বিভিন্ন স্পট চষে বেড়ানো নারী
বসন্তে আসক্ত রিক্সাওয়ালী
ভালোবাসার জুটিই যেন যাত্রী
রিক্সাওয়ালী
সকাল সাতটা বাজে মাত্র। ঠিকমতো সূর্যটাও ওঠেনি। ভালবাসার জুটিগুলোকে নগরী ঘোরাতে নেমেছে এক হতদরিদ্র রিক্সাওয়ালী। তাঁর নাম জেসমিন আক্তার (৪৫)। বসন্ত এসে গেছে এই রমণীর মনেও। তাই আট দশটা তরুণীর মতোই মাথায় ফুলের মালা,খোঁপায় সাদা ফুল আর লাল পাড়ের হলুদ শাড়ী পড়েই নেমেছেন তিনিও। রিক্সার সিটের নিচে মেমোরী কার্ডের স্পীকার লাগিয়ে ধুমছে বসন্তের গান বাজিয়ে প্রেমিক যুগল খুঁজছেন তিনি। রিক্সায় চড়িয়ে বিভিন্ন স্পটে নিয়ে যাবেন এমন বাসনাই তাঁর বিশ্ব ভালবাসা দিবসে। তাই বাসন্তী সাজে নিজেকেও রাঙ্গিয়েছেন মঙ্গলবার ভালোবাসা দিবসে।
ভালোবাসার দিনে জুটিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভালোবাসা শুধু পরিবারক কেন্দ্রিক নয়, বিশ্বময় ভালোবাসার টানে চলছে। কোন না কোনভাবে ভালোলাগা থেকেই ভালোবাসার উৎপত্তি। আর এ ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে অপরিচিতরাই পরিচিত হয়ে উঠছে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে। পারিবারিকভাবে মায়ের প্রতি ছেলের, ছেলের প্রতি মায়ের, বাবার প্রতি পরিবারের, মেয়ের প্রতি বাবা-মায়ের আর ভাই বোনের যে গভীর সম্পর্ক সে ভালোবাসার দিনগুলো এখন মুষ্টিমেয় কিছু পরিবেশের কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। চলে এসেছে আধুনিকতার ছোবলে আর ফেইসবুকের আদলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোবাইলের টাচ স্কীনে। তবে যাদের মোবাইলে টাচ স্কীন নেই তারাও কিন্তু ভালোবাসার পংক্তিগুলো একটু কষ্ট হলেও ম্যানুয়েল ফোন থেকেই স্থানান্তর করছে ভালোবাসার টানে।
কথা বলে জানা গেল, একসময় রিক্সার প্যাডেল মেরে আয়ের পথটা সুগম করলেও এখন আর এতো কষ্ট করতে হয় না। ডিজিটালের এই যুগে ব্যাটারী চালিত রিক্সাই আয়ের অন্যতম পথ। সিআরবি আর ডিসি হিল কোনটাই বাদ নেই তাঁর। এদিক ওদিক ঘুরে আর গুণগুণ গান গেয়েও আকর্ষণ করছেন ভালবাসায় ভরা যাত্রীদের মন।
নগরীর সিআরবি খ্যাত শিরীষতলা স্পটের পাশেই কথা হয়েছে বাসন্তী সাজের এ নারীর সঙ্গে। তিনি তিন ছেলের জননী। কুমিল্লার চান্দিনার অঁজপাড়া গাঁয়ে তাঁর বাড়ী। জন্মদাতা মায়ের খবর নেয়না ছেলেরা । তাই ভরণপোষনের টাকা নিজেকেই অর্জন করতে হয়। আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন রিক্সাকে। বছর দুয়েক আগেও তিনি চট্টগ্রামের ঝাউতলা এলাাকায় প্যাডেল রিক্সাই চালাতেন। আর এখন ব্যাটারী চালিত রিক্সা দিয়েই প্রতিদিন ৫/৬ শ’ টাকা রোজগার করেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরেই স্বামী পরিত্যক্তা এই কর্মঠ নারী নিজের টানেই নিজেকে স্বাবলম্বী করেছেন।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আবেগঘন মুহূর্ত আর স্মৃতি নিয়ে জমে উঠেছিল মঙ্গলবার সকাল থেকে সিআরবির শিরিষতলাসহ পুরনো নগরীর নান্দনিক স্পটগুলো। এছাড়াও পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুসহ নগরীর বিভিন্ন হোটেল মোটেল রেস্তেঁারা এবং মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোও ছিল জমজমাট। তবে এ জমজমাট পরিবেশে রাজসিক আয়োজনে যারা অংশ নিয়েছে তাদের বেশিরভাগই ছিল তরুণ তরুণী।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন