৪৬০ রানের ম্যাচে মেহেদীর নৈপুণ্যে চট্টগ্রামের জয়
এবারের বিপিএলে শুরুতে দল পাননি পেসার মেহেদী হাসান রানা। পরে সুযোগ মেলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সে। এর আগে দুই ম্যাচে মাঠে নেমে দুটোতেই ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। আজতো রীতিমত একাই ধসিয়ে দিলেন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে। তাতেই ম্লান ডেভিড মালানের ৩৮ বলে ৮৪ রানের ঝড়ো ইনিংস।
চট্টগ্রামের দেওয়া ২৩৯ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে কুমিল্লার টপ অর্ডার। যার নেতৃত্ব দেন রানা। শুরুতে সৌম্য সরকার (১৫) ও ভানুকা রাজাপাকশার (৬) উইকেট তুলে নেওয়ার পর সাব্বির রহমানকেও (৫) আউট করেন তিনি। ফলে ৩২ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে কুমিল্লা। এরপর মালান আর ইয়াসির আলীর জুটিটা বেশ জমে উঠেছিল। তবে দুজনের ৫২ রানের পার্টনারশিপে ভাঙন ধরান রুবেল হোসেন।
ইয়াসির ২১ রান করে আউট হলেও ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নিজের ফিফটি তুলে নেন মালান। পরে অধিনায়ক শানাকাকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৬২ রানের পার্টনারশিপ। যেখানে রানার চতুর্থ শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৩৮ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। পরে শানাকার ৩৭ রানের ইনিংসে কুমিল্লার হারের ব্যবধানটায় কমেছে শুধু। ২২২ রানে কুমিল্লার ইনিংস থামলে ১৬ রানের জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরো পোক্ত করলো চট্টগ্রাম। দলটির হয়ে একাই ৪ উইকেটে তুলে নিয়েছেন মেহেদী হাসান রানা।
এর আগে টসে হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি চট্টগ্রামের ওপেনার লেন্ডল সিমন্স। ৭ বল থেকে ১০ রান করে মুজিব উর রহমানের শিকারে পরিণত হন তিনি। এরপর প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর দিয়ে রীতিমত তাণ্ডব বইয়ে দেন আভিস্কা ও ইমরুল। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ৮৫ রানের পার্টনারশিপের মাথায় আভিস্কাকে আউট করেন সৌম্য সরকার। এর আগে ২৭ বলে ৪৮ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেছেন তিনি।
এরপর ওয়ালটনকে নিয়ে নিজের কাজটা ভালোভাবেই করে যান ইমরুল। মাঝে তুলে নেন চলতি আসরে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি। পরে আউট হওয়ার আগে ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান। শেষদিকে ওয়ালটনের ২৭ বলে অপরাজিত ৭১ রানের ধ্বংসাত্মক ইনিংসের সাথে সোহানের ২৯ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২৩৮ রানে পাহাড়সম সংগ্রহ দাড় করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
গত ম্যাচে ২২১ রান করে বিপিএল ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড গড়েছিল চট্টগ্রাম। একদিন পর কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ছাড়িয়ে গেল সেই সংগ্রহ। আজকের (শুক্রবার) করা ২৩৮ রান বিপিএল ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২৩৮/৪ (২০ ওভার)
ইমরুল ৬২, আভিস্কা ৪৮, ওয়ালটন ৭১; সৌম্য ২/৪৪, মুজিব ১/৩১ শানাকা ১/৪৭।
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ২২২/৭ (২০ ওভার)
মালান ৮৪, শানাকা ৩৭, আবু হায়দার ২৮*; মেহেদী হাসান ৪/২৮, রুবেল ১/৩০।
ফল: চট্টগ্রাম ১৬ রানে জয়ী।


আপনার মতামত লিখুন