গ্রাম থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রস
চট্টগ্রামের পটিয়া ও চন্দনাইশে বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রস।আগের মতো এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। আগে শীতের আগাম বার্তায় খেজুর গাছিরা গাছ পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত থাকতো।কিন্তু দিন দিন বিলুপ্তির পথে পা রাখছে খেজুর গাছ ও মালিকরা।
অনেক সময় বিভিন্ন বাজারে শীতের সকালে চোখে পড়তো খেজুরের রসের কলস ভরা হাঁড়ি সারি সারি। খেজুর গাছ কাটার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ গাছ কাটার গাছিদের ব্যবস্থার দৃশ্য। প্রতিদিন গাছিরা খেজুর রস সংরক্ষণ করার জন্য ঘুরে বেড়াতেন গ্রামের মেঠোপথগুলোতে রস সংরক্ষণ কাজে।

গ্রামের ছোট ছোট বাজার গুলোতে সারি সারি করে খেজুরের রস নিয়ে বসে থাকতেন গাছিরা। রসের ঘ্রাণ মাছির বনবন শব্দ এখন আর পাওয়া যায় না। সকাল বেলা অনেকের ঘুম ভাঙতে খেজুরের রসের মিষ্টি পিঠার সুগন্ধি ঘ্রাণে। পরিবারের সকল সদস্য মিলে আড্ডা মিলিয়ে সকাল বেলা নাস্তা করতেন খেজুর রসের তৈয়ারি অনেক সুস্বাদু পায়েস ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা দিয়ে। এখন মানুষের কাছে খেজুরের রস ও খেজুরী গুড় দিয়ে তৈয়ারি খাবার গুলো স্বপ্নের মত মনে হয়। যে হারে গ্রামে খেজুর গাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না।
ছনহরা গ্রামের প্রবীণ গাছারী মো. আহমাদুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘ বিশ বছর ধরে খেজুর রস বিক্রি করে সংসার চালাতাম। এখন খেজুর গাছ কমে যাওয়াতে খেজুর রস তেমন পাওয়া যায় না। পাঁচ সাত বছর আগে এক কলস রসের হাঁড়ি বিক্রি করতাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এখন ঐ খেজুর রসের হাঁড়ি বিক্রি করি ৫০০ টাকা। এরপরও আমার সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
চন্দনাইশের আর্দশ গ্রামের প্রবীণ গাছি আব্দুল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, খেজুর গাছ যে ভাবে নিধন হচ্ছে যদি সেভাবে রোপণ না করে, তাহলে কয়েক বছর পর খেজুরের রস গ্রামেও পাওয়া যাবে না। সরকার যদি গ্রামের রাস্তা গুলোর পাশে নতুন করে খেজুর গাছ রোপণ উদ্যোগ নেয়। তাহলে মানুষ আগের মতো খেজুরের রস খেতে পারবে বলে আমরা আশাকরি।
পরিবেশবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, পরিবেশের কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে খেজুর গাছ। নানান বিষাক্ত পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার কারণে দিন দিন ঝুঁকির রয়েছে খেজুর গাছ। মানুষ খেজুর গাছ যে ভাবে নিধন করছে সেভাবে রোপণ করে নাই। আর সে জন্য খেজুর রস সংকট দেখা দিয়েছে। সবার অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিয়ে খেজুর গাছ রোপণ না করে কালের বিবর্তনে শহরের মত গ্রামও খেজুর রস হারিয়ে যাবে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন