদাতাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘যারা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ, পাকিস্তানই ভাল ছিল’ শ্লোগান দেয়, সেই বিএনপির হাতে কখনও দেশ নিরাপদ নয়। তারা দেশকে পেছনে নিয়ে যেতে চায়, পাকিস্তান বানাতে চায়।’

মন্ত্রী আজ দুপুরে নাটোর জেলা গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

ড. হাছান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ গ্রামগুলোতে শহরের সমস্ত সুযোগ সুবিধা পৌঁছে গেছে। আমরা শ্লোগান দেই ‘আমার গ্রাম আমার শহর, ডিজিটাল বাংলাদেশ’। আর বিএনপি শ্লোগান দেয় ‘আর নয় ডিজিটাল দেশ, টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ অর্থাৎ বাংলাদেশকে পেছনে পাঠাও। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে বলে- এই শ্লোগান আমাদের তারেক ভাইজান দিছে। আর মির্জা ফখরুল সাহেবও বলেন- পাকিস্তানই ভাল ছিল।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যে উন্নয়ন, অগ্রগতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ, বিএনপি এখান থেকে বাংলাদেশকে কয়েক দশক পেছনে নিয়ে যেতে চায়। যে পাকিস্তান বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তারা দেশটাকে সেই পাকিস্তন বানাতে চায়। যারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না, পাকিস্তানই ভাল ছিল বলে, তাদের হাতে আমরা দেশ তুলে দিতে পারি না। যারা বাংলা ভাইয়ের জন্ম দিয়েছিল, যারা নাটোরে মমতাজ ভাইকে হত্যা করেছিল, আবার সেই জনপদে আমরা ফেরত যেতে পারি না।’

মির্জা ফখরুল সাহেব ক’দিন আগে তাদের মনের কথা বলেছেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তারা না কি তারেক জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠন করবে। অর্থাৎ সব ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে চাঁদা আর টোল তোলার হাওয়া ভবনের তারেক রহমানকে না কি নেতৃত্বে আনবে। তার মানে আগে পাঁচশ’ জায়গায় বোমা ফেটেছে, এবার পাঁচ হাজার জায়গায় বোমা ফাটবে, আবার বাংলা ভাই হবে, মানুষকে টাঙ্গিয়ে রেখে মারতে মারতে হত্যা করবে, আবার ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা হবে। তারেক জিয়াকে আনলে এগুলো হবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘তারেক জিয়া মানুষের সামনে একটি আতংকের প্রতীক, গ্রেনেড হামলার প্রতীক, বোমা হামলার প্রতীক, বাংলা ভাইয়ের প্রতীক, তাকে দিয়ে তারা সরকার গঠন করতে চায়। এক বছর পর আবার নির্বাচন হবে। যদি আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় না আসে, তাহলে দুলু সাহেব না কি বলে গেছেন- সবার পিঠের চামড়া তুলে ফেলবে। অর্থাৎ তারা যদি ক্ষমতায় আসে, জনগণের পিঠের চামড়া তুলে ফেলবে। সুতরাং এ দেশের ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দেয়া যায় না।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা টানা ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় আছি। পৃথিবীর কোনো সরকার শতকরা একশ’ ভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারেনি, পারবে না। আমাদেরও ভুলত্রুটি থাকতে পারে, সেগুলো সংশোধন করে ভবিষ্যতে আরো সুন্দরভাবে স্রষ্টার কৃপায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম রমজান প্রধান বক্তা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন সম্মানিত অতিথি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, মো: শহিদুল ইসলাম বকুল এমপি, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ড. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমানকে সভাপতি এবং আব্দুল মতিনকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে গণমানুষের দল, এদেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের দল হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের কথা বলার জন্যই আওয়ামী লীগের জন্ম ১৯৪৯ সালে। যখন রাজনীতি ছিল বড়লোকদের হাতে, রাজনীতি ছিল ড্রয়িং রুমে বন্দি, রাজনীতি করতো জমিদারেরা, সেই রাজনীতিকে গণমানুষের কাতারে আনার জন্যই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে। তিনি বলেন, এদেশের সমস্ত অর্জনের সাথে আওয়ামী লীগের নাম জড়িয়ে আছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা’, ‘তুমি কে আমি কে- বাঙালি বাঙালি’ শ্লোগানের মাধ্যমে হাজার বছরের ঘুমন্ত বাঙালিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। তার ডাকে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকারের অধিনে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা এনেছে।’

ড. হাছান স্মরণ করিয়ে দেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয়, তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৯.৫৪ শতাংশ। আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি, কিন্তু ৯ শতাংশের বেশি অর্জন করতে পারি নাই। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে ১০ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যখন দেশ পুণর্গঠন করে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমাদের স্বাধীনতাকে হত্যার জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে বহুদূর এগিয়ে গেছে, পৃথিবীর সামনে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

২৪ঘণ্টা/এনআর

Feb2

মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন-সংক্রান্ত চিঠিতে, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি রোডে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান চালায় সিআইডির একটি দল।

একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও চলে অভিযান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্ত।

এ সময় তৃণমূল কর্মীরা গোয়েন্দাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে মমতার বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায় সিআইডির সদস্যরা। একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের কার্যালয়েও অভিযান হয়েছে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ও অন্যান্য বৈঠকের জন্য তারা দিল্লিতে আছেন। সেটা জানার পরও আজকের দিনে তাদের অনুপস্থিতিতে কেন সিআইডি তাদের বাসায় অভিযান চালাল সেটাই বিস্ময়কর।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন কয়েকজন বিধায়ক।

জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মামলা করেন বিধানসভার প্রধান সচিব। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি ও সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় সিআইডি।

এদিকে মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকে অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেবসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন।

গত কয়েক দিনে যেভাবে একের পর এক নেতা মমতার হাত ছাড়ছেন, তাতে দেবও একই পথে হাঁটছেন কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালোবাসা সারাজীবন থাকবে। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন ততদিন তার সঙ্গেই আছি।

দলের এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন তৃণমূলের আরেক দাপুটে নেতা ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। সোমবার গভীর রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে ডিম, টমেটো ও গোবর ছুড়ে মারে।

 

লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে রেলওয়ের একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলেজ রোড রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে এর একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পরপরই ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের সময় ময়মনসিংহ স্টেশনের আউটার এলাকায় একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনচ্যুত বগিগুলো দ্রুত উদ্ধার করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিনের সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোন কর্মকর্তার কারণে এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তাকে চিহ্নিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় তিনি সব ধরনের প্রকল্পের খরচ কমানোর এবং রেট সিডিউল একীভূত করার নির্দেশ দেন। এলজিইডি ও পিডাব্লিউডিসহ বিভিন্ন বিভাগের রেট সিডিউল আলাদা হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বিভাগের রেট সিডিউল একই কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে।

উন্নয়নের নামে গাছ কাটার বিষয়েও নিজের দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত, কিন্তু এখন ঢাকা-বগুড়া সড়কেও তেমন গাছ নেই। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি সব এলাকাকে শহর বানানোর পক্ষে নন, বরং গ্রামীণ পরিবেশ বজায় রাখাই তার পছন্দ। সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিনা কারণে গাছ কেটে ফেলা মানুষ হিসেবে তাকে ব্যথিত করে।

এদিনের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়), মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট, দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পটির জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত চার দিনের চীন সফরের আগেই এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) জিটুজি ভিত্তিতে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুসহ সংযোগ সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ স্টেশন, ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রক্রিয়া গতি পায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বছরভিত্তিক ব্যয়ের খাতও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ খরচ করা হবে।