খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নয়াপল্টনের ঘটনার জন্য বিএনপিই দায়ী : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
নয়াপল্টনের ঘটনার জন্য বিএনপিই দায়ী : তথ্যমন্ত্রী

নয়াপল্টনে বুধবারের ঘটনার জন্য বিএনপি এবং বিএনপি নেতারাই দায়ী বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা বহু আগে থেকেই বলছিলাম যে, বিএনপি সমাবেশ নয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। বিএনপি সমাবেশের ডাক দিয়েছে ১০ ডিসেম্বর অথচ ৭ ডিসেম্বরেই নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর কিভাবে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার রাতে বিআরটিসি বাসে ও আরো গাড়ি-ঘোড়াসহ বিভিন্ন স্থানে তারা আগুন দিয়েছে, আপনারা দেখেছেন।

বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে অবিস্ফোরিত ১৫টি ককটেল ২ লাখ পানির বোতল, ১৬০ বস্তা চাল, রান্না করা খিচুড়ি, হাড়ি-পাতিল এবং দুই লাখ নগদ টাকাও পেয়েছে পুলিশ। ’
মন্ত্রী বলেন, ‘দুপুর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জমায়েত হতে থাকে এবং যখন সেখানে একটি রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন দয়া করে অন্তত একটি লেন চালু থাকার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ তাদের বারবার অনুরোধ জানায়। কিন্তু সেই অনুরোধ তারা উপেক্ষা করে। এরপর মতিঝিল-রমনা এলাকার ডেপুটি কমিশনার হায়াৎ সেখানে নিজে গিয়ে আবারও অনুরোধ জানান।

যখন তিনি অনুরোধ জানাচ্ছিলেন তখন তাকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে আঘাত হানা হয় এবং তার বডিগার্ডকে দা’য়ের কোপ দেয়া হয়। সেখান থেকেই শুরু এবং এরপর পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা পরিচালনা করা হয়। আটজন পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়াসহ সর্বমোট ৩৫জন পুলিশ আহত হয়। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে বাধ্য হয়।

একজন সাধারণ নাগরিক সেখানে মৃত্যুবরণ করেছেন, পুলিশ ধারণা করছে তিনি ককটেলের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সবসময় বলে এসেছে যে তারা ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাবে। নয়াপল্টন অফিসের সামনে ১০-২০ হাজার মানুষ ধরে। তারা যাতে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটিয়ে বড় সমাবেশ যাতে করতে পারে, সেজন্য তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারা সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করলে মিরপুরের পল্লবী মাঠ, কালশী মাঠ, যেখানে বিএনপি ইতোপূর্বে সমাবেশ করেছে অথবা ইজতেমার মাঠ, বাণিজ্য মেলার মাঠ এগুলো তাদের ব্যবহার করার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দেয়। ’

অথচ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা বিএনপিকে আমরা কখনো দেইনি এবং সেটির প্রমাণ হচ্ছে সারাদেশে তারা সফলভাবে ৯টি বড় সমাবেশ করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে সরকার সর্বোতভাবে সহায়তা করেছে বলেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে পারে, এজন্য আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম, যাতে তাদের উস্কানির মুখেও ধৈর্য্য ধরে। কিন্তু আসলে তারা দেশে শান্তি চায় না বিধায় গতকাল বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তান্ডব ঘটিয়েছে। ’

ড. হাছান আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমি আগেও বলেছি যে, সরকার কাউকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেবে না। কিন্তু তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। বিএনপির যে সমস্ত নেতা বড় গলায় কথা বলছেন, অগ্নিসন্ত্রাস ঘটানোর জন্য অর্থদাতা, হুকুমদাতা কিংবা অংশগ্রহণকারী হিসেবে তারা প্রায় সবাই এ অপরাধের মামলার আসামি। রিজভীসহ আরো বেশ কয়েকজন মামলার ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে বুধবার সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশের নাকের ডগায় যখন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ঘুরে বেড়ায় তখন তো তাদের গ্রেফতার করা পুলিশের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। যখন কোনো নেতা কার্যালয়ের ভেতরে তাজা ককটেল নিয়ে বসে থাকে তখন সেই নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হয়। সরকার সেই ব্যবস্থাই নিয়েছে। ’

‘কিন্তু বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুঁড়ে আমাদের নেত্রীকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল’ স্মরণ করিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শেখ হেলাল এমপির জনসভায় হামলা চালিয়ে এক ডজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কিবরিয়া সাহেব এবং আহসান উল্লাহ মাস্টারের জনসভায় হামলা চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, শতশত মানুষকে আহত করা হয়েছিল, খুলনার মঞ্জুর ইমামসহ অনেককে তারা হত্যা করেছে এবং আমরা যখন পার্টি অফিসের সামনে কোনো সমাবেশ করতাম তখন তারা দুই পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাখতো। এমনকি ধানমন্ডিতে এই রাসেল স্কয়ারে আমাদের প্রয়াত নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে পুলিশ পিটিয়েছিল। দেশের জ্যেষ্ঠ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মতিয়া আপাকে টানা হেঁচড়া করেছিল। কই তাদের কোনো নেতাকে তো এমন করা হয়নি, তাদের কোনো সমাবেশে তো পটকাও ফোটেনি।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দেশের সাম্প্রতিক বিষয়ে বিবৃতি

দিয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘মার্কিন সরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি। সেখানে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিএনপি ঘরানার একজন সাংবাদিক যিনি আগে খালেদা জিয়ার প্রেস উইংয়ে কাজ করতেন তিনিই সেখানে প্রশ্ন করেছেন এবং সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। এটি কোনভাবেই মার্কিন সরকারের কোনো বিবৃতি নয়। সমাবেশের জন্য উপযুক্ত মাঠের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে তারা নয়াপল্টনের সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বুধবারের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং সমস্ত ঘটনার জন্য বিএনপি এবং বিএনপির নেতারাই দায়ী। ’

১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রগুলো আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাবো। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারা যে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, ২০১৩-১৪-১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে এবং এখন বাস-ট্রাকে আগুন দিয়ে আবার মানুষের অধিকার হরণ করছে, সেগুলো আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে জানাবো। ’

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।