সেবা সংস্থাগুলোর অর্থ বাণিজ্য
পাহাড়েই থাকতে চায় হতদরিদ্ররা
অবৈধ সংযোগই মূল সহায়ক
পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়া পর্যন্ত থাকারা ঝঁুকিপূর্ণ। অপরাধে জড়িত থাকা গ্যাস, বিদ্যুত ও ওয়াসার অসাধুদের কারণে আবাসস্থলগুলোতে অবৈধ সংযোগ অব্যাহত আছে। চট্টগ্রামে পাহাড়ের চূড়ায় এবং পাদদেশে থাকা পরিবারগুলোকে সরানো যাচ্ছে না এমন অভিযোগ জেলা প্রশাসনের। কিন্তু বিভিন্ন সেবা সংস্থাগুলোর সুবিধা পেয়ে পাহাড়ে থাকারা সরছে না বলে অভিযোগ সচেতনদের।
অভিযোগ উঠেছে, পাহাড়ে ঝঁুকিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের একটি চক্র। সরকারি পাহাড়কে দখলে রেখে ভাড়া বাণিজ্য গড়ে তুলতে এ ধরনের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে প্রভাবশালী মহল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক গড়ে তুলছে ঝঁুকিপূর্ণ আবাসস্থল। শুধু কাঁচাপাকা ঘরই নয়, ভিত্তিপ্রস্তর দিয়ে দ্বিতল ও ত্রিতল ভবনও গড়ে উঠেছে পাহাড়ের চূড়ায় ও মাস্তুলে।
লালখান বাজার এলাকার ওয়াসার ট্যাংকির পাহাড়ে যেমন ঝঁুকিপূর্ণ স্থাপনা অগণিত তেমনি চট্টগ্রামের ডিআইজির পাহাড় তথা জিলাপীর পাহাড়, ম্যাজিস্ট্রেট কলোনীসহ মতিঝর্না এলাকার প্রত্যেকটি পাহাড়েই রয়েছে ঝঁুকিপূর্ণ স্থাপনা।
কোন কোন স্থানে দুই থেকে আড়াই ফুট সরু গলি দিয়ে যাতায়ত এ এলাকার জনসাধারণের। অল্প ভাড়ায় থাকার সুবিধা থাকায় ঘনবসতিপূর্ন এ এলাকাটি ঝঁুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিবারগুলোর জন্য।
এদিকে, রাতের আঁধারে ও দিনের আলোতেও পাহাড়ের পাদদেশে, চূড়ায় এমনকি পাহাড় কেটে ঝঁুকিপূর্ণ অবস্থানে গৃহ নির্মাণ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা কোন ধরনের বাধা প্রয়োগ করছে না।
ফলে দুয়েক করে হাজারেরও ওপরে বসতিস্থাপন করা হয়েছে নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে থাকা মতিঝর্না ও ওয়াসার ট্যাংকির পাহাড় এলাকায়।
এদিকে, বায়েজিদের মিয়ার পাহাড় থেকে শুরু করে বাংলা বাজার ও এশিয়ান উইমেন ইউনির্ভাসিটির আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে শত শত ঝঁুকিপূর্ণ স্থাপনা।
এমন বক্তব্য নগরীর লালখান বাজারস্থ মতিঝর্না এলাকা ও বায়েজিদের মিয়ার পাহাড় এলাকায় অভিযানকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের।
মূলত একটি শ্রেণীর আশ্রয়ে প্রশয়ে দরিদ্র পরিবারগুলো কম ভাড়ার কারণে ঝঁুকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা স্থাপনায় মাথা গেঁাজার ঠাঁই নিয়েছে।
গৃহ নির্মাণকারী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনাসহ সেবা সংস্থাগুলোর অসাধুদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে ঝঁুকিপূর্ণদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ব্যবহারকারীরা বলছেন এসব সংযোগ বৈধ। কারণ তারা মাস শেষে ভূমির মালিক অথবা ঘরের মালিককে ভাড়ার সঙ্গে উপযোগ বিল পরিশোধ করছেন। কিন্তু অভিযানে নামলেই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ওই সকল সংস্থার অসাধুরা এসব সংযোগ অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়ে বিচ্ছিন্ন করছে।
পরক্ষণে আবার ব্যবহারকারীদের সংযোগ প্রতিস্থাপনে সহায়তা করার মত অপরাধ করলেও কর্তৃপক্ষ মাসোয়ারার কারণে নিশ্চুপ হয়ে আছে।
প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, নগরীর আকবর শাহ থানাধীন রেলওয়ে হাইজিং সোসাইটি এলাকায় রয়েছে রেলের মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে ৬ একর পাহাড়ী এলাকা। এখানেও কাঁচাপাকা ঘরের অভাব নেই।
একের পর এক গড়ে উঠছে ঝঁুকিপূর্ণ স্থাপনা। আবার সেখানেই ব্যবহার হচ্ছে গভীর নলকূপ থেকে পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাস সংযোগ সে সঙ্গে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যুত সংযোগেরও অভাব নেই।
পাহাড়ের চূড়ায় বিদ্যুতের খঁুটি গেড়ে অনেকটা মালার মত ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে মিটার। পিডিবির পক্ষ থেকে এসব মিটারের রক্ষণাবেক্ষণ করার বললেও মূলত এসব মিটার থেকে স্থাপনার দূরত্ব দেড়শ থেকে ২শ গজও রয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, স্থাপনায় মিটার প্রতিস্থাপন না করে বৈদ্যুতিক পুলের মধ্যে মিটার স্থাপনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যবহারকারীকে খঁুজে না পাওয়া। সরকারের রাজস্বহানি হলেও এসব স্থানে পকেট পুরছে বিভিন্ন সেবা সংস্থার অসাধুরা।
অপরদিকে, বায়েজিদ বাংলাবাজার এলাকায় পাহাড়কেন্দ্রিক স্থাপনাগুলো গড়ে তুলেছে ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমিতির নামে প্রভাবশালী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন। ভাড়ায় চলছে এসব কাঁচাপাকা স্থাপনা। মাস শেষে ভূমির মালিক ভূমির ভাড়া আদায় করেন কেয়ারটেকারের কাছ থেকে।
কেয়ারটেকার নিজ অর্থে কাঁচাপাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করছে মালিকের চেয়ে তিনগুণ। ফলে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণকারীর অভাব নেই। বায়েজিদের মিয়ারপাহাড়সহ এশিয়ান উইমেন ইউনির্ভাসিটি এমনকি চন্দ্রনগর পাহাড়েও ঝঁুকিপূর্ণ বসতির কমতি নেই।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন