র্যাব সেভেনের অভিযানে ৩ চাচা ও ২ ভাতিজাসহ গ্রেফতার ৫
নেত্রকোনায় ধারালো অস্ত্রে এরশাদ হত্যা
দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জেরে মামলা ও প্রকাশ্যে খুন
নেত্রকোনায় প্রকাশ্য দিবালোকে গত বছরের মে মাসে খুন হয়েছেন এরশাদ মিয়া নামের এক গৃহস্থী। হত্যাকারীদের সঙ্গে এরশাদ মিয়ার জমিজমা বিরোধ চলে আসছিল অনেক দিন আগ থেকেই। এ ঘটনায় আটপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী। এরপর হত্যাকারীরা গা ঢাকা দেয়। অপরাধী ধরতে দেশের প্রত্যেকটি থানায় জানিয়ে দেওয়া হয়। এমন ঘটনার ক্লু উদঘাটনে নামে র্যাব সেভেনের সদস্যরা। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামীদের সনাক্তসহ লুকিয়ে থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে র্যাব সেভেনের সদস্যরা। এরই ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় র্যাবের ইন্টেলিজেন্স টিম কাজ করতে থাকে। গত বছরের জুন মাস থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ সাত মাস এসব অপরাধী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এড়িয়ে চললেও শেষ পর্যন্ত এজাহার নামীয় চাচা ভাতিজাসহ ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব সেভেন।
নেত্রকোনার আটপাড়া থানার মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মৃত এরশাদ মিয়ার সঙ্গে জমি বিরোধের ঘটনায় দীর্ঘদিন আদালতে মামলাও চলমান ছিল। ঘটনার দিন আদালতে মামলার হাজিরার তারিখ ছিল প্রতিপক্ষের সঙ্গে। গত ২৬ মে আদালত থেকে ফিরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বসতবাড়ির উঠানে বেঞ্চে বসে বিশ্রাম করছিলেন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র হত্যাকারীরা এরশাদ মিয়ার বাড়ীর উঠানে যায়। এসময় বিশ্রামে থাকা এরশাদ মিয়ার উপর এসময় হত্যাকারীরা অতর্কিত হামলা করে। লোহার রড ও শাবাল দিয়ে প্রথমে এরশাদ মিয়াকে আঘাত করে। এক পযার্য়ে রামদা দিয়ে কোপ মারে এরশাদের মাথায়। কিন্তু হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেয় এরশাদ মিয়া। ফলে মারাত্মকভাবে যখম হয় এরশাদ মিয়ার হাত। এমনকি এরশাদ মিয়ার হাতটি প্রায় দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। এতেও ক্ষান্ত হয়নি দুবৃর্ত্তরা। আটপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার এরশাদকে মুত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে আটপাড়া থানায় ১৯ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করেছেন। এছাড়াও অজ্ঞাতমনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে এই মামলায় (নং-২০/১০৯, তারিখ-২৯/০৫/২০২২)। মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকে এজাহারনামীয় আসামীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট হতে গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিল।
এ ব্যাপারে র্যাব সেভেনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আবছার সময়ের কাগজকে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামীরা দেশীয় তৈরী রামদা, কিরিচ, শাবল, কুড়াল ও লোহার রড নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ীর উঠানে যায় ও মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে আসামীরা কিরিচ দ্বারা এরশাদের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারে। কিরিচের কোপ এরশাদ বাম হাত দিয়ে ঠেকায়। এতে তার বাম হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এছাড়াও মাথায়, পিঠে, ঘাড়ে এবং পায়ে রামদা, লোহার রড ও শাবল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে চলে যায় অপরাধীরা। এরশাদের পরিবারের আর্ত চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেত্রকোনার মদন উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এরশাদকে মৃত ঘোষণা করে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, এরশাদ হত্যা ঘটনার সঙ্গে তিন চাচা ও দুই ভাতিজাসহ মামলার এজাহারনামীয় আসামী ১৯ জন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এরশাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান ৩ আসামী মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নেত্রাকানর আটপাড়ার হাতিয়া গ্রামের মৃত সেকান্দর আলীর ছেলে আসামী আব্দুল মোমেন প্রকাশ সবুজ মিয়া(৬৫), সবুজ মিয়ার ছেলে মো. রুমান মিয়া(২৪) ও মো. আরমান মিয়া (১৮) কে গ্রেফতার করে। পরবতীর্তে আটককৃত আসামীদের দেয়া তথ্য মতে একই দিন রাত ১০ টার দিকে ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণখান এলাকা হতে এরশাদ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় সবুজ মিয়ার ভাই আসামী আবুল কাশেম (৫৫) ও শফিকুল ইসলাম (৩৭) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকার করে, তার উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত এবং এজাহারনামীয় আসামী।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন