চকরিয়ায় শেকড় দিয়ে তৈরি করলেন ‘মানচিত্র’!
চকরিয়ায় নিপুন হাতে গাছের শেকড় দিয়ে তৈরি করলেন দেশের 'মানচিত্র'!
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মাঝেরফাঁড়ি ব্রিজ এলাকায় কাঠমেস্ত্রী আজিজুর রহমান (৫৬) গাছের পরিত্যক্ত শিকড় দিয়ে বানালেন স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র। গত মঙ্গলবার সরেজমিন গেলে দেখা যায়, পুরো একটি গাছের শেকড়কে কেটে তিনি এ মানচিত্রটি তৈরি করেছেন।
আজিজুর বলেন, শৈল্পিক কাজ হওয়াতে প্রতিটি আসবাবপত্র বানাতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগে। এছাড়াও সেগুন, গর্জন ও চাপালিশগাছের শিকড় থেকে আসবাবপত্র বানানো যায়। সেগুন ও গর্জনগাছের শিকড়ে বানানো আসবাবপত্রের দাম বেশি পড়ে। আর বয়সী গাছের শিকড়ে আসবাবপত্র ভালো হয়। একেকটি শিকড় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় নিতে হয়। মাঝেমধ্যে আমি নিজেই বেরিয়ে যায় শেকড় সংগ্রহের কাজে। অনেকেই আমার কাজ দেখতে আসে। কিন্তু যাঁরা শৌখিন মানুষ, তাঁরা এ আসবাব কিনে নেন। বছরে পাঁচ থেকে ছয়টি আসবাব বিক্রি করে ৫-৬ লাখ টাকা আয় করা হয়।
আজিজুর রহমানের কাছে সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন কী না জানতে চাইলে তিনি এখনো কোন ধরনের সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়নি বলে জানান এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা তার শিল্পকর্ম পরিদর্শন করার পর অনেকে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে গেলেও হয়নি কোন অগ্রগতি। নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে আজিজুর রহমান আরো বলেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে একটি কারখানা করার স্বপ্ন আছে তাঁর।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি বসতঘরের আঙিনায় বসে আসবাবপত্র তৈরির কাজ করছেন তিনি। উঠানের আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে কিছু গাছের শেকড়।আজিজুর রহমান একাই এসব আসবাবপত্র তৈরির কাজ করেন। তাঁর নেই কোনো কর্মচারী। শেকড়গুলো সংগ্রহ করে সেগুলোর আকার-আকৃতি বুঝে কেটেছেঁটে চেহারা বদলে দিয়ে পরিণত করা হয় শৈল্পিক আসবাবে। একটি আসবাব বানাতে শুরুতে এসব শেকড়ের অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া হয়। পরে বার্নিশ ও ফিনিশিং দিয়ে ব্যবহারোপযোগী ও দৃষ্টিনন্দন করা হয়।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন