জিডিতে ভরপুর থানার রেজিষ্টার
জিডির তদন্ত করেনা পুলিশ
তদন্ত না থাকায় অপরাধ বাড়ছে
গাড়ি, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ‘চুরিকে’ থানার জিডিতে হারানো লিখতে বাধ্য করে পুলিশ। এমন অভিযোগ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৬টি থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারদের বিরুদ্ধে। আবার কোন ঘটনার বিরুদ্ধে থানায় সাজানো জিডি লিপিবদ্ধের ঘটনাও ঘটছে। এতে পুলিশ অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ জিডি পুলিশ কখনোই খতিয়ে দেখে না বলে চাউর আছে। নিজেদের দায়িত্বকে এড়িয়ে যেতেই মামলা বা এজাহারের পরিবর্তে জিডি নিতে সক্রিয় থাকে থানা পুলিশ। তবে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আবার কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ অভিযোগকারীকে অপরাধীদের সংখ্যাভেদে ও বিশ্লে¬ষণে চুরির মামলায় ফেলে দিয়ে পুলিশ দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করে। কারণ এমন ঘটনায় তদন্তে ঢিলেমী দেয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারকৃতদের হাজত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসারও একটা সুযোগ করে দেয় পুলিশ এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সিএমপির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জিডি হচ্ছে অধর্তব্য অপরাধ। জিডিকে পুলিশ গুরুত্ব দেয় না। কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে শত জিডি হলেও লাভ নেই। জিডির মাধ্যমে অপরাধীকে উল্টো ছাড় দেয়া হয়। সিএমপির বা থানার হিসেবে অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০টি জিডি হচ্ছে। জিডির কপি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অভিযোগকারীর সামনেই তদন্ত কারার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু দুয়েকদিন পরে এগুলো ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তার টেবিলের ডেক্সে। ধর্তব্য অপরাধ হলে নিয়মিত মামলা করতে হয়। তবে মামলার হিসেব নিকেশ ঊর্ধ্বর্তনকে বুঝিয়ে দিতে হয়। সেক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা পর্যায়ে তদন্তের নিয়ম থাকলেও মামলা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে নোটিশ করার মাধ্যমে সমাধা করার চেষ্টা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, পকেটমারের কবলে পড়ে মোবাইল খোয়া গেলে সেটিও নথিভূক্ত হচ্ছে হারানো বলেই পুলিশের জিডিতে। মোটর সাইকেল চুরি হলে পুলিশ পক্ষ থেকে হারানোর জিডি গ্রহণ করতে গেলেই কৌতুহল সৃষ্টি হয় ক্ষতিগ্রস্তের। পুলিশের দায়িত্ব চোর, ডাকাত ও ছিনতাইকারীকে খুঁজে বের করা। কিন্তু পুলিশ সে দায়িত্ব এড়াতেই হারানো জিডি গ্রহণ করে। বস্তুতঃ ক্ষুদ্র আয়তনের জিনিসই মানুষের কাছ থেকে হারাতে পারে। কিন্তু, গাড়ি চুরি হলে হারানো জিডি গ্রহণ করা প্রশ্নবিদ্ধ। চুরিকে কে হারানো লিখা আইনের কাছে বেমানান এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের । এতে জিডি গ্রহণ করে পুলিশ অপরাধীদের আষ্কারা দিচ্ছে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ।
এদিকে, ডাকাতির মামলা হতে হলে পুলিশের হিসেব অনুযায়ী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মালামাল লুটে নিতে হবে। কিন্তু কারও অজান্তে বা ঘুমন্ত অবস্থায় গ্রিল কেটেও যদি ডাকাত বা সন্ত্রাসীরা ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে যায় পুলিশ এটিকে চুরি হিসেবেই দেখায়। এক্ষেত্রে ডাকাতির মামলায় কমপক্ষে ৫ সদস্যকে দেখাতে হবে। অভিযোগকারী তার বর্ণনায় চারজনকে গৃহে প্রবেশের কথা বললেও ঘরের বাইরে থাকা অন্য সদস্যদের বিষয়ে না বললে সেক্ষেত্রে চুরি হিসেবে এজাহার নথিভুক্ত হয়। এক্ষেত্রেও পুলিশ অপরাধীদের বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের নাম না জানলে ক্ষতিগ্রস্থদের জিডি করার পরামর্শ দেন এমনকি এ জিডির প্রেক্ষিতে বা সন্দেহজনকভাবে এলাকার কাউকে চিহ্নিত করতে পারলে তখন মামলা নেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দেয় ডিউটি অফিসার। পুলিশের এ ধরনের কর্মকান্ড মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।
পুলিশের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, যে কোন থানায় কোন ভুক্তভোগী গেলেই তাকে প্রাধান্য দেয়ার কথা কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারের। ক্ষতিগ্রস্তের কথা শুনে সে অনুযায়ী জিডি কিংবা মামলা রুজুর পরামর্শও কর্তব্যরত পুলিশের কাছ থেকে পাওয়ার কথা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির। পুলিশের এ সিটিজেন চার্টার সিএমপির প্রত্যেকটি থানায় ঝুলানো থাকলেও এর ১০ ভাগও কার্যকর হয় না ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে।
নগরীর থানাগুলোতে প্রতিমাসেই ভুক্তভোগীরা মামলা দায়ের করছেন। মাস শেষে উর্ধতন কর্মকর্তারা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে মামলার রিপোর্ট জানতে চাইলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কর্মকর্তারা ধর্তব্য অপরাধের হিসেব বুঝিয়ে দিতে হয়। এক্ষেত্রে দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার কোন সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘদিন তদন্তবিহীন অবস্থায় মামলা পড়ে থাকলে সেক্ষেত্রেও অপরাধীরা পুনরায় ক্ষতিগ্রস্থদের উপর হামলা চালানোর আশঙ্কা থাকে। দুয়েকবার তদন্ত হলেই অপরাধীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয় বলে জানালেন সিএমপির আরেক কর্মকর্তা।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন