খুঁজুন
, ,

প্রতিটি সংবাদ যেন হয় বস্তুনিষ্ঠ : নূর হাকিম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 March, 2023, 1:51 pm
প্রতিটি সংবাদ যেন হয় বস্তুনিষ্ঠ : নূর হাকিম

দৈনিক সকালের সময় সম্পাদক ও প্রকাশক মো. নূর হাকিম বলেছেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। আর সেই দায়িত্ব পালন করতে হলে প্রত্যেক সাংবাদিককেই পাঠকের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। কোনভাবেই ভুল তথ্য প্রকাশ করা যাবেনা। আমরা দ্রুত সংবাদ প্রকাশের পক্ষে নই, আমরা নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে দেশ ও জাতির কল্যানে কাজ করতে চাই। তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকের হৃদয়ে থাকতে চাই আজীবন। তাদের ভালোবাসাই হোক আমাদের শক্তি। তাই প্রতিটি সংবাদই যেন বস্তুনিষ্ঠ হয় আমি সেটাই প্রত্যাশা করব আমাদের প্রতিটি সাংবাদিকের কাছে।

গত শনিবার (১৮ মার্চ) নগরীর অভিজাত এশিয়ান এসআর হোটেলের হলরুমে চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস.এম.পিন্টুর সভাপতিত্বে দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আজ এমন একটি দিনে আমরা এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি যে, গত কাল (১৭ মার্চ) ছিল জাতির পিতার জন্মদিন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। আর এই মাসে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা দেশকে ভালোবেসে অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, আর যারা আমাদের মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন সেই অকুতোভয় বীর সৈনিকদের। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে নির্মম হত্যাাণ্ডের শিকার সকল শহীদদের। এই মাসের গুরত্ব তুলে ধরে বলেন জাতির পিতার জন্ম না হলে আমরা আজ পত্রিকার মালিক হতে পারতামনা। আর তারই কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে সঠিক তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের প্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা নিঃসংকোচে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে পারছি। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারছি।

নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে সম্পাদক নূর হাকিম বলেন, আমি একসময় একজন উপজেলা প্রতিনিধি ছিলাম, সেখান থেকে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের ভালোবাসায় আমি একটি পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পুরণ হয়েছে। পত্রিকাটি বর্তমানে আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পাঠকের ভালোবাসায় দেশের প্রথম সারিতেই জায়গা করে নিয়েছে। আমরা আশা করব এই সততা যেন সবসময় ধরে রাখতে পারি। পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠার মাত্র ৭ বছরে আমরা এগিয়েছি অনেকদুর। আমি বিশ্বাস করি এই পত্রিকার মালিক আমি নয়, আপনার সবাই মালিক, এটা আপনাদের পত্রিকা। সুতরাং আমি আশা করব এই পত্রিকার বদনাম হয় এমন কোন কাজ আপনারা করবেন না। আপনাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা খুব শীঘ্রই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করব। আমাদের চলার পথ আরো প্রশস্ত হবে। আপনারা জানেন বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাব কাটতে না কাটতেই ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থনীতির উপর একটা প্রভাব পড়েছে কিন্তু আমরা কোন প্রতিনিধিকে তা বুঝতে দেইনি। নিয়মিত পত্রিকা চালিয়ে যাচ্ছি ৮ পৃষ্ঠা থেকে ১২ পৃষ্ঠায় উন্নিত করেছি। আপনাদের মেধা ও শ্রমের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে  আমরা প্রমান করতে চাই যে শুধু চটকদার সংবাদ নয়, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমেও আমারা অনেকটা কঠিন পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছি।

আপনারা জানেন আমি বড় কোন শিল্পপতি নই, কোটি কোটি টাকা ভুর্তুকি দিয়ে পত্রিকা চালানোর সামর্থ আমার নেই। তবে এটাও সত্য যে, আপনাদের সকলের সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদের প্রচার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের পরিমানও বাড়বে। সুতরাং অচিরেই দৈনিক সকালের সময় পাঠকের প্রিয় পত্রিকা হয়ে উঠবে এবং ভুর্তুকি কাটিয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে। আপনাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি না থাকলে আমরাও আপনাদের সম্মানী বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক সকালের সময়ের মফস্বল সম্পাদক মো. নুর আলম বলেন, আপনারা প্রত্যেক প্রতিনিধিই ভালো মানের সাংবাদিক। আপনাদের বিচক্ষণতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সকালের সময় আজ পাঠকের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে। আমি এই পত্রিকায় আপনাদের সাথে কাজ করতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতে হবে। এই পত্রিকাটিকে আরো জনপ্রিয় করতে আমাদের সম্পাদক মহোদয় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা চাই সারাটা জীবন কাধে কাধ মিলিয়ে একটি পরিবার হয়ে পথ চলতে। আমরা সবাই সকালের সময় পরিবারের সদস্য হয়ে কাজ করি। সাফল্য আমাদের কাছে আসবেই।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক সকালের সময়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস.এম.পিন্টু বলেন, আপনাদের মতো বিচক্ষণ সাংবাদিকদের সাথে কাজ করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি বিশ্বাস করি আমাদের সম্পাদক মহোদয় আমাদের প্রতি যেমন আন্তরিক আপনারাও সেই আন্তরিকতার মুল্যায়ন করে, নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে কাজ করবেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকালের সময়কে আমরা সময়ের সেরা পত্রিকা হিসেবে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমরা আপনাদের কাছে নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ চাই। দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবেন। ভালো কাজগুলো বেশি করে প্রচার করবেন, যাতে অন্যরাও ভালো কাজে এগিয়ে আসার উৎসাহ পায়। দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণমুলক সংবাদ বেশি করে প্রচার করতে সহায়তা করবেন। সম্পর্ক ভালো বা খারাপ যাই হোক নিউজে যেন তার কোন প্রতিফলন না ঘটে এই বিষয়টি সকলে মাথায় রেখে কাজ করবেন। মনে রাখবেন আপনাদের একটা ভুল নিউজের কারনে অনেকের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। একটা প্রাণীও যেন আপনার ক্ষোভের শিকার না হয়।

চট্টগ্রাম অফিসে কর্মরত নিজস্ব প্রতিবেদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক সকালের সময়ের বিশেষ প্রতিনিধি মো. নুরুল আলম চৌধুরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. সেলিম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি শাহেদ ফেরদৌস হিরু, লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি মুহা. আলমগীর, চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি সুজন আহমেদ, বি.বাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি প্রবীর চৌধুরী রিপন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মো. সেলিমসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা প্রতিনিধিগণ।

Feb2
Feb2

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 3:12 pm
আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংখা প্রায় ৪ কোটি। এবার আপনার বলেন, আমরা এতোগুলো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? পারবে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আমরা এখানে থাকব।

একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন। কাজেই আসেন, আগামী ৩ মাস ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি, ডেঙ্গু যেসব কারণে হয়… ভাঙা-চোরা জিনিসপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, বিভিন্ন মাটির ভাঙা জিনিস পড়ে থাকে… সেখানে পানি জমে ডেঙ্গু এডিস মশা তৈরি হয়। কাজেই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারব। এই মাঠে আজকে আমরা যতগুলো মানুষ উপস্থিত রয়েছি, বিভিন্ন জেলায় (অনলাইনে যুক্ত) যারা মাঠে উপস্থিত রয়েছেন, সবাই যদি টিস্যু ও পানি খেয়ে বোতল মাঠে ফেলে দিই, কেউ কি আমাদের কিছু বলবে? বলবে না।

“কিন্তু আমাদের নিজেদের চোখে দেখতে কেমন লাগবে? যখন এই ময়লাগুলো জমা হয়ে বড় আকার হবে, সেখান থেকে রোগ-জীবাণু সৃষ্টি হবে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন তাতে আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি। কিন্তু আপনার আপনজন কিংবা প্রিয়জন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কাজেই আমরা নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। দেশকে সুস্থ রাখি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কাজটা খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। প্রতি সপ্তাহে আমরা যদি ১ ঘণ্টা সময় দিই, নিজেদের বাসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল পরিষ্কার করতে, তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো।

তারেক রহমান বলেন, যারা ময়লা-আবর্জনা করবে, আসুন তাদের আমরা নিরুসাহিত করি, তাদের বলি—‘যেখানে সেখানে ময়লা করবেন না’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন করি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 2:26 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার।”

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মসূচিটি চট্টগ্রাম মহানগরীতে সফলভাবে বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণে চসিকের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ, বিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা করেন।

সভা শেষে উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্ন ও মশক নিয়ন্ত্রণ ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন তিনি। ক্রাশ প্রোগ্রামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার ঔষধ ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তদারকি করেন মেয়র।

এসময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ কার্যক্রম সফল করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে৷

“আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পদক্ষেপ নিয়েছি৷ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে এ কার্যক্রম সফল করতে কাজ করবেন৷ ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা অন্যান্য সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করছি। ”

মেয়র আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য নগরীর প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, ফোম কিংবা ডাবের খোসা ফেলে রাখা যাবে না। এসব স্থানে সামান্য স্বচ্ছ পানি জমে থাকলেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। বাসার ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য সব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২ জন। তবে নগরীর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই শুধু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার দিকে নজর না দিয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মেয়র বলেন, বৃষ্টির পর নগরীর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। কারণ জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এ বিষয়ে নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

পরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামে একযোগে ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 2:15 pm
চট্টগ্রামে একযোগে ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান শুরু হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ঠেকাতে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না। হাসপাতালের শয্যা বাড়াতে পারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করতে পারি, চিকিৎসাসুবিধা দিতে পারি; কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।’

কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, স্কাউট, গার্ল গাইড, বিভিন্ন পরিবেশসচেতন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।

গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

এরপর বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা এখনো এ কার্যক্রমের আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেখানেও অভিযান চালানো হবে।

এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক কর্মশালায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক অভ্যাসে পরিণত করতে জেলাজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।