মামলা করেই আটকে রেখেছে
অবৈধ ভূমিতে হেফাজতীদের মাদ্রাসা
রেলের রাজস্ব ফাঁকির কৌশল
হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা হিসেবে খ্যাত ১২০ বছরের পুরনো মাদ্রাসাটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচালিত হয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত দাঙ্গা হাঙ্গামায় অভিযুক্ত হয়ে অভিশাপের গ্লানি নিয়ে চলমান রয়েছে। এ মাদ্রাসাটি প্রাচীনতম হলেও বর্তমানে এটি অনেকের কাছে দাঙ্গা হাঙ্গামায় লিপ্ত মাদ্রাসা হিসাবে নতুনভাবে পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়াও অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় গেঁড়ে বসা এ মাদ্রাসাটি অবৈধ ভূমির অভিশাপে এখন অভিশপ্ত। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মইনুল ইসলাম নামে মাদ্রাসাটি এক সময় পরিচিতি দেশজুড়ে থাকলেও এ নামটি শেষ পর্যন্ত হাটহাজারী দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি সুবিশাল নামটিও ধরে রাখতে পারেনি।

চট্টগ্রাম আদালতের একটি অপর মামলার তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা হিসেবে খ্যাত এ মাদ্রাসাটির মহাপরিচালক বা মোহতামিম ছিলেন প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফী। মাদ্রাসার নাম বিশ্লেষণের এসব তথ্য পাওয়া গেছে শাহ আহমদ শফীর পক্ষ থেকে দায়ের করা অবৈধ ভূমি দখলের জন্য মাদ্রাসার নামে ঘোষণা এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা থেকে। চট্টগ্রাম আদালতের হাটহাজারী সহকারি জজ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। তিনটি তফসিলে থাকা প্রায় ৫ একর কৃষি, জলাশয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারসহ অবৈধ দখলে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমি মাদ্রাসার নামে ঘোষণা নিতে এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য এ মামলা রুজু করেন আহমদ শফী।
এ ব্যাপারে রেলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার্ সুজন চৌধুরী সময়ের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধিকে বলেন, মাদ্রাসা কতৃর্পক্ষ বিভিন্ন ফতোয়া দেন কিন্তু নিজেরাই অবৈধ দখলে আছেন। বিশাল এ সম্পত্তি দখলে রয়েছেন মামলা দায়েরের মাধ্যমে। রেলের কোয়াটার্র দখল মুক্ত করার বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগ দেখবেন।

জোরপূর্বক এসব জায়গা দখলে রাখলেও মূলত হাটহাজারী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-৩৯, নিয়ম ১/২ ও ১৫১ ধারা মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের বিরুদ্ধে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার, প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে অপর মামলা নং-২৫৪/২০১৩ এ লিখিত আপত্তি ও জবাব জমা দেয়া হয়েছে । মামলার লিখিত আপত্তি ও জবাবটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে তৈরি করেছেন পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয়ের লিটিগেশন ইন্সপেক্টর মো. আল মাহমুদ এবং বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার ১নং তফসিলে হাটহাজারীর আলীপুর মৌজায় সিএস ১৫৬৭, ১৮২৯, ১৮৩৫, ১৮৩৩, ১৮৩০, ১৮৩১, ১৮২৫ ও ১৮২৩ দাগাদির মধ্যে মামলার বাদী আহমদ শফী মাদ্রাসার খরিদা সম্পত্তি হিসাবে ১ একর ৬০ শতক জায়গা দেখিয়েছেন। এসব দাগের উত্তরে রাস্তা, দক্ষিণে হাটহাজারী ডাকবাংলো ও পূর্ব পশ্চিমে বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি এবং উক্ত তফসিলের উত্তরের রাস্তার উত্তরে সিএস ১৮৩০, ১৮৩১ ও ১৮৩২ দাগাদির পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০ ফুট এবং উত্তর দক্ষিণে ১৫ ফুট জমিসহ মোট ১ একর ৬০ শতক জায়গার কথা উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় তফসিলে একই ঠিকানায় বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব লে আউট প্ল্যানের লাইসেন্সকৃত প্লট এ (অংশ), বি (অংশ), সি, রেলওয়ে কোয়ার্টার নং ১/ই (অংশ) এবং ই/২ (অংশ)সহ মোট ১ একর ৩১ শতক জায়গা দাবি করেছেন। ৩নং তফসিলে একই ঠিকানায় রেলেওয়ের নিজস্ব লে আউট প্ল্যানের লাইসেন্স প্লট নং-এ, বি, সি, বি (অংশ), ই (অংশ), ডিজি এবং বর্তমান প্লট নং-৯ ও ১৫ এ কৃষি ভূমি ১ একর ৭৩ শতক এবং জলাশয় ও পুকুর মিলে ৮০ শতক জায়গা দখলে রাখতে মাদ্রাসার পক্ষে স্থায়ী ঘোষণা এবং চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদায়ের জন্য এ মামলা দায়ের করেছিলেন।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন