খুঁজুন
, ,

শীতের দাপটে কাঁপছে দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 January, 2023, 11:48 am
শীতের দাপটে কাঁপছে দেশ

শীতের চাদরে মোড়ানো গ্রাম

গত কয়েক দিন ধরে টানা শীতের দাপটে কাঁপছে ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ জনপদ। কুয়াশায় ঢেকে আছে শহর-বন্দর-গ্রামগঞ্জ। অনেক জেলায়ই সূর্যের দেখা নেই। কোথাও কোথাও এমন অবস্থা চলছে সপ্তাহকাল। ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ভাসমান মানুষের মধ্যে যারা রাস্তা বা উন্মুক্ত স্থানে থাকেন,তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কায়িক শ্রমিকদের অবস্থা আরো করুন। গরম কাপড়ের অভাবে কাতর হতদরিদ্ররা।

গতকালও দিনভর রাজধানীর আকাশে সূর্য দেখা যায়নি। গতকাল ঢাকায় তাপমাত্রা নেমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যাতে কাঁপছে ঢাকার বাসিন্দারা। এর আগে ২০১৮ সালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে সকালে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে যানবাহনগুলোকে। অল্প দূরত্বেও ঠিকমতো কিছু দেখা যাচ্ছিল না। গত চার দিনে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা কমেছে ঢাকায়। তাপমাত্রা ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও শীতের অনুভূতি ছিল ১০ ডিগ্রির নিচে। অর্থাৎ মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতিতে ছিলেন রাজধানীবাসী। যদিও গতকাল সকালে দেশের ও এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায়।

১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার:আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, প্রতিদিন শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার ঘটছে। ঢাকা, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৭টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ফরিদপুর, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, নওগাঁ, নাটোর, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও বরিশালের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ওমর ফারুক বলেন, আজ থেকে দিনের কুয়াশা অনেকটা কমে যাবে। তবে রাতের কুয়াশা থাকবে। মূলত আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা একটু বাড়তির দিকে থাকলেও ১০ জানুয়ারির পর থেকে তাপমাত্রা ব্যাপকভাবে কমতে থাকবে। তার মানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নামতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, আগামী বেশ কয়েক দিন এই তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। যদি সূর্যের তাপ পাওয়া না যায়, তাহলে শৈত্যপ্রবাহের এলাকাও বিস্তার লাভ করতে পারে। ঢাকায় আজ যে তাপমাত্রা, তাতে শৈত্যপ্রবাহ বলা না গেলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসায় কোল্ড ওয়েভের মতোই অনুভূতি পাচ্ছেন নগরবাসী।

আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির পূর্বাভাস: এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলগুলো বিশ্লেষণ করে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি দেশব্যাপী হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির পরে ১৮-২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবারও সপ্তাহব্যাপী দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে কুয়াশা ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না পরবর্তী শৈত্যপ্রবাহটির তীব্রতা কোন মাত্রার হবে।

তীব্র শীতের আশঙ্কা, সহসা কাটছে না ঘনকুয়াশা:আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, গঙ্গা অববাহিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে শীত বেশি থাকবে। ঘন কুয়াশার একটি প্রবাহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম পর্যন্ত ঐ ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স (পশ্চিমা লঘুচাপ) আমাদের দেশে তুলনামূলক উষ্ণ জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে, এতে কুয়াশা কেটে যায়। এবার সেটা না হওয়ায় কুয়াশা কাটছে না। ঢাকার বাইরে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়ছে। কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে। আমাদের এখানে যদি বাতাসের গতিবেগ বেশি হতো তা হলেও কুয়াশা কেটে যেত। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ইরানের পূর্বাঞ্চল ও এর আশপাশের এলাকায় পশ্চিমা লঘুচাপ দেখা গেছে। এর প্রভাবে আগামী ১২ জানুয়ারি পশ্চিম হিমালীয় অঞ্চলে বৃষ্টি বা তুষারপাত হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি জানুয়ারির শুরুতে প্রথমে মধ্যপ্রদেশের উত্তরাংশ, ছত্তিশগড় ও উপহিমালীয় পশ্চিমবঙ্গে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে উত্তরাখন্ড ও ছত্রিশগড়েও ঘন কুয়াশা দেখা যায়। গত কয়েক দিন ধরে ধরে ভারতের দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিশাল এক ঘন কুয়াশার স্তর চাদরের মতো আটকে আছে। প্রায় প্রতিদিনই কুয়াশা ঘন হচ্ছে, ফলে রোদ এই অঞ্চলগুলোর ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারছে না। কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা শীতল বায়ুর একটি প্রবাহ

দিনদিন শক্তিশালী বা ঠান্ডা হচ্ছে। এই দুইয়ের প্রভাবে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। আজ রবিবারও একই ধরনের শীত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বলেন, বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শীত অনুভূত হতে পারে। আবহাওয়াবিদ ডক্টর মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা পার্থক্য কমে যাওয়ার কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূত হতে পারে।

Feb2
Feb2

বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 9:58 pm
বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সেখানে বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা করেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।

পোস্ট দিয়ে বাঁধন লিখেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তার এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’

তার কথায়, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকার প্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।’

শেষে বলেন, ‘আজ আমরা আবারও দেখেছি, মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:40 pm
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, কোথাও গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে শুধু দেশীয় মাছের আবাসস্থলই হারায়নি, বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ক্রমে দুর্বল হয়েছে। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রামের একটি শতবর্ষী ঐতিহাসিক জলাধারে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য ও নগরের জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে আনল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোনা অবমুক্তকরণ। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:24 pm
স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করলেও নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার পটিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা বিবেকের চর্চা থেকে দূরে সরে এসেছি। আমাদের চিন্তাভাবনা এখন নিজের স্বার্থের চর্চাকে ঘিরে।’

মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সময় নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন থাকলেও অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই দায়িত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সেবা যিনি দিচ্ছেন এবং যিনি নিচ্ছেন, দুজনই একই সমাজের অংশ। তাই অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

‘করিম কী করল, রহিম কী করল—সেটা না ভেবে আমার কী করা উচিত, সেটি যদি আমি ভাবি, তাহলে পরিবর্তন হবে,’ বলেন তিনি।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজ ও মানুষের প্রতিও মায়া ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০ কেজি ওজনের একটি বস্তা তুলতে কষ্ট হলেও ৬০ কেজি ওজনের নিজের সন্তানকে কোলে নিতে সেই কষ্ট অনুভূত হয় না। কারণ, সন্তানের প্রতি মায়া আছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি দপ্তরে গেলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন আস্থা এখনো পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি। শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেন না উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান। তাই সমাজ ও মানুষের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মক্ষেত্রে নতুন কী যোগ করলেন এবং তাঁর কাজে সমাজ ও দেশ কীভাবে উপকৃত হলো, সেটিও ভাবতে হবে।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কারও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব, তা করতে হবে। সমাধান সম্ভব না হলেও সেবাপ্রত্যাশীর কথা শুনে তাঁকে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; সেই প্রকল্প সমাজ ও মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অর্থের যেন অপচয় না হয়। প্রতিটি চালের হিসাব আমরা চাই। প্রত্যেক জায়গায় সততা ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।’

পদ ও দায়িত্ব স্থায়ী নয়—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় চাকরি শেষ হবে, চেয়ারও থাকবে না। তখন যেন আফসোস করতে না হয় যে দায়িত্বে থাকার সময় মানুষের জন্য আরও কিছু করা যেত।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তরুণদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠছেন কি না, সমাজের জন্য কাজ করছেন কি না এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হবে।

সন্তান ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও অনেক মা-বাবার পাশে কেউ থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, সেটিও সমাজকে ভাবতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার উপদেশ না দিয়ে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়েও সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের ধরে নিয়ে এলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রাত ১২টায় ফিরবেন আর বলবেন, আমার সন্তান সন্ধ্যা ৬টায় ফিরবে—এটা কি হয়? আপনাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে।’

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাঁদের কথা শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে চেষ্টা করা হবে।

তবে দাবি আদায়ে আইন লঙ্ঘন বা সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

পটিয়াকে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে এটি বড় একটি এলাকা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু একে অন্যকে দায়ী করে সমাজের পরিবর্তন হবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আমরা সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আপনি-আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।