স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিনের সহযোগিতায়!
পটিয়ায় জবরদখল হচ্ছে রেলওয়ের ভূমি
জবরদখল হচ্ছে রেলওয়ের ভূমি
চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনের পটিয়া অংশে প্রতিদিনই প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে রেলওয়ের মূল্যবান জমি। রাতারাতি এতে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে কতিপয় রেলকর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রশ্ন উঠছে রেলওয়ের প্রকৌশল এবং এস্টেট বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে? দখল হওয়া জায়গায় রাতারাতি গড়ে তোলা হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। আর এসবের বিপরীতে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানেও বিরাজ করছে স্থবিরতা। ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলছেন জনবল ও অর্থ সংকটের কথা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি মাফিয়া চক্র রেলের মূল্যবান জায়গা গ্রাসের অপতৎপরতায় লিপ্ত। রেলভূমির বেআইনি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে অনেক অপরাধী চক্র। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদকসেবী ও মাদকের অবৈধ ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আস্তানাও হয়ে উঠেছে রেলভূমি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশল বিধি মতে, রেলপথের দু’ধারে খালি জায়গা থাকা আবশ্যক। কমপক্ষে ১৪.৩ ফুট এবং সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা খালি রাখতে হয় পাশে নিরাপদ দূরত্ব হিসেবে। এরমধ্যে কোনো স্থাপনা তৈরি করলে বিনা নোটিসে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। অথচ চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের পটিয়া অংশে দুপাশ ঘেঁষে শত শত স্থাপনা বিদ্যমান। জবরদখলকৃত জমি উদ্ধারে রেলের রয়েছেন বিভাগীয় এস্টেট অফিসার, সহকারী এস্টেট অফিসার, সার্কেল অফিসার কানুনগো। রেলভূমি রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত রয়েছে প্রকৌশল বিভাগ। এরপরও প্রতিনিয়ত বেদখল হচ্ছে ভূমি। এতে রেল কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে? রেল মন্ত্রণালয়ও বহুবার নির্দেশ দিয়েছে বেআইনি দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের। তবে উচ্ছেদ অভিযানের নামে নাটক হয়েছে কেবল।

রেলভূমি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের। অবৈধ দখলের বিষয়ে অবহিত করলে তখন উচ্ছেদ অভিযানের ব্যবস্থা নেয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। এই বিভাগটির রয়েছে জনবল সংকট, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট। ফলে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় স্থবিরতা বিরাজ করছে।
রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, অর্থ এবং জনবল সংকটে উচ্ছেদ অভিযান সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র ২৮ জন লোক রয়েছে এই বিভাগে। এর মধ্যে তিনজন অবসরে চলে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় মাঠ পর্যায়ে কোনো লোকই নেই।
পটিয়া রেল স্টেশন এলাকায় বিপুল রেলভূমি অবৈধ দখলের ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পূর্ব) সরদার শাহাদাত আলী জানান, ভূমি কেউ বেদখল করে নিলে তা জানানোর দায়িত্ব স্টেশন মাস্টারের। এ রকম কিছু অবহিত করা হলে সেটা ভূ-সম্পত্তি বিভাগকে জানানো হতো দখলমুক্ত করার জন্য। স্টেশন মাস্টার এমন কিছু জানাননি বলেও দাবি করেন প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক।
এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিনকে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেনননি।
সহকারী স্টেশন মাস্টার শামসুন্নাহার এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, রেলের জায়গায় অবৈধ দোকান সিএনজি স্টেশন এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। রাতের আঁধারে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া এসব স্থাপনা নির্মাণ করে জনভোগান্তি তৈরি করছে। আমরা এ-সব স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও পুনরায় এগুলো দখল করে নেয় অবৈধ কিছু ব্যক্তিরা। রেলের কর্মকর্তাদের সাথে দখলদারদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অবহিত করলে, তিনি কোনো কিছু বলতে রাজি হননি।
২৪ঘণ্টা.জেআর


আপনার মতামত লিখুন