শিশুদেরকে তাড়া করা হয়েছে জীবন ঝুঁকিতে
শহীদ মিনারের কপালে জোটেনি ফুল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও শিশুরা নেমেছে
শহীদ মিনারের কপালে জোটেনি ফুল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই ঝকঝকে তকতকে একটি শহীদ মিনার। ধবধবে সাদা টাইলসে গড়া এম শহীদ মিনারের কপালে জোটেনি একটি পুষ্পমাল্য বা একটি গোলাপ কিংবা গাঁদা ফুল। আগের দিন সোমবার ধুঁয়ে মুছে পরিপাটি করা হলেও মঙ্গলবার মহান একুশের প্রভাতে জোটেনি ফুল। একুশের প্রথম প্রহর থেকে সকাল ১০ টায় এ ছবি তোলা পর্যন্ত এই শহীদ মিনারের কপালে কোন ফুল জোটেনি। যা প্রত্যক্ষভাবে দেখে অনেকেই কৌতুহলী মনে তাকিয়ে ছিলেন।
চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে ইনিস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি নামক এই প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কোণে অনেক টাকা খরচ করেই প্রায় ৩ বছর আগে এই শহীদ মিনার নির্মিত হলেও আজ তা অবহেলিত। অথচ পার্শ¦বতীর্ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় প্রঙ্গণে মহান একুশ পালন করা হয়েছে অনেকটা জাকজমকপূর্ণভাবে। শুধুই মেডিকেল কলেজ বা নার্সিং কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরাই নয় আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও লাইন ধরে শহীদ মিনারে এসেছে একুশের বিভিন্ন ব্যানার,ফেস্টুন আর প্লেকার্ড নিয়ে।
প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, কালু শাহ(রঃ) মাজার এলাকার স্কুল কলেজের মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পায়ে হেটে অমর একুশের স্লোগান দিতে শোনা গেছে। সিটিগেট এলাকার প্রভাতী নামের একটি প্রাথমিক স্কুলের বা কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থীদের কাঁধে কাঁধে হাত রেখে সকাল সোয়া ১০ টার দিকে প্রভাত ফেরীর ব্যানারে নামানো হয়েছে মহাসড়কে। এসময় এসব শিশুদের অতিক্রিম করে যাচ্ছিল কাভার্ডভ্যান ও ২২ চাকার লরিসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ী। এক শিক্ষককে দেখা গেছে আতঙ্কে এক শিশুকে কোলে নিয়ে আগলে রাখতে।
৫২’র ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা অমান্য করে মায়ের ভাষা বাংলা চাই এই স্লোগানে রাস্তায় নেমে সালাম, বরকত ও রফিকসহ অনেকেই শহীদ হয়েছেন। সকল ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার কাকডাকা ভোর থেকেই ফুলে ফুলে সজ্জিত হয়েছে একেুশের দিনে। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে পালন করা হয় মাতৃভাষা দিবস। স্কুল কলেজ মাদ্রাসা অফিস আদালত এমনকি সর্বস্তরের মানুষ একটি গোলাপ বা গাঁদা ফুল নিয়ে হলেও শহীদ মিনারে গিয়েছে। জাতি ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই শোকার্ত অন্তত এই দিনটেতে।
এদিকে, শোকের এ দিনটিও যেন আানন্দে কাটাচ্ছে এদেশের মানুষ। মিলাদ মাহফিল করেও যদি আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হতো তাহলেও শহীদদের আত্মা শান্তি পেত। কিন্তু তরুণ তরুণী আর ছেলে বুড়ো সকলেই শহীদমিনারে কিছু সময় পার করার পর বিভিন্ন সাজে হাটে মাঠে আর ঘাটে দেখা গেছে জম্পেশ আড্ডায়। একুশের এই রঙচটা পোশাকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ফ’য়স লেকসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলোতে আনন্দে মাতোয়ারা ছিল সকালের কালো ব্যাজ লাগানো হাজারো নারী পুরুষ।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন