রাউজানে ইটভাটার মাটির জোগান দিতে কাটা হচ্ছে ফসলী জমি
২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। নেজাম উদ্দিন রানা,রাউজান : চট্টগ্রামের রাউজানে ইটভাটার মাটির যোগান দেওয়ার জন্য অনেক স্থানে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। ফলে দিন দিন ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
কৃষি জমির টপসয়েল কেটে ফেলার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। শুধু কৃষি জমিই নয়, ইটভাটার থেকে ইট বিক্রির কাজে নিয়োজিত ভারী যান চলাচলের কারণে বিভিন্ন জায়গায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই চিত্র দেখা গেছে ডাবুয়া ইউনিয়নে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডাবুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ডাবুয়া রাবার বাগানের আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটার মাটির যোগান দিতে নির্বিচারে কৃষি জমির মাটি কেটে ফেলা হচ্ছে। শুধু কৃষি জমিই নয়, ডাবুয়া রাবার বাগানের মালিকানাধীন টিলাও বাদ যাচ্ছেনা।
একদিকে কৃষি জমির মাটি অপরদিকে ইটভাটার জ্বালানীর উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বনাঞ্চলের অপরিপক্ক কাঠ ইটভাটার জন্য অত্যাবশ্যকীয় উৎস দুটির সহজলভ্যতার ফলে এখানে ইটভাটা করে দেদারছে ব্যাবসা করছেন এই ভাটাগুলোর সাথে জড়িত মালিকপক্ষগণ।
ডাবুয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, ইটভাটায় সরবরাহের জন্য বেপরোয়া ভাবে মাটি কাটার ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ শহীদ জাফর সড়কের একটি অংশ ধসের আশংকা রয়েছে। এই এলাকার ইটভাটা ভাটাগুলোর পাশে থাকা কৃষি জমিগুলো পুকুর দিঘিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে এই ইউনিয়নের মেলুয়া এলাকার এমবিসি ট্রেডমার্কের একটি ইটভাটায় মাটি কাটার ভয়াবহ চিত্র চোখে পড়েছে। এই ইটভাটাটির মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আশপাশের কৃষি জমির প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে তাদের জমি থেকে ইটভাটার জন্য মাটি উঠিয়ে নেয়ার।
হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, হালিমা খাতুন ও ফটু আকতার নামের তার দুই নিকটাত্মীয়ের মালিকানাধীন প্রায় চার একর কৃষিজমির মাটি মালিকপক্ষকে না জানিয়ে ইটভাটার মালিক মাটি নিয়ে গেছে। জমির মালিক হালিমা বেগমের পুত্র শহীদুল্লাহ সিকদারও এই অভিযোগ করেছেন। শুধু এই ইটভাটা রাউজানের আরো বেশ কয়েকটি ইটভাটায়ও কৃষি জমি থেকে মাটি উঠিয়ে নেয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বৃক্ষবানুপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সড়কের পাশের কৃষি জমি থেকে মাটি নিয়ে ইটভাটার জন্য স্তুপ করে রাখা হচ্ছে।
চলাচলের সড়কের আশপাশ থেকে মাটি কেটে নেয়ার ফলে রাউজান উপজেলা সদর থেকে পার্ব্বত্য উপজেলার সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম শহীদ জাফর সড়ক সড়কটি এখন ধসে পড়ার হুমকির মধ্যে পড়েছে। এখানকার দুটি বিদ্যুৎ খুটিও ভেঙ্গে পড়ার ঝুঁকিতে আছে । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৃথক স্থানে দুটি ইটভাটা কোনোটিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। 
কৃষি জমি থেকে মাটি উঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ লোকমান দাবি করেন জমির মালিকের সাথে চুক্তি করেই মাটি উঠানো হচ্ছে। ভাটা চালানোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট দেয়ার কাজ আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেনায়েদ কবির সোহাগ ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, কৃষি জমি রক্ষায় সরকার ও উপজেলা প্রশাসন সব সময় সতেষ্ট । ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা ও ভরাট করা বে-আইনী । তিনি বলেন মাটি কাটার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন