হুমকির মুখে পরিবেশ
আনোয়ারায় ইট ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইট ভাটায় অবৈধভাবে প্রকাশ্যে বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। সরকারি নিয়ম নীতি না মেনে সম্প্রতি ইটভাটাতে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। সব ম্যানেজ করে চলে ইটভাটা, সরকারি অনুমোদন, পরিবেশ ছাড়পত্র কিছুই নেই, তারপরও ৬ বছর ধরে চলছে জণবসতি এলাকায় তিন ফসলি জমিতে অনুমোদনহীন এই ইটভাটা। উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পরীরবিল এলাকায় মোহছেন আউলিয়া ব্রিকস (এমবিএম) নামের এই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে গত বছর জরিমানা করে চার মাসের সময় দিলেও ওই ভাটায় এবছরও ইট তৈরি হচ্ছে। ভাটার ধূঁয়ায় অস্তরন পড়ছে আশপাশের বাড়ি ঘরে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে পরীরবিল এলাকায় তিন ফসলি জমিতে এমবিএম নামের এই ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি আর কাট দিয়ে ইট পুঁড়া হচ্ছে। ইটভাটার চারদিকে বসতবাড়ি ও ধানি জমি।

জানা যায়, প্রশাসনের অনুমতি না পেলেও প্রতিষ্ঠানটি ইট তৈরির কাজ করছে। ইটভাটা প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৩ অনুযায়ী, ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে এ ক্ষেত্রে সেই নিষেধাজ্ঞা মানা হয়নি। কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করায় চাষাবাদে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ইটভাটার পাশে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। আইন-নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা চালিয়ে যাওয়ায় প্রশাসন ও আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা হ্রাস পেতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তবে ভাটায় কর্মরত শ্রমিকরা জানায় মালিক সাব ম্যানেজ করেই চালাচ্ছে ইটভাটা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল খালেক বলেন, বাড়িঘরে ধূঁয়া আর গন্ধে তাকা দায়, ‘যেখানে বছরে তিনবার ধান চাষ হতো, সেখানে ইটভাটা হয়েছে। এতে আমরা নানা রোগসহ ক্ষতির আশঙ্কা করছি।’
সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১৯ জানুয়ারি মাসে সকালে হাইকোর্টের এক রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বুলডোজারসহ রণপ্রস্তুুতি নিয়ে অবৈধ ইটভাটাটি গুড়িয়ে দিতে এসে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করে তিন মাসের মধ্যে কাগজপত্র ঠিক করার সময় বেঁধে দেয় জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াছমিনের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদফতর। কিন্তু চলতি বছর আবারো এখানে ইট তৈরী হচ্ছে। জরিমানা গুনলেও ইট উৎপাদন থেমে নেই ওই ইটভাটায়।
ইটভাটার মালিক সামশুল আলম বলেন, আমার কাগজপত্র ঠিক না থাকলেও সব ঠিক করেনেব। এর চেয়ে বেশি কিছু বলবনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ইটভাটাটিকে কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে। পরে তারা আবার চালু করে। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
২৪ঘণ্টা/জেআর


আপনার মতামত লিখুন