হরিণ দেখে উচ্ছাসিত শিশু
পরিপাটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা
পেখম মেলছে সুন্দরী ময়ূর
চট্টগ্রামের একটি মাত্র চিড়িয়াখানা যা দেখতে সম্পূর্ণ পরিপাটি। অতীতে যা ছিল শূণ্য খাঁচায় আর প্রাণ যায় যায় প্রাণীর অবস্থানে পরিপূর্ণ একটি খোঁয়াড়ের মত আঙ্গিনা। সেই দিনের পরিবর্তন করতে গিয়ে প্রশাসনের একজনের ভূমিকাকে দেখছেন সচেতনরা।
বাঘ, হরিণ জেব্রাসহ পুরোনো খাঁচা পরিপূর্ণ হয়ে এখন চিড়িয়াখানায় নতুনের সমারোহ। আবার শিশুদের আকর্ষণ কাড়তে কিডস কর্ণার রয়েছে। আগতদের খোলামেলা পরিবেশে পদচারণায় গড়ে তোলা হয়েছে পরিপাটি আঙ্গিনা।
সিংহ-সিংহীর বিয়ের মত অবাক হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে এই দার্শনিক স্থানে। জেলা প্রশাসক সরাসরি এ চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধান করেন। ফলে ক্রমশ সুন্দর হচ্ছে চট্টগ্রামের একমাত্র চিড়িয়াখানা।

আগতরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে জেলা প্রশাসনের পরিচালনায় একটি মাত্র চিড়িয়াখানা হলেও ঢাকাস্থ চিড়িয়াখানা থেকে অনেক গুনে ভাল ও পরিবেশ রুচি সম্মত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে্যর অবয়বে গড়া চিড়িয়াখানাটি ক্রমশ আগতদের মন জয় করে সরকারের আয়বর্ধক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ফয়স’ লেককে বেসরকারি খাতে লিজ দেয়ায় প্রকৃতির ছোঁয়া হারাচ্ছে এই আঙ্গিনা। আবার এই লেকে চিরসুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হারিয়েছে দর্শনার্থীরা।
কারণ দর্শনার্থীদের অর্থ ক্ষমতার মধ্যে নেই লেকে প্রবেশাধিকার। জনপ্রতি ২’শ ৫০ টাকা থেকে সাড়ে ৪’শ টাকা পর্যন্ত নেয়ার রেকর্ড রয়েছে কনকর্ড এমিউজমেন্ট পার্ক কতৃর্পক্ষের।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক এম এ মান্নানের সার্বিক তত্ত্ব¡াবধানে চট্টগ্রামের ফয়’স লেক এলাকায় গড়ে উঠে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। তবে ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন আসার পর থেকে পরিবর্তন এসেছে অত্যধিক।
বর্তমানে প্রায় ১০০ প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে এই চিড়িয়াখানায়। পক্ষীশালাসহ এ চিড়িয়াখানাটিকে মান সম্মত করে তুলতে বিভিন্ন প্রাণীর সমাগম ঘটানো হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেরই পদচারণা রয়েছে এই চিড়িয়াখানায়।
পাহাড় বেষ্টিত এই চিড়িয়াখানাটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়া। দর্শনার্থীরাও উপভোগ করছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় লাখের কাছাকাছি দর্শনার্থী এই চিড়িয়াখানায় আসছেন।
প্রতিমাসেই এখন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী লাখ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে এই চিড়িয়াখানায়। তবে ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা তিন গুনেরও বেশি হয়। জনপ্রতি মাত্র ৩০ টাকা নেয়া হচ্ছে পরিদর্শনের জন্য।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন