৪৬ ভরি স্বর্ণ ও ৩০ লাখ টাকা উদ্ধার : রাউজানে ডাকাত চক্রের ৭ সদস্য আটক
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ সরোয়ার চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭ একটি চৌকষ টিম। ঘটনার ২৩ দিনে গত ২১ নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং স্বর্ণবিক্রির ৩০ লাখ ১ হাজার ৬শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মুসা, সাইদুল ইসলাম প্রকাশ সাইফুল, খোরশেদুল আলম, সাজ্জাদ হোসেন, মো. বাপ্পি, সজল শীল, মো. ইদ্রিস প্রকাশ কাজল এবং জুয়েলারি দোকানি বিপ্লব চন্দ্র সাহা।
আজ ২২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে কর্নেল এম এ ইউসুফ।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, গত ২৭ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ সরোয়ার চৌধুরী (৩৫) ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন।
পরের দিন ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে মামাতো বোনের বিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সে সময় পরিবারে প্রবাসী সরোয়ারের বৃদ্ধ বাবা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতে একদল ডাকাত তার ঘরে হানা দেয়। এ সময় প্রবাসী সরোয়ারের পাকা ঘরের পিছনের লোহার জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে তার বৃদ্ধা বাবাকে কম্বল দিয়ে চেপে ধরে চোখ-মুখ ও হাত-পা বেঁধে গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে নেয়।
এ সময় আলমারিতে থাকা ৭০ ভরি স্বর্ণ, ৫ লাখ টাকা, ৫টি দামী মোবাইল সেট ও ১টি ট্যাব লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। ঘটনার পর গত ৯ নভেম্বর প্রবাসী মোহাম্মদ সরোয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি ডাকাতি মামলা রুজু করেন।
পরে বিষয়টি র্যাব-৭ কে অবহিত করা হলে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র্যাব-৭ এর একটি টিম।
গত ২১ নভেম্বর সোমবার বিকেলে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের রাউজানের দক্ষিণ গহিরা সিবের ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে মো. মুসা নামে ডাকাত দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
গ্রেফতারকৃত মুসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব কোতোয়ালী ঘোনার দলই নগরের একটি বাড়ি থেকে ডাকাত দলের আরেক সদস্য সাইদুল ইসলাম প্রকাশ সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেফতারকৃত ডাকাত চক্রের দুই সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় র্যাবের অভিযানে ডাতাত দলের আরও ৫ সদস্য গ্রেপ্তার হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গ্রিল কাটার, ছোরা, টর্চ-লাইটসহ ৪৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং স্বর্ণবিক্রির ৩০ লাখ ১ হাজার ৬’শ টাকা উদ্ধার করা হয়। এবং ডাকাতির সময় লুট হওয়া স্বর্ণালংকার কেনায় বিপ্লব চন্দ্র সাহা নামের এক জুয়েলারি দোকানিকেও গ্রেপ্তার করে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল এমএ ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
জুয়েলারি দোকানি বিপ্লব চন্দ্র সাহাও আসামীদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকারগুলো কেনার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাউজান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করেও রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুনের মুঠোফোনের সংযোগ না পাওয়া তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন