হাটহাজারীতে ভগ্নিপতির মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে ইউএনও’র কাছে আবেদন
হাটহাজারীতে ভগ্নিপতির মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে ইউএনও’র কাছে আবেদন
হাটহাজারীতে আবু হুরায়রা নামে ভগ্নিপতির মিথ্যা মামলা থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মো. আইয়ুব নামে এক ব্যক্তি। গত ১২ ডিসেম্বর এ আবেদন করেন তিনি। আবেদনকারী হাটহাজারী পৌরসভার পূর্ব দেওয়ান নগর কালা চাঁন ফকির বাড়ির মো. ইসহাকের পুত্র। অপরদিকে প্রতিপক্ষ মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া ওয়াহিদ আলী তালুকদার বাড়ির মৃত মনির আহম্মেদের পুত্র।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী কলেজ রোডস্থ ‘মেট্রিক্স সলিউশন’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বেগবান করার লক্ষে পরিবারের সিদ্ধান্তনুযায়ী আবেদনকারীর বড় ভাই মো. মামুনুর রশিদ মায়ের স্বত্বাধীন সম্পত্তি তার নামে হেবার মাধ্যমে বন্ধক রেখে ২০১৪ সালে ব্যাংক থেকে লোন গ্রহন করেন। তাদের পিতা ইসহাক ওই দলিলে সনাক্তকারী ও জিম্মাদার থাকেন। ২০১৭ সালে মামুনুর রশিদ চীন সরকারের শিক্ষা বৃত্তি অর্জন করে পিএইচডি করার লক্ষে চীনে গমন করেন। তার প্রাক্কালে জাবেদ আনোয়ার নামে বড় বোনের ছেলেকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন মামুন। এতে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাবেদ আনোয়ার ও তার ভাইকে মিথ্যা মামলা দিয়ে থানায় আটক করিয়ে সেদিনই সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুট করে নিশ্চিহ্ন করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে এ ঘটনায় আদালতে মামলা করলে (সি.আর-৪৭৪/১৮) সিআইডি আবু হুরায়রা গংকে আসামী করে প্রতিবেদন জমা দেন। যা এখনো বিচারাধীন। এদিকে ব্যাংকে মামুনুর রশিদের হেবার দলিলে তার পিতা ইসহাক সনাক্ত ও জিম্মাদার হওয়া সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের পক্ষ হয়ে কথা বলায় সমাজ ও আত্মীয় স্বজনের কাছে সমালোচনার পাত্র হয়। এ সুযোগে প্রতিপক্ষ ফুঁসলিয়ে তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে এ পরিবারের কেউ তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেননি। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ তার স্ত্রীসহ একের পর এক মিথ্যা মামলা দিতে থাকে। যদিও অনেক মামলার সত্যতা না মেলায় খারিজ করে দেয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর গুলো। শুধু তাই নয় বিগত ১৮ সালের ১০ আগস্ট ইসহাক পুকুরের সিঁড়ি থেকে পড়ার ঘটনাকে সাজিয়ে ১৯ সালের ২০ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করে এবং একই কায়দায় পিতা ইসহাক তাদের বিরুদ্ধে ২১ সালের ২৫ নভেম্বর সিআর মামলা (যার নং ৬৮১/২০২১) দায়ের করে। ওই মামলা চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালত গ্রাম আদালতে পাঠানোর আদেশ দেয়। তা জানতে পেরে প্রতিপক্ষ ফের আবেদনকারীর পিতা ইসহাককে ফুঁসলিয়ে ১৯ সালের ২০ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেয়া ওই অভিযোগ হুবহু চলতি বছরের ৬ ডিসেম্বর আবারো জমা দেন এবং ১৮ সালের ১০ আগস্ট পুকুরের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আঘাতের সেই ছবি দিয়ে ‘সম্পত্তির জন্য বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিল সন্তান’ শিরোনামে একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। ১৭ সাল থেকেই মামুনুর রশিদ চীনে অবস্থান করছেন তাহলে তার নামে কিভাবে অভিযোগ হয়। আবেদনকারী আরো জানায়, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১০ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় হাটহাজারী মডেল থানায়ও একটি জিডি করেন পিতা ইসহাক। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আবেদনকারী বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলায় সাক্ষিদের ব্যাপারে বলেন, প্রতিটা মামলায় একই সাক্ষি। যাদের টাকা দিয়ে মামলায় সাক্ষি করেন প্রতিপক্ষ। সুষ্ঠু তদন্ত করলেই এর সত্যতা উদঘাটন হবে। তদন্তপূর্বক প্রতিপক্ষগণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সুযোগ প্রদানে নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। পিতা ইসহাককে প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করে আবু হুরায়রা বলেন, পিতার সাথে কি সমস্যা তাদের তা তাদের পিতার সাথে কথা বললেই জানতে পারবেন। কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা বলছে তা আদালতে প্রমাণ হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম বলেন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। দুএকদিনের মধ্যে শুনানি করা হবে।
২৪ঘণ্টা/জেআর


আপনার মতামত লিখুন