এটেনডেন্টদের আতঙ্কিত সতর্কবাণী
সোনারবাংলা ট্রেন যাত্রীরা অনিরাপদ
জানালা বন্ধ রাখতে হয় নন এসি কোচে
সোনারবাংলা ট্রেন যাত্রীরা অনিরাপদ
ট্রেন যাত্রা আরামদায়ক হলেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় দেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী সোনারবাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন। আতঙ্কে ভুগছে যাত্রীরা। বিশেষ করে নন এসি কোচের যাত্রীরা। অনেকটা আতঙ্কেই ট্রেনে ভ্রমণ করছে। পাথর নিক্ষেপ ছাড়াও ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীরা অবস্থান করছে প্রতিনিয়ত। নন এসি কোচের যাত্রীরা সন্ধ্যার পর থেকে অনেকটাই অনিরাপদ। ফলে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে নন এসি কোচের জানালা বন্ধ রাখা।
প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে বিকেল ৫টায় সোনারবাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শীতকাল হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম পার হওয়ার আগেই সন্ধ্যা নেমে আসে। অনির্ধারিত যাত্রা বিরতির কারণে ছাদে উঠে যায় ছিনতাইকারীরা। ১৮/২২ টি কোচ নিয়ে চলমান এই ট্রেনের ছাদে দাবড়ে বেড়ায়। এদিকে, ঢাকা থেকে নিম্নগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্রসিং পড়ে যায় আখাউড়া স্টেশনে। বিভিন্ন সময় ছিনতাইকারী ট্রেনের ছাদে উঠে যায় বলে জানিয়েছে ট্রেনে থাকা এটেনডেন্টরা।

ছিনতাইকারী ও ছিনতাইয়ের বিষয়ে ট্রেনে থাকা জিআরপি’র এক কনস্টেবল বলেন, ২০/২২টি কোচে মাত্র তিনজন ডিউটি করে। হাজারের বেশি যাত্রী ট্রেনে থাকে। এতো যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমাদের কাঁধে বন্দুক আছে কিন্তু এতে নিজের নিরাপত্তাও দিতে পারি না। কারণ অপরাধীদের গুলি করার অনুমতি নেই। যা অপরাধীরাও জানে। ফলে অপরাধ বন্ধ হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
অভিযোগ রয়েছে এসব ছিনতাইকারীরা নন এসি কোচকে টার্গেট করে কারণ শুধুমাত্র ননএসি কোচগুলোরই রাতে দিনে জানালা খোলা থাকে। এসব কোচ থেকে জানালা দিয়ে মোবাইল ও স্বণার্লংকার ছোঁ মেরে ছিনতাইয়ের সুযোগ থাকে। ছিনতাইকারীরা ননএসি কোচের যাত্রীর মোবাইল টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে প্রায়শঃ। আবার ট্রেনটি আস্তে আস্তে চলতে শুরু করলে এবার রেল লাইনের পাশে দাড়িয়ে থাকা কয়েকজন ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এতে যাত্রীরা আরো বেশী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। যাত্রীরা কোচের সব গ্লাস সাটার্রগুলো পরিপূর্ণভাবে নামিয়ে দিতে বাধ্য হন। এতে যাত্রীরা আতঙ্ক থেকে কিছুটা স্বস্তি পেলেও কোচের ভেতর গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
এ বিষয়ে যাত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এটেনডেন্টদের শরনাপন্ন হয়েও কোন লাভ হয়না। বরং এটেনডেন্টরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় কিছুক্ষণ পর পর এসে তাগিদ দিয়ে যান ‘জানালার পাশে মোবাইল ব্যবহার করবেন না’‘যে কোন সময় মোবাইল টেনে নিয়ে যেতে পারে দুবৃর্ত্তরা’।
২৪ঘণ্টা/জেআর


আপনার মতামত লিখুন