শর্তের মধ্যেই নীলনক্সা
রেলে সাজানো ই-টেন্ডার
নজরদারি নেই সিপিটিউ
ইলেকট্রনিক গভর্ণমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি)তে নজরদারী নেই সিপিটিউ কতৃর্পক্ষের। ফলে ইজপি’কে জটিল করে তুলছে টেন্ডার কতৃর্পক্ষ। অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দিয়ে রেলে চলছে সাজানো ই-টেন্ডার। ই-জিপি’তে টেন্ডার সাবমিট করতে পারছে না নতুনেরা। “ইলেকট্রনিক টেন্ডার, ঝুট-ঝামেলা নেই আর” সরকারের এই ধরনের ট্রেন্ডার জটিল করে তুলছে ক্রয় কতৃর্পক্ষ। সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থাগুলোতে ক্রয়াদেশ বা ঠিকাকার্য প্রক্রিয়া সহজ করতে অনীহা কতৃর্পক্ষের। অসাধু কর্মকতার্ আর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর কুপরামর্শে জটিল করে তোলা হচ্ছে ই-জিপিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস(পিপিআর) এর ৫৬ ও ৫৭ ধারা অনুযায়ী প্রকিউরমেন্ট এন্টিটিকে অভিযোগ করতে হবে।
টেন্ডার শর্ত অনুযায়ী অভিযোগ রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত এ ধরনের পণ্য লিমিটেড টেন্ডার মেথড(এলটিএম) কিংবা ওটিএম এর মাধ্যমে সরবরাহ করার সুযোগ পেয়েছেন এমন সরবরাহকারীর সংখ্যা একাধিক নয়। একাধিক সরবরাহকারী দুটি চুক্তিপত্রে এক বা দেড় কোটি টাকার সমপরিমাণ ও গত দু’বছরে একাধিক সরবরাহকারীর সঙ্গে এমন চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অভিযোগকারী সরবরাহকারীরা। এ ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়া হলে দুই বা ততোধিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া এ ধরনের দরপত্র আহবানে যোগদান করতে পারবেন না। এমনকি নতুন কোন সরবরাহকারী অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বঞ্চিত হবেন।
টেন্ডার ডকুমেন্ট সীট(টিডিএস) এর শতার্নুযায়ী এ ই-টেন্ডার অনলাইনে দাখিলের সময় এই পণ্যের ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অরগানাইজেশন(আইএসও) অথবা হোম স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেট দাবী কতৃর্পক্ষের। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পত্রের কপি জমা দিতে হয় অনলাইনে। ১২০ দিনের মধ্যে এই টেন্ডারের কার্যক্রম শেষ করতে হয় কতৃর্পক্ষকে। টেন্ডার সিকিউরিটি হতে হবে টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্যের প্রায় ২ শতাংশ বা কমবেশী। টেন্ডার গ্রহীতার যোগ্যতা হিসেবে অনলাইনে সাবমিটের সময় জেনারেল এক্সপেরিয়েন্স, পূর্বে এই পণ্য বা সমজাতীয় পণ্য সরবরাহের দলিলাদি, চুক্তিপত্রের সংখ্যা, চুক্তিপত্রের মূল্য ও সময়, পণ্য সরবরাহের উৎপাদন ক্ষমতা এবং সিডিউল ব্যাংক কতৃর্ক প্রদত্ত তরল সম্পদ এবং কার্যকরী মূলধনের স্বক্ষমতা প্রত্যয়ন করতে হবে সদ্যকার।
অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের প্রাক্কলিত ব্যয়কে মাপকাঠি ধরে সরবরাহকারীদের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করার মত ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূত। ফলে কতৃর্পক্ষের নির্দিষ্ট কোন সরবরাহকারী ব্যতিত অন্য কোন সরবরাহকারী ই-জিপি’তে অংশগ্রহনের সুযোগ পাচ্ছেনা এমন শর্তের কারণে।
আরো অভিযোগ রয়েছে, সরকারকে ক্ষতিগ্রস্থ করে অধিকমূল্যে পণ্য সরবরাহের চুক্তি সম্পাদনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে কিনা ক্রয়কারী কতৃর্পক্ষ তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কৌশলে বিতাড়িত করা হচ্ছে সর্বাধিক সরবরাহকারীকে। সরবরাহকারীদের মতে, যেহেতু এই পণ্যের বাজার সর্বত্র রয়েছে সেহেতু কতৃর্পক্ষ বিশেষ কোন সরবরাহকারীর ইচ্ছাকৃত শতার্রোপ না করে সাধারন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সরবরাহকারীদের সুযোগ দিলে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ক্রয়াদেশ চুক্তি সম্পাদন সম্ভব।
টেন্ডারের শর্তানুযায়ী বিভিন্ন টেন্ডারের ক্ষেত্রে টেন্ডার যোগ্যতায় দরপত্র গ্রহীতাকে অবশ্যই ৫ বছরের মধ্যে এ ধরনের দুটি ঠিকাকার্য সম্পাদিত করেছে কিনা তা জুড়ে দেয়া হচ্ছে। দুই বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে। কমপক্ষে দুটি কন্ট্রাক্টের মূল্য এক বা দেড় কোটি টাকা হতে হবে। গত তিন বছরে কোন প্রতিষ্ঠানে ক্রয়াদেশ সম্পন্ন করেছে এমন ডকুমেন্ট দাখিল করতে হবে। যে কোন সিডিউল ব্যাংকের মাধ্যমে এক কোটি টাকার তরল সম্পত্তি অথবা কার্যকরী মূলধন অথবা ক্রেডিট থাকতে হবে।
এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের সিপিটিউ’র সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট মোশারফ হোসাইন সময়ের কাগজকে বলেন, কতৃর্পক্ষ অভিযোগ আমলে না নিলে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে সিপিটিউ’কে জানাতে হবে। এরপর সিপিটিইউ কতৃর্পক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন