খুঁজুন
, ,

হাইকোর্টের নির্দেশে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন ছাত্রলীগ নেত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 17 February, 2023, 10:29 am
হাইকোর্টের নির্দেশে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন ছাত্রলীগ নেত্রী

নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হল ছেড়েছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগী তাবাসসুম।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তারা দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল ছেড়ে চলে যান। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম তাদের হল ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতনকারী দুজনকে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখতে বলা হয়। আর নির্যাতনের কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়ে থাকলে বিটিআরসি যেন তা দ্রুত অপসারণ করে, সে নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদেশের অনুলিপি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে এ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, জেলা জজ মনোনীত একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপককে রাখতে বলা হয়েছে। কমিটি গঠনের সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রুলে ইবির ছাত্রী হলে শিক্ষার্থী নির্যাতন বন্ধে ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, ইবির উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, হল প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ইবির এক ছাত্রীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় গত বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মহসীন। পরে আদালত এ ব্যাপারে লিখিত আবেদন জমা দিতে বললে ওই দিনই তিনি রিট আবেদন করেন। গতকাল আদালতে গাজী মো. মহসীন নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

আইনজীবী গাজী মো. মহসীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা ছাড়াও ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতনকারী দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখতে বলা হয়েছে। আর নির্যাতনের কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়ে থাকলে বিটিআরসি যেন তা দ্রুত অপসারণ করে সে নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পাশাপাশি আদালত এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়েছে, ইবিতে ভর্তির কয়েক দিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন এক ছাত্রী। ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের এ ঘটনায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম রাত ৮টায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রজাপতি-২ রুমে যেতে বলেন। অসুস্থ থাকায় সেদিন তিনি যেতে পারেননি। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তাবাসসুম। ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম দফায় তাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। তবে হলের প্রভোস্টের সহযোগিতায় তখন সেটি সম্ভব হয়নি। পর দিন ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ ৭ থেকে ৮ জন মিলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে গণরুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নির্দেশনা পেয়ে আমি তাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেই। প্রক্টরের সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা সন্ধ্যার পরই হল ছেড়ে চলে যান।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি অভিযুক্ত দুজনকে হল থেকে চলে যাওয়ার বিষয়ে হল প্রভোস্টকে নির্দেশ দেই। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রীর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ইবি থানার ওসিকে বলেছি। বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয়টি দেখাশোনা করার জন্য আইন প্রশাসককে বলা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরাকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বিষয়টি জানিয়েছেন।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:32 am
চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

দুই বছর আগেই স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশের দক্ষিণের জেলা ফেনী। ওই সময় সেখানকার বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এবার সেই কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো একযোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) থেকে বন্যাদুর্গত অঞ্চলে গিয়ে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তরুণরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনীর বন্যায় দেশবাসী সহায়তা করায় সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যার্তদের সহযোগিতায় জেলার প্রায় সব উপজেলায় পৃথক পৃথক ত্রাণ কর্মসূচি চলছে। স্বেচ্ছাসেবকরা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। বিভিন্ন টিমে ফেনী থেকে পাঠানো হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, ওষুধ ও পানিসহ বন্যার্তদের জন্য নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

রোববার (১২ জুলাই) ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারকে আর্থিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— তারুণ্যের বন্ধন, পরিবর্তন, এফবিডিএ, গ্রিন ফোকাস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, লাইফ ফর হিউম্যান ফেনী, মধুই ফাউন্ডেশন, পশ্চিম সুলাখালী যুব সমাজ কল্যাণ সংঘ (প্রত্যয় ব্লাড ডোনার ক্লাব), একতা সামাজিক সংগঠন, জি.ভা. সমাজকল্যাণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, যুবশক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (মুন্সীরহাট, ফুলগাজী), ইলামিত্র যুব মহিলা সমাজকল্যাণ সংস্থা, ফেনী, নেয়ামতপুর ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাব, রক্তকণিকা, আজগর, প্রত্যাশা ক্লাব (মুন্সীরহাট), আশার আলো ফাউন্ডেশন, রিভার ডেল্টা ডিএক্স ক্লাব ফেনী, উম্মাহ ব্লাড ডোনেশন ক্লাব, উচ্ছ্বাস (কেএমহাট, ফেনী সদর), হিউম্যানিটি ইজ লাইফ, এফডিএ, ফেনী ওয়েলফেয়ার ব্লাড ফাইটার্স, আমাদের সমাজ আমাদের পরিবার এবং পাঁচগাছিয়া ব্লাড ডোনেট ক্লাব ফেনীসহ অন্যান্য সংগঠন।

এছাড়া সাতবাড়িয়া মানবিক ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাব, ফেনী জেলা ছাত্র ফোরাম, জামেয়া, আমাদের ফেনী ব্লাড গ্রুপ, আল ইসার সোসাইটি, আল হুদা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, নাইনটিন স্কোয়াড, আমরা মোল্লা তাকিয়া পরিবার, ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনী, এইচডিএফবি ফাউন্ডেশন, দাগনভূঞা আল আমিন সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই এই মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন।

ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকার অন্তত তিন শতাধিক মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, মোমবাতি এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের প্রতিনিধি নিশাদ আদনান বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ফেনীর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মানবিক সহায়তা ও ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো ভুলতে পারি না। চট্টগ্রামের মানুষ দুর্যোগের মুখে পড়েছেন। সেই দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

আরেক প্রতিনিধি খন্দকার সুমন বলেন, আমরা শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, ম্যাচ, স্যালাইন এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেবেন। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমাদের মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ওমর সিফাত নামে আরেক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করলেই হবে না, সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার সবসময় মানুষের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এর আগে গতকাল শনিবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনীর উদ্যোগে এবং ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস ও এইচডিএফবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সংগঠনটির প্রতিনিধিরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সংগঠনটির প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য স্যালাইন, শুকনো খাবার, মোমবাতিসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী প্যাকেজিং করা হয়েছে। এসব ত্রাণসামগ্রী প্রায় ২৫০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।

একই দিন চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সেবায় ছাগলনাইয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করে। দলটি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্র সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যাদুর্গত প্রায় ২২০টি পরিবারের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এ কার্যক্রমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সহযোগিতা করেছে। প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবারসহ জরুরি কিছু জিনিস নিয়ে আমরা বন্যা কবলিত এলাকায় যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে তিনদিন পানিবন্দি থাকার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:10 am
বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান এই তথ‍্য জানান।

তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখেও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জানমাল রক্ষায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ জেলায় সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, পানিবন্দী মানুষের উদ্ধার, গৃহপালিত পশু রক্ষা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

আশিকুজ্জামান জানান, কক্সবাজারের উখিয়া, সদর, পেকুয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও পাহাড়ধসের মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেও তারা সহযোগিতা করছেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা আরও জানান,এই সমন্বিত তৎপরতা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করছে না, বরং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 9:55 am
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গোলের দেখা পেল। হুলিয়ান আলভারেজের দর্শনীয় গোলে ২-১ এ এগিয়ে গেল তারা। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে বেশ দূর থেকে তার বাঁকানো শট দূরের পোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।

এর আগে আর্জেন্টিনা দশম মিনিটে এগিয়ে যায়। নবম মিনিটে কর্নার পায় তারা। একেবারে মাপা শট নেন মেসি। বেশ লম্বা সুইস ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল পেতে হলে অনেকদূর লাফিয়ে উঠতে হতো অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা ম্যানুয়েল আকানজির লাফিয়ে বল না পাওয়ার সুযোগটা কাজে আসে আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয় বার ঘেষে প্রবেশ করা বলে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগ তৈরি করেছিল সুইজারল্যান্ড। এম্বোলো ডান দিক থেকে একটি থ্রু বল পেয়ে গোলের দিকে ছুটে যান। তিনি বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে বলটি বাড়িয়ে দেন। এনদোয়ে দ্রুত গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লক করে তাকে আটকে দেন। তবে গোল হলেও সেটি হতো না। কারণ এর আগেই লাইন্সম্যান এম্বোলোর অফসাইডের কারণে পতাকা তুলেছিলেন।

সুইজারল্যান্ড আবার আক্রমণে ওঠে। বাঁ দিক থেকে বল ভেসে আসে বক্সের ভেতরে। এনদোয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে হেড করেন। কিন্তু মার্টিনেজ ডান দিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি আটকে দেন।

সুইস মিডফিল্ডার বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে এক জোরালো শট নেন। বলটি মার্টিনেজের সামনে এসে অদ্ভুতভাবে ড্রপ খেলেও তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে সেই গতিময় শটটি রুখে দেন।

লাল কার্ড পাওয়ার ঠিক আগে এনদোয়ে বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার এক ওয়ান-টু পাস খেলেন। ফিরতি পাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনদোয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন। কোণাকুনি শটে বলটি দূরের পোস্টে গিয়ে জড়ায়। সুইজারল্যান্ড দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে।

৬৭ মিনিটে গোল করে সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতা ফেরায়। ৫ মিনিট পর তারা ১০ জনের দলে পরিণত হলো। ৭২ মিনিটে তাদের ফরোয়ার্ড এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। ৬৯ মিনিটে রেফারি প্রাথমিকভাবে এম্বোলোকে ফাউল করার কারণে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআরে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শ হয়নি। ফাউলের অভিনয় করার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন সুইস ফরোয়ার্ড। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এম্বোলোকে।

জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজ একটি ক্রস রুখে দিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে স্লাইড করেন। গোলমুখের সামনে বল উড়ে যায়। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পান মেসি। ডানদিকে কাট করে তিনি দূরের পোস্ট দিয়ে শট নেন। কিন্তু বিপজ্জনকভাবে বল বাঁক খেয়ে পোস্টের পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে জটলার ভেতরে বল পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অ্যাক্রোবেটিক কিক কোবেল সহজেই আটকে দেন।

বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা লিড নিলেও শেষ অর্ধে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনাকে আর এগিয়ে যেতে দেয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে স্কোর ১-১। তাতে অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিট খেলা হবে।

৯৩ মিনিটে আলভারেজের সঙ্গে ওয়ান টু পাসে বক্সের মধ্যে বল পান আলমাদা। বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার শট কোবেল রুখে দেন। দুই মিনিট পর আবারও আলমাদার দুর্দান্ত একটি শট। বক্সের বাইরে থেকে তার শক্তিশালী শট কোবেলকে পরাস্ত করলেও সাইডনেটে লাগে।

দুই মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রুলারকে টেনে ধরে বুকড হন আলমাদা। পরের মিনিটে আকাঞ্জিকে ফাউল করে শাস্তি পান লাউতারো। সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।