আমলাদের দূর্নীতির নীলনক্সা
তালিকার বাহিরে ৬১৬ ওয়াকফ্ এস্টেট
চট্টগ্রামে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
চট্টগামে দূর্নীতির কারণে ৯৩৫টি ওয়াকফ্ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬১৬টি প্রতিষ্ঠানই রাজস্ব আয়ের তালিকা বহির্ভূত রাখা হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ দফতরের কর্ণধারদের অনিয়ম ও দুনীর্তির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানকে আড়ালে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের নজরদারী না থাকায় দফতরের কর্মকর্তারা তালিকাবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ফায়দা লুটে নিচ্ছে। নগরীর ১৬টি থানার মধ্যে ৭টি থানা এলাকা ও ৬টি উপজেলা এলাকায় এসব ওয়াকফ্ এস্টেট রয়েছে। তবে চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় কোন ওয়াকফ্ এস্টেট নেই।
দফতর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ২৫ হাজার ২৮১ দশমিক ৫৪ একর জমি ওয়াকফ এস্টেটের আওতাধীন। মহানগরসহ চট্টগ্রামের উওর ও দক্ষিণ অঞ্চলে ৯৩৫টি স্পটে ওয়াকফ ভূমি রয়েছে।
এরমধ্যে শুধুমাত্র ৩১৯ টি স্পট থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হচ্ছে। বাকী ৬১৬টি স্পট থেকে কোন ধরনের রাজস্ব আদায় হচ্ছেনা।
কিন্তু নামে বেনামে এ দফতরের কর্মকতার্রা ঐসব ভূমির দখলদার বা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মারসোয়ারা আদায় করছে।
দূর্নিতীবাজ এসব কর্মকতার্ দালালদের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্ক হাতিয়ে নিচ্ছে।
আরেকটি সুত্রে জানা গেছে, ওয়াকফ্ এস্টেটের মধ্যে নগরীর কোতয়ালী থানা এলাকায় ৯০টি, পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ৭০টি,
ডবলমুরিং থানা এলাকায় ৬২টি, হালিশহর থানা এলাকায় ১৫টি, খুলশী থানা এলাকায় ৬টি, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪৩টি, সাতকানিয়া উপজেলায় ১৫৪টি,
লোহাগাড়া উপজেলায় ১৯টি, আনোয়ারা উপজেলায় ৮১টি, বাঁশখালী উপজেলায় ১৩৩টি ও বোয়ালখালী উপজেলায় ৭৬টি ওয়াকফ্ এস্টেট রয়েছে।
এছাড়াও আরো কিছু ওয়াকফ্ াএস্টেট তালিকায় নেই। তবে তিনটি পার্বত্য অঞ্চল রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এলাকায় কোন ওয়াকফ্ এস্টেট নেই।
অভিযোগ রয়েছে, দূনীর্তিবাজ কর্মকতার্দের কারণেই গত বিশ বছরেও মহানগরসহ চট্টগামের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ৬১৬টি ওয়াকফ্ এস্টেট থেকে রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছেনা।
দখলদারদের সঙ্গে আঁতাত করেই সরকারী কর্মকতার্রা রাজস্ব নিজেদের পকেটে পুরাচ্ছে। ফলে প্রাপ্য আয়ের তালিকার বাহিরেই থেকে গেছে এসব প্রতিষ্ঠান। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াকফ পরিদর্শক জানিয়েছেন, নগরীতে তেমন কোন ওয়াকফ্ প্রতিষ্ঠান নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আয়ের পরিমাণও খুবই সামান্য।
প্রতিবছর মাজারের মোট আয়ের শতকরা ৫ ভাগ সরকারের হিসাবে জমা হচ্ছে। নগরীর মাত্র কয়েকটি মাজার থেকে আয় পাওয়া যায়।
তবে নগরীতে কয়টি মাজার রয়েছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি মাত্র ৭টি মাজারের কথা উল্লে্যখ করেছেন।
২৪ ঘণ্টা / জেআর


আপনার মতামত লিখুন