খুঁজুন
, ,

সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রার উদ্দেশ্য অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 February, 2023, 5:57 pm
সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রার উদ্দেশ্য অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি আন্দোলন করতে পারেনা, পারে শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে, বিএনপির কতটুকু শক্তি আছে আমাদের জানা আছে। রাজনীতির নামে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আমরা দিতে পারি না। সারাদেশে পদযাত্রার উদ্দেশ্য হলো অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ ও ১৫ সালে যারা অগ্নি সন্ত্রাস করে এতদিন আত্মগোপনে ছিল তাদেরকে আবার গ্রামেগঞ্জে এনে আবার অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সমগ্রদেশে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঈদের পরে শীতের পরে গ্রীস্মের পরে যখন আম পাকে কিংবা বার্ষিক পরীক্ষার পরে আন্দোলন করতে করতে তাদের ১৪ বছর কেটে গেছে।

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারন সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির কাজ হচ্ছে দিনের বেলায় পদযাত্রা রাতের বেলায় এম্বেসি যাত্রা। রাতের বেলা বিভিন্ন এম্বেসিতে গিয়ে কূটনীতিকদের হাতে পায়ে ধরে পদলেহন করেন, এই হচ্ছে তাদের কাজ। এদেশে কোন কূটনীতিক কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে নাই, পারবেওনা। এই দেশের ক্ষমতার মালিক জনগণ। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণের রায় নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করবে।

তিনি বলেন, বিএনপি বুঝতে পেরেছে আগামী নির্বাচনেও তাদের কোন সম্ভাবনা নাই, তাই তাদের নির্বাচন ভীতি পেয়ে বসেছে। একটু বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায় বিএনপি’র সম্ভাবনা কতটুকু। ২০০৮ সালে সমগ্র বিশ্ব স্বীকৃত একটি ভালো নির্বাচনে বিএনপির আসন মাত্র ২৯টি, আর উপনির্বাচনে ২টি বেড়ে ৩১ টি হয়েছে। ২০১৪ সালে নির্বাচনে পরাজয় জেনে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম আর তালেবান সবাইকে নিয়ে ঐক্য করে বিএনপির আসন ৭টি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন সবাইকে নিয়ে ঐক্য করে মাঝেমধ্যে বলে ৩২ দল, কখনো ১২ দল, আবার কখনো বলে ২২ দল। আবার বলে ৫৪ দল। আসলে কত দলের যে বিএনপির জোট সেটা বলা মুশকিল। ২২ দল এবং ১২ দল মিলে ঢাকা শহরে এক জায়গায় সমাবেশ করলে সেখানে মানুষ পাওয়া যায় পঞ্চাশ জন। আর সাংবাদিক থাকে এক’শ জন। এই হচ্ছে তাদের সমাবেশ।

মির্জা ফখরুলকে নেতা বানাতে চান না বলে বিএনপির নির্বাচন ভীতির আরেকটি কারণ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তো নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই তারা নির্বাচনে গিয়ে মির্জা ফখরুলকে নেতা বানাতে চান না। বিএনপি’র পতাকাটা তারা মির্জা ফখরুল কিংবা অন্য কারো হাতে তুলে দিতে চাননা। সেই কারণেই তাদের নির্বাচন ভীতি পেয়ে বসেছে। নির্বাচন বানচাল করার জন্য অতীতে যেমন ষড়যন্ত্র করেছে এখনও সেই ষড়যন্ত্রের পথেই হাঁটছে বিএনপি।

তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনে যাবেননা, নির্বাচন বর্জন করবেন। আবার সরকারকে বিদায় দিতে চাইবেন, সেটিতো দেশ বিরোধী কাজ। সেই দেশ বিরোধী কাজ কাউকে করতে দেয়া হবেনা। আপনারা সরকারের বিদায় চান খুব ভালো কথা। আপনারা নির্বাচনে আসুন, নির্বাচনে এসে জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। জনগণ যদি আপনাদেরকে ভোট দেই, তাহলে তো আপনারা ক্ষমতায় যেতে পারবেন।

দল ক্ষমতায় আসার পর যাদের আলস্য ধরেছে তাদের আলস্য ঝেড়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামীলীগ রাজপথের দল এবং রাজপথ থেকে গড়ে উঠা নেতৃত্ব। আমরা জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাজনীতির পথে নেমেছি, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিংবা শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য রাজনীতি করিনা, জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকুক কিংবা না থাকুক রাজপথে সবসময় থাকবে। আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। এজন্যই ওদের মাথাটা খারাপ।

তিনি বলেন, ১৪ বছর যে উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নের প্রচার করতে হবে নেতাকর্মীদের। ১৪ বছর আগের চিত্র আর এখনকার চিত্র মানুষকে দেখান। যদি মানুষকে উন্নয়নের চিত্র আমরা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি মানুষ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন জায়গায় ভোট দেয়ার সুযোগ নাই।

অগ্নি সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য মানুষের দাবি আছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের ধরতে মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। প্রয়োজনে হুকুমদাতাদেরও ধরতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে পরিকল্পনা করে বিএনপি জামাত এবং মিত্ররা আবারো নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন পাল্টা কর্মসূচি দেই নাই জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চোর ডাকাতরা যেমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, রাজনীতির নামে যারা অগ্নি সন্ত্রাস করেছে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, মানুষের হাত-পায়ের রগ কাটে তারাও যাতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেটার সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং জনগণকে সাথে নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করা সরকারি দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আছে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ গণি চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম রাশেদুল ইসলাম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভির হোসেন চৌধুরী তপু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদিকা বাসন্তি প্রভা পালিত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 7:59 pm
নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রাত সাড়ে ৭টার পর বার্তা সংস্থা রয়টার্স ৫৫ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে। এই বন্যায় প্রতিবেশী তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বুধবার ভোরে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, তাঁর দেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ আছেন।

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।

নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোত আশপাশের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা বেরিয়ে আছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে।

জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে তিব্বতে আহত বা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 6:24 pm
বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 2:35 pm
জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে জশনে জুলুস। ৫৫তম জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েঠেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঐতিহ্যের জশনে জুলুস শুরু হয়।

ভিড় পেরিয়ে সেই জুলুস অপরপ্রান্ত টাইগারপাসে পৌঁছে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এ সময় আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়।

বৃষ্টিতে ভিজেই হুজুর কেবলার গাড়ি অনুসরণ করে জুলুস। আবার একই পথে ফিরে যায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে।

জুলুস অংশগ্রহণকারী ও পথচারীদের পানি, শরবত, খেজুর, কলা, বিরিয়ানি বিতরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও আগ্রহী মানুষেরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।

জুলুসের কারণে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলে আশেকরা আসেন নগরে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, প্রিয় নবীর আগমনে খুশি উদযাপন করা কোরআন, হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। আল্লাহ নেয়ামত প্রাপ্তিতে আনন্দ তথা ঈদ উদযাপন করতে বলেছেন। তাই সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (দ) প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য নেয়ামত। জশনে জুলুস এমন একটা কর্মসূচি যেখানে শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজ হয় না। কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (দ) পাঠ, রাসুলের সীরাত আলোচনা হয় এখানে। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার।

জুলুসে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।