সাফারি পার্কে টুম্পা জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ১৫ বছরের টুম্পা
কক্সবাজারের চকরিয়াস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রাণী মৃত্যু ও নিখোঁজ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বার্ধক্যজনিত ও নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে প্রাণী। সবশেষ চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মারা যায় ১৬ বছর বয়সী সিংহ রাসেল। সিংহটি এনাপ্লাজমা ও বিউবমিয়া স্পিসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। একই রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে রাসেলের বোন ১৫ বছর বয়সী সিংহী টুম্পা। হরিণ নিখোঁজ হচ্ছে অরক্ষিত সীমানার ২১টি পয়েন্ট দিয়ে।
জানা গেছে, সাফারি পার্কে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ বছরে তিনটি সিংহ ও দুটি হাতি মারা যায়। এরমধ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর বার্ধক্যজনতি রোগ ও পিত্তথলিতে আড়াই কেজি ওজনের পাথর হওয়ায় মারা যায় ৮৬ বছর বয়সী হাতি রঙমালা। গত ২৮ নভেম্বর সৈকত বাহাদুর নামে ৩২ বছর বয়সী আরেকটি হাতি হৃদরোগে মারা যায়। বার্ধক্যজনিত রোগে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মারা যায় ২২ বছর বয়সী সিংহ সোহেল। এরপর ১০ বছর ৮ মাস বয়সী সিংহী নদী ফিলাইন লিউকিমিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের ২২ এপ্রিল মারা যায়। এদিকে একই সময়ে পার্কে উন্মুক্ত বিচরণরত প্রায় ৪০০ হরিণের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছে ৩০-৪০টি।
হরিণ নিখোঁজের ব্যাপারে সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৯০০ হেক্টর বিশিষ্ট সাফারি পার্কের বাউন্ডারি ওয়ালের ২১টি পয়েন্ট এখনো অরক্ষিত। ওই স্থান দিয়ে পার্কের হরিণ নিকটস্থ জঙ্গলে বের হলে ওৎ পেতে থাকা শিকারির খপ্পরে পড়ে আর পার্কে ফিরে আসতে পারে না। তবে কতটি হরিণ নিখোঁজ রয়েছে তা জানা নেই। পার্কে অসংখ্য হরিণ রয়েছে। গণনার ব্যবস্থা থাকলে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা যেত।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ১-৪৫ বছর বয়সী ৪টি হাতি পার্কে রয়েছে। অসুস্থসহ তিনটি সিংহী ও একটি সিংহ আছে সাফারি পার্কে। অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীগুলো রয়েছে সুস্থ-সবল। পশু পাখিগুলোর নিয়মিত দেখভালসহ পর্যাপ্ত খাদ্য দেওয়া হচ্ছে।
সিংহ ও হাতির মৃত্যুর ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর আগে সুস্থ করে তুলতে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল। এরপরও বার্ধক্য এবং জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচটি প্রাণী মারা যায়। চিকিৎসাধীন রয়েছে মৃত রাসেলের বোন ১৫ বছর বয়সী সিংহী টুম্পা।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন