খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘পুলিশের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
‘পুলিশের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের’

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের জঙ্গিদের পরিকল্পনা ছিল চাপাতি দিয়ে পেছন থেকে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা করার।

বুধবার রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানার রইনখোলা ঈদগাঁহ এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তাদের মোবাইল ফোনে এমন পরিকল্পনার তথ্য জানতে পারে র‌্যাব-৪।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন- আরিফুর করিম চৌধুরি ওরফে আদনান চৌধুরি, মেহেদী হাসান শাকিল ওরফে বাবু, আব্দুল আল মামুন ওরফে আসাদুল্লাহ হিল গালিব ও নাজমুল হাসান। এ সময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট, ইলেকট্রনিক সার্কিট, ডিভাইস, ব্যাটারি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যবের মিডিয়া সেন্টারে গ্রেপ্তার জঙ্গিদের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকের এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, ‘জঙ্গিদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক করে আমরা জানতে পেরেছি তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছিল। বিশেষ করে আকস্মিক চাপাতি ব্যবহার করে পুলিশের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল। আর হামলার সময় কোন ধরণের ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস বা ফোন ব্যবহার করবে না। দুই-তিনজনের ছোট্ট গ্রুপ বা সেলে বিভক্ত হয়ে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। পুলিশকে জখম করতে পেছন থেকে ধারালো চাপাতি বা চাকু ব্যবহার করতো।’

সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা জঙ্গি সংগঠনটির ঢাকা বিভাগীয় প্রধান জানিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ‘গ্রেপ্তার আদনান চৌধুরি এই গ্রুপের প্রধান। এর আগে তিনি হরকাতুল জিহাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের কম্পিউটার ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করে একটি ব্যাংকের আইটি শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন। ২০১৫ খিলগাঁও থানায় গ্রেপ্তার হলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রায় দুই বছর পর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দল পরিবর্তন করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ঢাকার একাংশের নেতৃত্ব পায়। এরপর কুমিল্লার অঞ্চলের আব্বাস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুইজন মিলে জঙ্গিবাদ সম্প্রসারণ ও প্রচারের জন্য কাজ শুরু করে। বর্তমানে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ঢাকা বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন আদনান চৌধুরি।’

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক জানান, ‘আমরা জানতে পেরেছি এই জঙ্গিরা প্রটেক্টটিভ অ্যাপস ও ব্রাউজার ব্যবহার করে জঙ্গিবাদের প্রচার, সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ এবং নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। বিশেষ করে প্রচলিত সরকার ব্যবস্থা বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা বাতিল করে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চান। তাদের গ্রেপ্তারের সময় আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গি পালিয়ে গিয়েছে। তাদের নাম পেয়েছি, ধরতে র‌্যাব কাজ করছে।’

অক্টোবর থেকে এই দলের ২৩ জন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে মোজাম্মেল হক জানান, ‘এই গ্রুপের শেষ ব্যক্তি যিনি আছেন তাকে গ্রেপ্তার করবে র‌্যাব। এরা মুলত সেলে বিভক্ত বলে এই গ্রুপে কতজন আছে সেটা আমরা এখনো নিশ্চিত না। আর একটা সেলের সঙ্গে আরেকটা সেলের যোগাযোগ দেখতে গেলে অনেক সময় লাগে। র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশের আরও দুটি বিশেষ ইউনিট তাদের ধরতে কাজ করছে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকাতুল জিহাদ একই দলে যুক্ত। কারণ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ছেড়ে অনেকে এই দলে যোগ দিয়েছে। কারণ হরকাতুল জিহাদের অনেক নেতার নামে বেশ কয়েকটা রায় হয়েছে। রায়ে অনেকের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আরও রায় পেন্ডিং রয়েছে।’

জঙ্গিরা গ্রেপ্তারের পরও অনুতপ্ত না, এমনটা জানিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জেলে কিংবা জঙ্গিবাদে জড়িত এটা নিয়ে তাদের কোন অনুশোচনা নেই।’

জঙ্গিবাদ নির্মূলে দুটি মাধ্যমে আছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। বলেন, ‘একটি গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা আরেকটি মটিভেশন করা। সামাজিকভাবে তাদের বোঝাতে পারলে এই পথ থেকে সরে আসবে অনেকে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ এধরণের কাজ করছে। র‌্যাবও কাজ করছে। জঙ্গিরা কেউ আত্মসমর্পণ করতে চাইলে আমরা সেই সুযোগ দিচ্ছি। সাধারণ জীবন যাপনের আশায় র‌্যাবের কাছে বেশ কিছু জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে।’

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।