খুঁজুন
, ,

জোরারগঞ্জে সশস্ত্র গোলাগুলির ঘটনায় ৪ আসামী গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 10 January, 2023, 3:34 pm
জোরারগঞ্জে সশস্ত্র গোলাগুলির ঘটনায় ৪ আসামী গ্রেফতার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি::::মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় ৪ প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। আটককৃতরা হলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২), মাঈন উদ্দিন টিটু(২৫), মোঃ জুয়েল (৩০), ও জামাল উদ্দিন (২৫)।

মঙ্গলবার ( ১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর থেকে৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ দিন ব্যাপি চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানাধীন জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিবছরের ন্যায় মুক্তিযুদ্ধ বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়। বিজয় মেলায় আগত বিভিন্ন দোকান হতে বিভিন্ন সময় স্থানীয় অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ মাঈন উদ্দিন টিটু(৪২) চাঁদা দাবী করে আসছিল। বিজয় মেলা পরিষদ দোকানদারদের চাঁদা দিতে নিষেধ করলে মাইন উদ্দিন বিভিন্ন সময় মেলায় এসে আয়োজক কমিঠির সদস্যদেরকে হুমকি প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪ টায় মেলার শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা মেলা শেষ করে বাড়ী ফেরার পথে জোরারগঞ্জ বাজারে পৌছিলে মাইন উদ্দিন টিটুর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মেলার শৃংখলা কমিটির সদস্য ১। কাউছার আহম্মদ, ২। ইমতিয়াজ উদ্দিন(২০), ৩। মিরাজ আকবর শাকিব(১৯), ৪। সাইফুদ্দিন রিফাত(১৮), ৫। তারেক হাসান (২৫) এবং ৬। সরোয়ার হোসেন(১৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা জোরারগঞ্জ স্কুল মাঠে মেলার শৃংখলা কমিটির আরও কয়েকজন সদস্যকে রামদা, কিরিচ, হকিষ্টিক ইত্যাদি অস্ত্র দ্বারা এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।

পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিদের চিৎকারে মেলায় উপস্থিত লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করতে করতে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে মেলার শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য কাউছার আহাম্মদ আরিফ গত ৪ জানুয়ারি জোরারগঞ্জ থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং ৩/৩, তারিখ- ০৪ জানুয়ারি, ২০২৩, ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০। মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকে মামলার আসামীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট হতে গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে উক্ত মামলার এজাহারনামীয় প্রধান ৪ আসামী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এবং র‌্যাব-১১ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায়। অভিযান কালিন উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ২, ৫, ৬ ও ৯ নং আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন (২২), পিতা- মোস্তফা মাষ্টার, মাঈন উদ্দিন টিটু (২৫), পিতা-মনির আহমদ, মোঃ জুয়েল (৩০), পিতা- আর্মি কামাল, এবং জামাল উদ্দিন (২৫), পিতা- মৃত মহিউদ্দিন, সর্ব সাং- মধ্যম সোনাপাহাড়, থানা- জোরারগঞ্জ, জেলা- চট্টগ্রামদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকার করে তারা উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত এবং এজাহারনামীয় আসামী। আটককৃতদের জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।