খুঁজুন
, ,

বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের প্রতি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 26 December, 2019, 11:44 pm
বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের প্রতি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং শৃঙ্খলাকে সৈনিক জীবনের পাথেয় আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্রতী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে আপনাদের ওপর ন্যস্ত হচ্ছে দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদের সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে যশোরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমীতে ‘৭৬তম বাফা কোর্স’ এবং ‘ডিই-২০১৮’ কোর্স সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৯’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

১০৪ জন অফিসার ক্যাডেট এদিন কমিশন লাভ করেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার জন্য বিমান বাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনারা শপথ গ্রহণ করেছেন। কাজেই এটা হবে আপনাদের জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান ও প্রথম ব্রত।’

‘নিঃস্বার্থভাবে জনগণের পাশে থাকবেন এবং দেশের সেবা করবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা, যোগ করেন তিনি।
উন্নত চরিত্র এবং মানসিক শক্তি একজন বিমান সৈনিককে আদর্শ সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ মেনে চলবেন, চেইন অব কমান্ড বজায় রাখবেন, অধস্তনদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। তাহলেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন- সততা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, অকৃত্রিম দেশপ্রেমের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাংলার আকাশ মুক্ত রাখার যে শপথ আজ আপনারা নিলেন- তার বাস্তবায়ন আপনারা সবসময় করে যাবেন।’

‘নব প্রজন্মের উদীয়মান কর্মকর্তা হিসেবে আজকের বিমান বাহিনীকে আপনারা নিয়ে যাবেন সফলতার শিখরে- এই আমার প্রত্যাশা’, যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত দিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিধি ও সম্ভাবনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে জাতির পিতা একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বিমান বাহিনী গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তিনি বলেন, জাতির পিতার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পরপরই বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয় সে সময়কার অত্যাধুনিক ‘মিগ-২১’ সুপারসনিক ফাইটার বিমানসহ পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিমান বাহিনীকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে এর উত্তরোত্তর উন্নতি সাধন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করি-যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন ধরনের বিমান, রাডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওভারহোলিং এর লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার।
তিনি বলেন, দেশের এভিয়েশন সেক্টরকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ^বিদ্যালয়’ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করে ফাইটার বিমানের ওভারহলিং করতে সক্ষম।
আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় বিমান বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধাদির উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের উপর গুরুত্ব প্রদান করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ক্যাডেটদের মৌলিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ককপিট সম্বলিত কমব্যাট প্রশিক্ষণ বিমান এবং পরিবহন প্রশিক্ষণ বিমানসহ হেলিকপ্টার সিমুলেটর স্থাপন করা হয়েছে।
বিমান বাহিনী একাডেমির জন্য অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি প্রশিক্ষিত ও আধুনিক বিমান বাহিনী গঠনে এ উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশা রাখি।’
কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের আজকের সাফল্যের পেছনে অভিভাবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বিশেষ দিনে আপনাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দোয়া করবেন আপনাদের সন্তানেরা যেন জাতির সামনে দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শের উদাহরণ হয়ে ওঠতে পারে।’
দেশের আর্থসামাজিব উন্নয়নের তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ভাবে আজ আমরা যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছি।
তিনি বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা যেখানে স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁরই আদর্শের পথ ধরে আমরা বাংলাদেশকে এখন উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করতে পেরেছি। কেননা, বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নীতিমালা গ্রহণ করে তার ভিত্তিতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা পালন করবো। কাজেই এই অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যদিয়ে আমাদের স্বাধীনতার পতাকা আরো সমুজ্জ্বল হবে।
শেখ হাসিনা দৃঢ় কন্ঠে বলেন, ‘বিশ্বের দরবারে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব-এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ক্যাডেটদের মাঝে ফ্লাইং ব্যাজ, বিভিন্ন সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ট্রফি এবং সম্মানসূচক তরবারি প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী ৭৬তম বাফা কোর্সে সার্বিকভাবে শীর্ষস্থান অর্জনকারী সার্জেন্ট মাহিম মালিককে সোর্ড অব অনার প্রদান করেন এবং ৭৬তম বাফা কোর্সের ফ্লাইং ট্রেনিংয়ে সার্বিকভাবে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ক্যাডেট অফিসার আহনাফ ফাহিমকে ‘বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ প্রদান করেন। ৭৬তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সার্বিকভাবে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ক্যাডেট অফিসার জেরিন তাসনিম ‘চিফ অব ফেয়ার স্টাফ ট্রফি’ লাভ করেন। ৭৬তম বাফা কোর্সে জেনারেল সার্ভিস ট্রেনিং-এ সার্বিকভাবে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ক্যাডেট অফিসার হাসান আলম ‘কমান্ডেন্ট ট্রফি’ লাভ করেন।
তিনি মনমুগ্ধকর রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন। তিনি বিমান বাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের ‘অ্যাপলেট পরিধান’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি এ উপলক্ষে একটি কেকও কাটেন।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদসবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 9:28 am
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, এম এস শাহীন ট্রাভেলস, আরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এম এস বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৪৯টি প্রতিষ্ঠান।

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 10:04 pm
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটদের নিয়ে ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে শরিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোট শরিকদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, স্বাক্ষর করেছে, তাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে করবে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, তাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আমার মনে হয়- এটা নিয়ে এখন আলোচনা না করলেও পারি। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ভিত্তিতে করবো।

গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলাম ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের নেতারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই মাসের একটি রক্তক্ষয়ী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবার সুযোগ পেয়েছি। আমরা আন্তরিকভাবে সেই সব শহীদদের স্মরণ করতে চাই, যারা তাদের জীবন দিয়ে, আহত হয়ে, চোখ হারিয়ে যারা আমাদের জন্য এই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যারা ছিলেন, যারা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর, তাদের নেতৃবৃন্দকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আজকে কথা বলার জন্য- তাদের একসাথে একটু সামান্য কিছু ডাল-ভাত খাওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। আমরা কেউ কারাগারে গেছি, কেউ মামলার মধ্যে পড়েছি, কেউ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে—এরকম অনেকেই আছে।

ফখরুল বলেন, আজকে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তারা কথা বলেছেন। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সরকার যে শুরুটা তার অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, এই ৫ মাসের মধ্যে সম্ভব হয়নি বিভিন্ন কাজের তাড়াহুড়ার জন্য বা কাজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব দলগুলোর সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু এর মধ্যে সরকার যে কাজগুলো করেছে, সেগুলো ছিল জনগণের একদম কাছাকাছি যাওয়ার কাজ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সরকারকে গুছিয়ে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটা তিনি শুরু করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কিন্তু কাজ শুরু করেছি। একেবারেই অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, লুট করে নিয়ে গেছে সব ব্যাংক, সব জায়গায় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তারা, সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছিল। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার প্রধানমন্ত্রী গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছেন। এ কথাগুলোই আজকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলেছেন।

তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি এরপরে প্রায়শই অর্থাৎ যতটা দ্রুত সম্ভব হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবেন। রাজনৈতিক দলগুলো আবারও কাজ করবে একসঙ্গে। সবচেয়ে বড় জিনিস তিনি বলেছেন, যে ৩১ দফা কর্মসূচি আমরা একসঙ্গে দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। তিনি এটাও আবারও বলেছেন যে, জুলাই সনদ-যেটা আমরা সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের ৫ মাস পরে একটা বড় ঘটনা, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসেছেন, কথা বলছেন এবং ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:50 pm
ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। জুলাই গণ আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই শহীদদের স্মৃতি শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির কোনো সুযোগ নেই। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

তিনি সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আবু সাঈদ সহ সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ সাবেক ছাত্রদল ফোরামের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এরপর এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। এই আয়োজন শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয়। এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যুত্থান নয়, বরং এটি গত ১৬ বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফল। এ আন্দোলনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই। এটি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলারই ফসল।

মেয়র বলেন, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখি, তা পূরণ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের এই আত্মদান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা ভবিষ্যতেও দেশপ্রেম ও জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, শহীদদের পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই দোয়া মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সেই দায়িত্বেরই অংশ। আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ছাত্রদল নেতা। তিনি সরকারি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আন্দোলন করেনি। বরং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার অংশগ্রহণের ইতিহাস সুদীর্ঘ।

আবু সুফিয়ান বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম নিজের রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিখে গেছেন। যত দিন দেশের মানুষের মননে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত থাকবে, শহীদ ওয়াসিম আকরাম তত দিন অমর হয়ে থাকবেন।

আবুল হাশেম বক্কর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আবু বক্কর সিকদার ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ইয়াকুব আলী সিফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এস কে খোদা তোতন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এস. এম আবুল ফয়েজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, খোরশেদুল আলম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, মোহাম্মদ আজম, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নুর হোসেন, জসিম উদ্দিন জিয়া, মো. শফি, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল, সামিয়াত আমিন জিসান, জহির উদ্দিন বাবর, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা এড. জসিম উদ্দিন হিমেল, আমজাদ হোসেন শাকিল, রেজাউল করিম, মো. ইউনুস, দিদারুল আলম, ঈমাম হোসেন আবির, বোরহানুল হক, মন্জুরুল আলম, মো. শোয়াইব, নুরুন্নবী বাদশা, মোজাম্মেল হক, মো. জাহেদ প্রমুখ।