দুই হাজার লোকের বাসস্থান হচ্ছে
উপকূলীয়দের মাথাগোঁজার ঠাঁইয়ে নৌবাহিনী
খোলা আকাশের নিচে আর নয়
সমুদ্রে নিম্নচাপের কথা শুনলেই ৯১ সালের ঘুর্ণিঝড় আর জলোচ্ছাসের কথা মনে পড়ে উপকূলবাসীর। গ্রীষ্মের খররোদের মধ্যে যদি আকাশের চেহারাটা একটু মলিন হয়ে যায় তাহলেও আতঙ্ক কাজ করে সমুদ্র উপকূলে থাকা মানুষগুলোর মাঝে। আবহাওয়া অফিস যখন সমুদ্রের সতর্কবাতার্ শোনায় তখন উপকূলবাসীর কলিজা আর সঙ্গে না থাকার উপক্রম। যতবারই এদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে প্রবল বেগে ১০০ থেকে ১১০ মাইল বেগে ঘূণীর্ঝড় বয়ে গেছে ততোবারই মাথা গোঁজার ঠাঁইগুলো বিলীন হয়ে গেছে। আর তখন টিকে থাকার অস্তিত্ব থাকে না ওইসব মানুষগুলোর।
আরো জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত বছরের ২৯ নভেম্বর হতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এ ব্যারাক হাউজসমূহ নির্মাণের কাজ শুরু করে। পাশাপাশি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অধীনস্থ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় ৬০টি, ভোলা জেলার লালমোহন ও মনপুরা উপজেলায় ২২টি এবং চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় ২০৮টি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণ কার্যক্রম শেষ হলে আরও ১,৪৫০টি ভূমিহীন পরিবারের বাসস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় বাগেরহাট, ভোলা, নোয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ব্যারাক হাউজ নির্মাণ কাজ চলছে।
উপকূলবসীর এই মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু নিয়ে এখন কাজ করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। উপকূলবাসীর শেষ সম্বল ঘরটুকুতে শান্তিতে ঘুমাতে সরকার আশ্রায়ণ প্রকল্প চালু করেছে। যাতে মানুষের একটু মাথা গেঁাজার ঠাঁই হয়। এরই সূত্রধরে বুধবার কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ১৪টি ব্যারাক হাউজ হস্তান্তর করলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় উপকূলীয় এলাকার মানুষের থাকা খাওয়ার ঘরটুকুর প্রতি নজর দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আওতায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৪টি ব্যারাক হাউজ নির্মাণ করেছে। প্রতিটি ব্যারাক হাউজে ৫টি করে মোট ৭০টি ইউনিট রয়েছে। যার প্রতিটিতে একটি করে পরিবার থাকতে পারবে। প্রতিটি ব্যারাক হাউজে পৃথক পৃথক থাকা খাওয়ার কক্ষসহ স্বাস্থ্যসম্মত বাথুরুমের সুবিধা রয়েছে।
নৌবাহিনীর দফতর থেকে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার ঘটিভাঙ্গায় গৃহহীন ও ছিন্নমূল জনগণের জন্য সরকার আশ্রায়ণ প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এরই গতিধারায় নির্মিত হয়েছে ১৪টি ব্যারাক হাউজ। ৩মার্চ বুধবার স্থানীয় প্রশাসনের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ব্যারাক হাউজসমূহ স্থানীয় প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এ সময় নৌবাহিনীর প্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন