৯৯৯ এ কলের পর পুলিশ ম্যানেজ
পাহাড় কাটায় জিরো টলারেন্স
সরকারী আমলারাও পাহাড় কাটাচ্ছে
পাহাড় কাটায় জিরো টলারেন্স
পাহাড় কাটায় জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের বর্তমান ডিস্ট্রিক কমিশনার(ডিসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রেকর্ড অনুযায়ী গত তিন বছরে পাহাড় কাটা বন্ধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি। এই সার্কেলের সাবেক সহকারী কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম এবং বর্তমান সহকারী কমিশনার উমর ফারুকের প্রতিবন্ধকতায় পাহাড়খেকোরা অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে আকবরশাহ এলাকায়।
অভিযোগ রয়েছে, লট-৯ পাহাড়তলী মৌজায় বিএস ৭৮ ও ৭৯ পরিত্যক্ত দাগে সম্পত্তির পাহাড় ও টিলা কেটে বিলীন করেছে স্থানীয় মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পরিত্যক্ত জায়গায় গত বছরের ৭ জুন টিলা কেটে স্থাপনা নিমার্ণের অভিযোগ উঠে এই ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারী সেবা ৯৯৯ এর কল করার পর ঘটনাস্থলে আকবরশাহ পুলিশ প্রমাণ পেয়েও অনৈতিক লেনদেনে ম্যানেজ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরপর টানা ১৫দিন পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পাহাড়খেকোদের ঘর বানাতে সাহায্য করেছে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সময়ের কাগজের বিশেষ প্রতিনিধিকে বলেন, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। জামিনযোগ্য ধারায় অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা না করে অ-জামিনযোগ্য ধারা অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। এমন ঘটনায় নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও পরের দিন আবারো একই অবস্থানে অবৈধরা। অন্য ডিপার্টমেন্টের কাজ করতে গিয়ে নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটরা জেলা প্রশাসনের কাজ করার সময় পাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি সময়ের কাগজ প্রতিনিধিকে বলেন, বেলতলী ঘোনায় প্রত্যক্ষভাবে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাহজাহানকে(৪০) ৭ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি এস্কেভেটর। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা গেলেই অপরাধ হ্রাস পাবে।
এ ব্যাপারে আকবরশাহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সময়ের কাগজ প্রতিনিধিকে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন। আমাদের কাছে কোন এজাহার আসেনি। পরিবেশ অধিদফতর থেকেও কোন এজাহারের কপি এখনো পাইনি। তবে এজাহার দিকে কি দিবে না তাও জানিনা।
এদিকে, গত মাসখানেক যাবৎ আকবরশাহস্থ বেলতলী ঘোনায় পাহাড় কাটার বিষয়ে পুলিশের কাছে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। আবার পুলিশের টহলটিমও বেশ কয়েকবার পাহাড় কাটার স্থলে গিয়েছে এমন অভিযোগ সচেতন নাগরিকদের। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমের হস্তক্ষেপ থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষ কিছু বলার সাহস পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের রেকর্ড অনুযায়ী অগ্রণী ব্যংক অফিসার্স কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির নামে লট-৯ পাহাড়তলী মৌজায় পাহাড়টি মোট প্রায় ১১ একর জায়গায় ছিল।
আরো অভিযোগ রয়েছে, ফারুক চৌধুরী মাঠ সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারেই নয় এক্কেবারে দিনের বেলাতেই মাসের পর মাস পাহাড় কেটেছে এমন তথ্যও পুলিশের জানা নেই। পুলিশকে তথ্য দিলেও অনৈতিক কারনে তা খতিয়ে দেখেনা আকবরশাহ থানা পুলিশ। পরিবেশ ভবনের সামনেই সরকারী কর্মকতার্রা পাহাড় কেটে প্লট ও ফ্ল্যাট তৈরী করলেও পরিবেশ কর্মকতার্রা ও পুলিশ অদৃশ্য কারনে নীরব রয়েছে। এদিকে, কাট্টলী ভূমি সার্কেলের সহকারী কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদফতর বেলতলী ঘোনার ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন