‘টপ সয়েল’ কাটায় কমছে জমির উর্বরতা
‘টপ সয়েল’ কাটায় কমছে জমির উর্বরতা
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে বিক্রি করছে একাধিক চক্র। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষিজমির মাটি কাটা অপরাধ। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদর, টৈটং, ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক স্থানে ফসলি জমি থেকে এক্সকাভেটর (ভেকুযন্ত্র) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ব্যবহার হচ্ছে ইট ভাটা, পুকুর ও ভিটে ভরাট কাজে।
নুরুল হক নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, টপ সয়েল বিক্রির হিড়িক পড়েছে। দিনরাত চলছে এক্সকাভেটর (ভেকুযন্ত্র) দিয়ে মাটি কাটা। শেষ করে দিচ্ছে আবাদি জমি। এ কারনে বিরুপ প্রভাব পড়বে কৃষিতে। ফসল উৎপাদন অনেকটা কমে যাবে।
স্থানীয়রা জানান, ডিসেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস চলে টপ সয়েল কাটার মহোৎসব। নিয়মনীতি না মেনে এক্সকাভেটর (ভেকুযন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে ডাম্পার ও মিনি ট্রাক ভরে দেদারছে নিয়ে যাচ্ছে মাটি। গ্রামীন সড়কে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব মাটি ভর্তি যানবাহন। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কৃষিজমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা নিষিদ্ধ। অথচ উপজেলায় উল্লেখিত স্থানগুলোতে প্রকাশ্যে এ দুই আইন অমান্য করা হলেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন কুমার রায় বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আসলে কেউ অবগত করেন নি। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন