খুঁজুন
, ,

সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রার উদ্দেশ্য অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 February, 2023, 5:57 pm
সারাদেশে বিএনপির পদযাত্রার উদ্দেশ্য অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি আন্দোলন করতে পারেনা, পারে শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে, বিএনপির কতটুকু শক্তি আছে আমাদের জানা আছে। রাজনীতির নামে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আমরা দিতে পারি না। সারাদেশে পদযাত্রার উদ্দেশ্য হলো অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ ও ১৫ সালে যারা অগ্নি সন্ত্রাস করে এতদিন আত্মগোপনে ছিল তাদেরকে আবার গ্রামেগঞ্জে এনে আবার অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সমগ্রদেশে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ঈদের পরে শীতের পরে গ্রীস্মের পরে যখন আম পাকে কিংবা বার্ষিক পরীক্ষার পরে আন্দোলন করতে করতে তাদের ১৪ বছর কেটে গেছে।

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শামীমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারন সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির কাজ হচ্ছে দিনের বেলায় পদযাত্রা রাতের বেলায় এম্বেসি যাত্রা। রাতের বেলা বিভিন্ন এম্বেসিতে গিয়ে কূটনীতিকদের হাতে পায়ে ধরে পদলেহন করেন, এই হচ্ছে তাদের কাজ। এদেশে কোন কূটনীতিক কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে নাই, পারবেওনা। এই দেশের ক্ষমতার মালিক জনগণ। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণের রায় নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করবে।

তিনি বলেন, বিএনপি বুঝতে পেরেছে আগামী নির্বাচনেও তাদের কোন সম্ভাবনা নাই, তাই তাদের নির্বাচন ভীতি পেয়ে বসেছে। একটু বিশ্লেষণ করলেই বুঝা যায় বিএনপি’র সম্ভাবনা কতটুকু। ২০০৮ সালে সমগ্র বিশ্ব স্বীকৃত একটি ভালো নির্বাচনে বিএনপির আসন মাত্র ২৯টি, আর উপনির্বাচনে ২টি বেড়ে ৩১ টি হয়েছে। ২০১৪ সালে নির্বাচনে পরাজয় জেনে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেছে। ২০১৮ সালে ডান-বাম, অতিডান-অতিবাম আর তালেবান সবাইকে নিয়ে ঐক্য করে বিএনপির আসন ৭টি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন সবাইকে নিয়ে ঐক্য করে মাঝেমধ্যে বলে ৩২ দল, কখনো ১২ দল, আবার কখনো বলে ২২ দল। আবার বলে ৫৪ দল। আসলে কত দলের যে বিএনপির জোট সেটা বলা মুশকিল। ২২ দল এবং ১২ দল মিলে ঢাকা শহরে এক জায়গায় সমাবেশ করলে সেখানে মানুষ পাওয়া যায় পঞ্চাশ জন। আর সাংবাদিক থাকে এক’শ জন। এই হচ্ছে তাদের সমাবেশ।

মির্জা ফখরুলকে নেতা বানাতে চান না বলে বিএনপির নির্বাচন ভীতির আরেকটি কারণ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তো নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই তারা নির্বাচনে গিয়ে মির্জা ফখরুলকে নেতা বানাতে চান না। বিএনপি’র পতাকাটা তারা মির্জা ফখরুল কিংবা অন্য কারো হাতে তুলে দিতে চাননা। সেই কারণেই তাদের নির্বাচন ভীতি পেয়ে বসেছে। নির্বাচন বানচাল করার জন্য অতীতে যেমন ষড়যন্ত্র করেছে এখনও সেই ষড়যন্ত্রের পথেই হাঁটছে বিএনপি।

তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনে যাবেননা, নির্বাচন বর্জন করবেন। আবার সরকারকে বিদায় দিতে চাইবেন, সেটিতো দেশ বিরোধী কাজ। সেই দেশ বিরোধী কাজ কাউকে করতে দেয়া হবেনা। আপনারা সরকারের বিদায় চান খুব ভালো কথা। আপনারা নির্বাচনে আসুন, নির্বাচনে এসে জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। জনগণ যদি আপনাদেরকে ভোট দেই, তাহলে তো আপনারা ক্ষমতায় যেতে পারবেন।

দল ক্ষমতায় আসার পর যাদের আলস্য ধরেছে তাদের আলস্য ঝেড়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামীলীগ রাজপথের দল এবং রাজপথ থেকে গড়ে উঠা নেতৃত্ব। আমরা জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে রাজনীতির পথে নেমেছি, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিংবা শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য রাজনীতি করিনা, জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকুক কিংবা না থাকুক রাজপথে সবসময় থাকবে। আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। এজন্যই ওদের মাথাটা খারাপ।

তিনি বলেন, ১৪ বছর যে উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নের প্রচার করতে হবে নেতাকর্মীদের। ১৪ বছর আগের চিত্র আর এখনকার চিত্র মানুষকে দেখান। যদি মানুষকে উন্নয়নের চিত্র আমরা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি মানুষ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন জায়গায় ভোট দেয়ার সুযোগ নাই।

অগ্নি সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য মানুষের দাবি আছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাদের ধরতে মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। প্রয়োজনে হুকুমদাতাদেরও ধরতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে পরিকল্পনা করে বিএনপি জামাত এবং মিত্ররা আবারো নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন পাল্টা কর্মসূচি দেই নাই জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চোর ডাকাতরা যেমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, রাজনীতির নামে যারা অগ্নি সন্ত্রাস করেছে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, মানুষের হাত-পায়ের রগ কাটে তারাও যাতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেটার সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং জনগণকে সাথে নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করা সরকারি দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আছে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুছ গণি চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম রাশেদুল ইসলাম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভির হোসেন চৌধুরী তপু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদিকা বাসন্তি প্রভা পালিত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

কলকাতায় মারা গেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 8:35 pm
কলকাতায় মারা গেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৭টার কিছুক্ষণ পর রোটনের মৃত্যু হয়। তার লাশ দেশের আনার প্রস্তুতি চলছে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বিষয়টি জানিয়েছেন। ‍তিনি লেখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয়, আমার ভাই, সহযোদ্ধা, সুখ-দুঃখের সাথী,পরম স্নেহের মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন আমাদের মাঝে আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহস্পদ ও রাজপথের সহযোদ্ধাকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এত দ্রুত রোটন আমাদের মাঝে নেই ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে।

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন।

ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।

চট্টগ্রামে প্রথমবার জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:56 pm
চট্টগ্রামে প্রথমবার জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার উদ্বোধন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন বলে জানিয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ আয়োজিত ‘শুভ মহালয়া ২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাঁর এই অংশগ্রহণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করলেও এত বড় পরিসরে মহালয়ার আয়োজন দেখার সুযোগ তাঁর আগে হয়নি। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে এই আয়োজন তাঁকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের গর্ব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ, যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী নটু চৌধুরীসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা এবং থানা পর্যায়ের নেতারা।

আয়োজকদের সঙ্গে পৃথক কথোপকথনে জানা যায়, তাঁদের জানামতে, এর আগে চট্টগ্রামের কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেননি। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি ও সহযোগিতার আশ্বাসে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা জানান, জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আন্তরিক আচরণ ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

তবে চট্টগ্রামে এর আগে কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করলেই উৎসব সফল হয় না। দর্শনার্থীরা কতটা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল যাতায়াত ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান ও সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উৎসবে আসা প্রত্যেকে যেন সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দময় স্মৃতি মানুষের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়। তাই আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি জানান, পূজার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা হয়েছে। সরকার এবারের উৎসবের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি হতে পারে, এমন বিবেচনায় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, শনিবার তিনি হাটহাজারীর একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। অন্যান্য মণ্ডপের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলেমিশে বসবাস বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

পরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 6:17 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শহরকে নিজের শহর হিসেবে মনে করে এর সম্পদ, পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জলাবদ্ধতাসহ নগরীর কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড.কিসিঞ্জার চাকমা।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই শহর শুধু আমার শহর নয়। এই শহরে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন, আমরা আছি এবং আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে বসবাস করবে। আমরা যতদিন পর্যন্ত মনে করতে না পারব যে এই শহর আমার, ততদিন সত্যিকার অর্থে শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব হবে না। শহরের প্রতি এই মালিকানাবোধ ও দায়িত্ববোধ প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু শুধু অবকাঠামোগত প্রকল্প দিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, নালা-নর্দমায় বর্জ্য না ফেলা এবং পানি চলাচলের পথ দখল বা বাধাগ্রস্ত না করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো উদ্যোগই পুরোপুরি সফল হবে না।

মেয়র আরও বলেন, আমরা অনেক সময় কোনো অনিয়ম দেখলে নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও আমাদের দায়িত্ব। গতকাল বাংলাদেশের প্রথম ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক পরিদর্শন করেছি। আজ সেখানে একটি লরি রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি আমাদের নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয়? কেউ যদি সাইকেল ট্র্যাক দখল করে, ফুটপাত দখল করে বা নগরীর কোনো স্থাপনা নষ্ট করে, তাহলে শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনকে দোষারোপ না করে নাগরিকদেরও প্রতিবাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য নয়। কিন্তু আমরা নিজেরাই ফুটপাত দখল করে গাড়ি রাখছি, আবার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সমালোচনা করছি। এভাবে একটি শহরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিতে হবে, তেমনি নাগরিকদেরও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

মেয়র বলেন, শুধু সচেতনতার কথা বললেই হবে না, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যখন দেখবে কোনো অনিয়মের জন্য জরিমানা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন অন্যরাও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হবে। গণসচেতনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ ও দৃশ্যমান জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপন করেছে। কিন্তু অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। নগরীর কোনো সম্পদ চুরি হতে দেখলে সেটিকে নিজের সম্পদ মনে করে নাগরিকদের প্রতিবাদ করতে হবে। একইভাবে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছ, স্থাপনা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করলে বা নিয়ে গেলে সেটিও প্রতিরোধ করা নাগরিকদের দায়িত্ব। কারণ এসব সম্পদ জনগণের টাকায় তৈরি; এগুলোর ওপর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে গ্রিন, ক্লিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে কাজ করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী তার পরিবারকে সচেতন করতে পারে, পরিবার থেকে সেই সচেতনতা সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এভাবেই একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধীরে ধীরে সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২ লাখ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়রের নির্দেশনায় গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে উপদেষ্টাদের পরামর্শে ১০৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ, প্রচার অভিযান, বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং গ্রিন অ্যাম্বাসেডর ঘোষণাসহ সাত দফা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে সপ্তাহের পাঁচ দিন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার শপথ পাঠ, প্রতি মাসে দুইবার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতি দুই মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তার পরিবারে পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবক, অভিভাবকের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নগরীর খাল, নালা, ড্রেন ও জলপ্রবাহের পথ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না; নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু সমালোচনা নয়, ইতিবাচক কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে, নিজেরাও আইন মেনে চলতে হবে এবং অন্যদের আইন মানতে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই আমরা সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা,চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল আলম কচি এবং থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক ওভিক ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হক। সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রোমিলা বড়ুয়া।