চট্টগ্রাম এখন ব্যানার ফেস্টুনের শহর
পলোগ্রাউন্ডের শতবর্ষী গাছ প্রচারণার স্তম্ভ
নেতাকমীর্দের প্রচারণায় উচ্চাভিলাস
আর মাত্র ১০ দিন। আওয়ামী লীগের মহা সমাবেশ হবে চট্টগ্রামে। ভরে উঠবে চট্টগ্রামের রেলওয়ে স্টেডিয়াম। তবে পলোগ্রাউন্ড মাঠে এমন আয়োজন হয়েছিল ২০১২ সালে। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আয়োজনের মধ্যমণি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের উন্নয়ন আর পর নির্ভশীলতা এড়িয়ে কিভাবে দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন সেই বাস্তবতা জানাবেন দেশবাসীকে। সভাস্থলে যাওয়ার পথেই সিআরবি’র নান্দনিক সড়কে থাকা শতবষীর্ একাশি আর করৈই গাছগুলো ব্যানার ফেস্টুনে সুসজ্জিত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, পুরো নগরী এখন সাজ সাজ রব। আইল্যান্ড আর হাইল্যান্ড সবই রংয়ের তুলিতে চকচক করা হচ্ছে।
এমনকি রোড ডিভাইডারগুলোর চেহারাও পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে গাড়ী ঘোরানোর প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ব্যবহার করা সিসি পোর্টএ্যাবল ডিভাইডারগুলোর চেহারাও পরিবর্তন করা হয়েছে রং করে।
বিশেষ করে ষোলশহর থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত মাঝপথে টাইগারপাস থেকে জিরো পয়েন্ট তথা নিউমার্কেট পর্যন্ত রাস্তার আইল্যান্ড ও ফুটপাত নানা রঙ্গে রঙ্গিন করা হয়েছে। টাইগারপাস মোড়ে থাকা বাঘের ভাষ্কর্য রং তুলিতে পরিপূর্ণ করে সৌন্দয্যের্র বিকাশ ঘটানো হচ্ছে।
নগরী ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের এই মহা সমাবেশকে ঘিরে তৃণমূল পযার্য়ের কমীর্ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা নিজ নিজ নামে ও নেতাদের পক্ষ নিয়ে গাঁটের টাকা খরচ করে ব্যানার, ফেস্টুন আর প্রচারণায় ভরে দিয়েছে।

এসব ব্যানার ও ফেস্টুনে স্থান পাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। এরপর কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবির নিচেই প্রচারকের ছবি প্রকাশ পাচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও চট্টগ্রাম বিভাগের মন্ত্রী এমপিদের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে এসব ব্যানারে। ‘শুভেচ্ছা স্বাগতম—প্রধানমন্ত্রীর আগমন’ এমন শুভে”্ছার ফুলঝুড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে ব্যানার আর ফেস্টুন।
নেতাকমীর্রা তৃণমূল পর্যায়ের কমীর্—সমর্থকদের ছবি স্বম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন ছাপানো শেষ। বিভিন্ন পিকআপে করে এসব লাগানো হচ্ছে পাহাড়তলী এলাকায় বিভিন্ন ভবনের বাউন্ডারীতে, জিইসি এলাকায় ফ্লাইওভারে যেন আর জায়গা নেই।
বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, কর্ণফুলী, মইজ্জারটেক মোড়ে মোড়ে বাঁশের স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। চকবাজার, গণি বেকারী, জামালখান, চেরাগীপাহাড় যেন ব্যানার ফেস্টুনে আচ্ছাদিত হয়ে গেছে। বিশেষ কেও আন্দরকিল্লা,
লালদিঘী, নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, কদমতলী, টাইগারপাস এলাকায় ব্যানারে ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। লালখানবাজার,আন্দরকিল্লা, চকবাজার ও অলংকার এলাকায় ব্যানার লাগানোর আর জায়গা নেই।
এদিকে, এলাকা ভিত্তিক ডিজিটাল প্লাস্টিক সাইনের দোকান থেকেই এসব ব্যানার ছাপানো হচ্ছে রাতে দিনে। নেতাকমীর্দের খুশি রাখতে নগরব্যাপী ক্ষুদে কমীর্রা নেতাদের দারস্থ হচ্ছে নজরে থাকার জন্য।
নগরীর প্রবেশদ্বার সিটিগেট থেকে শুরু করে চারিদেকে ব্যানার ফেস্টুনে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নামও উঠে এসছে। নগরীর এ কে খান, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, বাদামতল, আগ্রাবাদ, বারিকবিল্ডিং এলাকায় বাণিজ্যিক ভবনগুলোর উপরেও ব্যানার লাগানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের নজর কাড়তে।
কাস্টমস, সল্টগোলা, সিমেন্ট ক্রসিং, নারিকেলতলা, কাঠগড় এলাকায় পোশাক শিল্প জোনও বাদ পড়েনি প্রচারণার স্থান থেকে। পতেঙ্গার বঙ্গবন্ধু টানেল মোড়, ড্রাইডক ও এয়ারপোর্ট মোড়ে বাঁশের খঁুটিতে বিশালাকার ব্যানার লাগানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গী বিশেষ বিমানে এলে বিমানবন্দর ব্যবহার করবেন এমন প্রত্যাশায় ব্যানার ফেস্টুনে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে ব্যাংকক সিঙ্গাপুর মার্কেট, লাকি প্লাজার মোড়ে, বড়পুল ও বন্দর আবাসিক এলাকার সামনে ব্যানার লাগানো হচ্ছে জায়গা পেলেই।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন